“তৃণমূল উৎপাত ও সন্ত্রাস বন্ধ না করলে আরও জঙ্গি আন্দোলন করবে বিজেপি।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে একথা বললেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
১৯ জুন জলপাইগুড়িতে এক সভায় দিলীপ ঘোষ বলেন, “তৃণমূলের অনেক নেতা আজ দাদাগিরি করছেন। চমকাচ্ছেন। তাঁদের বলে দিচ্ছি, হয় জেল আর তা না হলে সোজা এনকাউন্টার হবে।” আজ নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দলের কোর কমিটির বৈঠকে নাম না করে দিলীপ ঘোষকে আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, “ওদের কে একটা নেতা আছে প্রেসিডেন্ট না ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট। যা পারছে বলে যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন এনকাউন্টার করবেন। কেউ বলছে গুলি চালাব। কেউ বলছে বোমা মারব। কেউ বলছে শেষ করে দেব। আমি বলছি আসুন, ক্ষমতা দেখান।” এবিষয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “উত্তরপ্রদেশে এর আগে যারা ক্ষমতায় ছিল তারাও এরকম কথা বলত। গুণ্ডা বদমায়েশদের নিয়ে অত্যাচার করত। এরকম অহংকার ছিল। পরিবর্তন হল। এখন সব পালটে দিয়েছে। এখন আর এনকাউন্টার হচ্ছে না।”
বিজেপি-কে জঙ্গি সংগঠন বলায় দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, “বিজেপি জঙ্গি দল নয়। কিন্তু দরকার হলে জঙ্গি আন্দোলন করবে। এবং শুরু করেছে। যদি এই ধরনের উৎপাত ও সন্ত্রাস বন্ধ না হয় তাহলে এই ধরনের আরও জঙ্গি আন্দোলন করবে। আর ওরা দেখবে। সাধারণ মানুষদের নিয়েই করব।”
অন্যদিকে আজ খড়গপুরে এক অনুষ্ঠানে দিলীপ ঘোষ বলেন, "বিজেপি কি সেটা দেশের লোককে বোঝাতে হবেনা। তৃণমূল কি এটাও বোঝাতে হবে না। পঞ্চায়েত নির্বাচনে যেভাবে মনোনয়ন জমা দেওয়া, ভোট দেওয়া আটকেছে। যেভাবে বিরোধীদের মারা হয়েছে। দু'জন প্রাক্তন সাংসদ, তিনজন কংগ্রেস, সিপিএমের বিধায়ককে রাস্তায় ফেলে পেটানো হয়েছে। আমাদের ৪ জন জেলা সভাপতিকে ৩ জন সাধারণ সম্পাদককে পেটানো হয়েছে, ছুরি মারা হয়েছে, চিরে দেওয়া হয়েছে। কারা করেছে এগুলো ? বিজেপি করেছে নাকি ? জঙ্গিরা তরোয়াল নিয়ে, বোম নিয়ে, দাঁ নিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ বন্দুক নিয়ে তাদের প্রোটেকশন দিচ্ছে। তারা কারা ছিল ? বিজেপি-র লোক ছিল নাকি ? তো সেজন্য দিদিমনি জানেন, কারা টেররিস্ট, কারা কী করছে, আর সারা ভারতবর্ষের লোক এই নির্বাচনে জেনে গেছে। বাংলার নাক, কান কেটে গেছে এরজন্য। সেখানে এইসব কথা বলার কোনও অধিকার নেই ওনার। যদি মান-সম্মান থাকে সামান্য, তাহলে এখনও সময় আছে, বাংলার সম্মান বাঁচান।"

No comments:
Post a Comment