রাজপরীর দেশ: মাসিক কেন হয় মেয়েদের? আসল কারণ জানুন - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, 11 June 2018

রাজপরীর দেশ: মাসিক কেন হয় মেয়েদের? আসল কারণ জানুন




নারীই প্রকৃতি। নারী শরীর যে সৃষ্টির আধার। আর সেই শরীর প্রতি মাসে এক বার করে সৃষ্টির জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে। অপেক্ষায় থাকে এক রাজপুত্রের জন্য। সেই রাজপুত্র কবে আসবে সে জানে না।

অভিমানী রাজকন্যের অপেক্ষার কিন্তু শেষ হয়। প্রতি মাসে উন্মেষের ক্ষণে সে প্রস্তুত হয়, নিজেকে নানা আভরণে সাজায়। চায় বসুক স্বয়ম্বর সভা। অনেক স্পার্ম আসবে। কোটিতে কোটিতে। তার মধ্যে সেরার সেরাকে বেছে নেবে সে। সেই স্পার্মের সঙ্গে আলিঙ্গন করবে ডিম্বাণু নামে নারী শরীরের রাজকন্যেটি। একটি অপেক্ষার শেষে অপেক্ষা করে থাকে আরও একটি অপেক্ষা। সেরা শুক্রাণুর অপেক্ষায় প্রহর গোণে আর সৃষ্টির শুভ মুহূর্ত শেষ হওয়ার ক্ষণটিতেই নিজেকে শেষ করে দেয় ডিম্বানু। নিজের সবকিছু লন্ডভন্ড করে দেয়।

আর এই কাণ্ডে অনুঘটের কাজটি করে মানুষের মস্তিষ্কে থাকা পিটুইটারি নামে একটি গ্রন্থি‌। এই গ্রন্থি থেকেই রস ক্ষরিত হয়ে শরীরের অন্যান্য গ্রন্থিকে সক্রিয় করে তোলে।
চিকিৎসক অরুণকুমার মিত্রর ভাষায়— ‘‘যৌবনের প্রারম্ভে পিটুইটারিরই নিয়ন্ত্রণে মাসে একবার করে একটি ডিম্বকোষ ওভারি থেকে বেরিয়ে টিউব বেয়ে চলে যায় জরায়ুতে। ডিম্বকোষটি বেরিয়ে যাওয়ার পর ওভারিতে সৃষ্টি হয় একটি হলুদ রঙের কোষগ্রন্থি। এই হলুদ গ্রন্থি থেকে প্রোজেস্টেরন নামে আর একটি হরমোন নিঃসৃত হয়। ক্রমে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন-এর যুক্ত প্রক্রিয়ায় জরায়ু ও তার অভ্যন্তরের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির বৃদ্ধি ও বিবর্তন হয়। এই ঝিল্লিকোষসমূহ রক্ত ও শ্লেষ্মার সঙ্গে জরায়ু থেকে নিষ্কাষিত হয়। যৌবনোদ্গমের পর থেকে ঋতুবন্ধ অবধি জরায়ু নিষ্কাষিত রক্ত শ্লেষ্মা ও ঝিল্লিকোষের নিঃসরণকেই চলতি কথায় ‘ঋতুস্রাব’ বা ‘মাসিক’ বলে অভিহিত করা হয়।’’

এই ধারাবাহিক ঋতু-লীলার মধ্যেই তো লুকিয়ে জন্মতত্ত্ব। জন্ম-রহস্য।

চিকিৎসক মিত্র এই প্রক্রিয়াকে সহজ ভাষায় বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘‘ঋতুচক্রের ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে ডিম্বাশয় থেকে একটি ডিম্বানু নির্গত হয় এবং পরে ডিম্বানুটি ডিম্বনালীর ভিতর দিয়ে জরায়ুতে চলে আসে। ঋতুক্ষরণের কিছু আগে ডিম্বাণুটি অকর্মণ্য হয়ে পড়ে এবং রক্তস্রাবের সঙ্গে নির্গত হয়। বিবাহের পরে স্ত্রী-পুরুষের মিলনের সময়ে শুক্রাণু ডিম্বনালীর মধ্যে ডিম্বানুর সঙ্গে মিলিত হলে উর্বর ডিম্বাণুর সৃষ্টি হয়। উর্বরতা লাভের পর ডিম্বাণুতে নানাবিধ পরিবর্তনের সূচনা হয়। এই উর্বর ডিম্বাণু জরায়ুতে পৌঁছে সমৃদ্ধ ও পরিণত ঝিল্লির মধ্যে নিবদ্ধ হয়ে পড়ে এবং ভ্রূণের গোড়াপত্তন হয়। সন্তানের জন্মদানে জন্মনিয়ন্ত্রণে এই প্রাকৃতিক বিধানটির গুরুত্ব অনেক।’’

মেয়ে শরীর নারী হয়ে ওঠার পিছনে স্তনের বৃদ্ধিতেও এই ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের প্রভাব কাজ করে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad