মালদা শহরে এবার হানা দিল ডেঙ্গু। ইংরেজবাজার পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দার রক্তে ডেঙ্গির জীবাণু পাওয়া গেছে। আপাতত বাড়িতেই ওই রোগীর চিকিৎসা চলছে। এবিষয়ে পৌরবোর্ডের দিকেই আঙুল তুলেছেন ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। পৌরসভার চেয়ারম্যান বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, আবর্জনার সঙ্গে ডেঙ্গির কোনও সম্পর্ক নেই।
মালদা শহরের কালীতলার বাসিন্দা বছর সাতাশের যুবক দীপশেখর মিশ্র। ১৮ জুন থেকে জ্বরে ভুগছেন। সঙ্গে অসহ্য মাথাব্যথা এবং বমি হচ্ছিল। ভাইয়ের অসুস্থতার কথা জানতে পেরে আসেন দীপশেখরের দিদি ও দাদা চিরঞ্জিৎ। পরদিন দাদাই তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। তিনি বেশ কয়েকটি রক্ত পরীক্ষা করতে বলেন। ১৯ জুন শহরের একটি নামী বেসরকারি প্যাথলজিক্যাল সেন্টারে দীপশেখরের রক্ত পরীক্ষা করানো হয়। সেই রিপোর্টে রক্তে ডেঙ্গির জীবাণু ধরা পড়ে। এখন দীপশেখর বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা করাচ্ছেন। এবিষয়ে দাদা চিরঞ্জিৎ জানান, সেই সময় তাঁরা বাইরে ছিলেন। ভাইয়ের জ্বরের খবর পেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। তিনিই ভাইকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসকের পরামর্শে ভাইয়ের রক্তের অ্যালাইজ়া টেস্ট করা হয়। রিপোর্টে ডেঙ্গির জীবাণু পাওয়া যায়। চিরঞ্জিতের অভিযোগ, মালদা শহরে আবর্জনা বেড়ে যাওয়ার জন্যই মশার উপদ্রব বেড়েছে। বাড়ছে ডেঙ্গির শঙ্কাও। দীপশেখরের রক্তে ডেঙ্গি ধরা পড়ার পর স্থানীয় কাউন্সিলর কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরি সবরকম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকেও জানিয়েছেন বলে জানান চিরঞ্জিৎ।
আজ দুপুরে দীপশেখরকে দেখতে যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরি। শহরে ডেঙ্গি প্রাদুর্ভাবের ঘটনায় তিনি ইংরেজবাজার পৌর কর্তৃপক্ষকে কার্যত তুলোধনা করেন। বলেন, "শুধু দীপ নয়, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মালদা শহরের বেশ কয়েকজন মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত। শহরে ডেঙ্গি ছড়ানোর জন্য সম্পূর্ণভাবে দায়ি ইংরেজবাজার পৌর কর্তৃপক্ষ। গতবছর মুখ্যমন্ত্রী যখন মালদা সফরে এসেছিলেন, তখন তাঁর নির্দেশে মুখ্যসচিব, জেলাশাসক সহ পৌর কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্যদপ্তরকে ডেঙ্গি সহ সেই ধরনের অন্যান্য রোগ নিয়ে সতর্ক করে যান। তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই ধরনের রোগের ক্ষেত্রে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ডেঙ্গি মহামারীর আকার ধারণ করবে। গতবছর এই জেলায় বেশ কয়েকজন মানুষ ডেঙ্গিতে মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। কিন্তু এতকিছু সত্ত্বেও পৌর কর্তৃপক্ষ কিংবা স্বাস্থ্যদপ্তরের হেলদোল নেই। ডেঙ্গি রোধ করতে গেলে ত্রিস্তর সুরক্ষা ব্যবস্থা করতে হয়। তা বোধহয় বর্তমান পৌরবোর্ড জানে না। আমার লজ্জা লাগে যে পৌরসভা আমার আমলে ২০০৪ সালের ৬ অক্টোবর রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে এনভায়রনমেন্ট এক্সেলেন্সি পুরস্কার পেয়েছিল। সেই পৌরসভাই এখন দেশের সবচেয়ে নোংরা ২৫টি শহরের তালিকায় স্থান পেয়েছে। আসলে এখন যিনি পৌরসভার দায়িত্বে রয়েছেন, তিনি শহরের কথা চিন্তা করেন না। চিন্তা করেন শুধু নিজের কথা। তাঁর রাজনৈতিক অভিসন্ধি কী, তা কারোর পক্ষে জানা সম্ভব নয়।"
শহরে যে ডেঙ্গি ধরা পড়েছে সেকথা তাঁর জানা নেই বললেন ইংরেজবাজার পৌরসভার বর্তমান চেয়ারম্যান নীহাররঞ্জন ঘোষ। বলেন, "শহরে ডেঙ্গির প্রাদুর্ভাবের কথা আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।" আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এখন গোটা বছর ধরে ডেঙ্গি প্রতিরোধের ব্যবস্থা করছেন তাঁরা। তবে আবর্জনার জন্য ডেঙ্গি প্রাদুর্ভাবের অভিযোগ ঠিক নয়। তিনি বলেন, "ডেঙ্গির মশা আবর্জনা কিংবা নোংরা জলে ডিম পাড়ে না। পরিষ্কার জলে ডিম পাড়ে। বিশেষত বাতানুকূল যন্ত্রের জমা জল তাদের প্রিয়। তাই ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে মানুষকেও সচেতন হতে হবে। ডেঙ্গি রোধে আমাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।"

No comments:
Post a Comment