“মানুষের মনের ক্ষোভ রয়েছে। তাঁরা এই ঘটনার বিচার চান। আমরাও এর জন্য লড়াই করছি।” সোমবার পুরুলিয়ায় গিয়ে একথা বলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
পঞ্চায়েত ভোটের সময় থেকেই একের পর এক বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলরামপুর ব্লকে। প্রথম মৃত্যু হয় আমটাড় গ্রামের জগন্নাথ টুডুর। এরপর সুপুরডি গ্রামে ত্রিলোচন মাহাতর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনার তিনদিনের মধ্যে ডাভা গ্রামের কাছে হাইটেনশন খাম্বায় ঝুলন্ত অবস্থা উদ্ধার হয় দুলাল কুমারের মৃতদেহ। এই তিনটি ঘটনাতেই খুনের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তারপর থেকেই পুরুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে BJP। ১২ ঘণ্টার বনধও ডাকা হয়। দলীয় কর্মী খুনের প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই বলরামপুরে BJP-র অবস্থান বিক্ষোভ চলছে। তার মধ্যেই সোমবার সেখানে যান দিলীপ ঘোষ। এরপর মৃত তিন দলীয় কর্মীর বাড়িতে যান। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। খোঁজ নেন পরিবারের আর্থিক অবস্থা নিয়েও। দল যে তাঁদের পাশে রয়েছে সেই বিষয়টিও নিশ্চিত করেন।
কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর দিলীপ ঘোষ বলেন, “পুরুলিয়ার তিনটি গ্রামে আমি ঘুরলাম। মৃত কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বললাম। দেখলাম মানুষ এখন আপাতত শান্ত। কিন্তু, তাদের মনের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাঁরা বিচার চান। আমরাও তার জন্য লড়াই করছি।”
তিনি আরও বলেন, “শান্ত পুরুলিয়া জেলার মানুষ মারপিট করতে চান না। ভোটও এখানে শান্তিপূর্ণভাবেই হত। তবে পঞ্চায়েত নির্বাচন যে এভাবে রক্তাক্ত হয়ে যাবে, তিনজন তরতাজা যুবককে খুন করা হবে তা আমরাও ভাবিনি। আর এখানকার বাসিন্দারাও ভাবতে পারেননি। মানুষ একেবারে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু, আজ মানুষ এর বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন। আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলন বাংলার রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটাতে পারবে বলে আমার মনে হয়।”
তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ করে তিনি বলেন, “এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বলরামপুরে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সব জায়গায় ফুটেছে পদ্মফুল। গণতান্ত্রিকভাবে ওরা এখানে জিততে পারেনি। পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তারাও পারেনি। তাই যারা আমাদের সবচেয়ে সক্রিয় কর্মী তাদের ভয় দেখিয়ে পৃথিবী থেকে সরিয়ে বিরোধীশূন্য করার যে চক্রান্ত চলছে, গণতন্ত্রে এর কোনও জায়গা নেই। আর আমরা গণতন্ত্র রক্ষার জন্য লড়ছি।”

No comments:
Post a Comment