অরিন্দম হরি : গ্রীষ্মের দাবদাহ ক্রমশ কমতে শুরু হয়েছে বঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বর্ষা আগত, এমনটাই খবর আবহাওয়া অফিস সূত্রে। এই বর্ষায় কেমন আছে সুন্দরবন অঞ্চলের মানুষ যেখানে প্লাবিত হয় একাধিক গ্রাম সেখানে বর্ষার আগে কেমন প্রস্তুতি প্রশাসনের, উঠে আসল সেই ছবি।
বসিরহাট মহকুমার এক প্রান্তে অবস্থিত হিঙ্গলগঞ্জ, যেখানে আয়লায় হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছিল। প্রতি বর্ষায় ঘরের চাল উড়ে যাওয়া, নদী বাঁধ ভাঙন, চাষের জমিতে জল উঠে যাওয়া এসব ছবি অতি পরিচিত এই এলাকার মানুষের। রাজ্যে পালা বদলের সাথে সাথে এই সব এলাকায় দেখা গেছে বেশ কিছু ফ্লাড সেন্টার অর্থাৎ বন্যার্তদের আশ্রয়।
হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের হিঙ্গলগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের বেশ কিছু গ্রামের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত ইছামতি, গৌড়েশ্বর নদী। এই পঞ্চায়েতের ১৪ টি গ্রাম সভা নিয়ে গঠিত হিঙ্গলগঞ্জ পঞ্চায়েত, এর মধ্যে কিছু গ্রাম ছাড়া প্রায় সব গ্রামেই মাটির রাস্তার পরিবর্তে ঢালাই রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে। এই পঞ্চায়েতের উত্তর বোলতলা, মামুদপুর, দ: হিঙ্গলগঞ্জ গ্রামগুলিতে প্রতি বর্ষায়ই দুশ্চিন্তায় ভোগে গ্রামের মানুষ, ক্ষতিগ্রস্থ হয় চাষের ফসল।
পঞ্চায়েত প্রধান তন্দ্রা মন্ডলের থেকে জানা যায় উত্তর বোলতলা গ্রামে প্রায় এক কিমি নদীবাধের কাজ শেষ হয়েছে। মামুদপুর গ্রামের পাশেই প্রবাহিত গৌড়েশ্বর নদী। উল্লেখ্য গত বছর এখানকার বাগদিখালি সুইসগেটে জলের তোরে ভাঙন হয়, জল ওঠে গ্রামের ধানের জমিতে। এবছরে সেখানে রক্ষণাবেক্ষণ করে প্রায় দু কিমি নদী বাঁধ দেওয়া হয়। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর সাঁঝবাতি প্রকল্পে ষোলোটি লাইট লাগানো হয় গ্রামের বিভিন্ন জায়গায়। গ্রামবাসী সারাফত গাজী, মামুদপুরের প্রশান্ত বেড়া, পুষ্কর গিড়ি, দিলিপ দাশরা এবছর বর্ষায় নাজেহাল না হওয়ার ব্যাপারে কিছুটা আশ্বস্ত, কিন্তু মনে রাখতে হবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাছে সাড়া বিশ্ব তুচ্ছ।

No comments:
Post a Comment