১৯ বছর বয়সেই জীবনের কঠিন বাস্তব দেখে ফেলেছেন। ২০১৪ -তে হারিয়েছেন বাবাকে। তারপর জীবনের অবলম্বন বলতে ছিলেন মা। তিনিও চলে গেছেন গতকাল। সইতে পারলেন না উত্তরা। মানসিক অবসাদে নিলেন আত্মহত্যার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত। জীবন ভালো করে শুরুর আগেই ঝরে পড়ল। উত্তরার দেহের দিকে তাকিয়ে তাই চোখে জল তিলজলার চৌবাগা রোডের বাসিন্দাদের। গোটা এলাকাতেই নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
কয়েক দিন ধরেই উত্তরার মায়ের শরীর ভালো যাচ্ছিল না। চিকিৎসা চলছিল বেলভিউ হাসপাতালে। সন্ধ্যায় খবর আসে, মা চলে গেছেন চিরতরে। গুম মেরে যান উত্তরা চৌধুরি ওরফে জুয়েল। স্থানীয়রা জানান, চোখে একফোঁটা জলও আসেনি তাঁর। উদাস দৃষ্টিতে বসেছিলেন শুধু। তারপর গতরাত সাড়ে ১০টা নাগাদ উদ্ধার হয় তাঁর নিথর দেহ। সিলিং ফ্যান থেকে ওড়নায় ঝুলছিল দেহটা। তিলজলা থানার পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায় হাসপাতালে। চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানান, বাবাকে বড় ভালোবাসতেন উত্তরা। মা-বাবার একমাত্র সন্তান ছিলেন তিনি। বাবার আকস্মিক প্রয়াণে একটু চুপচাপ হয়ে গিয়েছিলেন বছর ১৫-র ওই কিশোরী। উচ্ছ্বলতা চলে গিয়েছিল তার জীবন থেকে। তারপর মাকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টা। শান্ত উত্তরাকে পছন্দ করতেন এলাকার মানুষজন। তাঁর এমন পরিণতিতে তাই এলাকায় শোকের ছায়া। পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে, তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান উত্তরা আত্মহত্যাই করেছে।

No comments:
Post a Comment