মন্ত্রী সভায় কেন রাজার বিরুদ্ধে মন্ত্রীরা জিহাদ ঘোষনা করল? - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, 25 June 2018

মন্ত্রী সভায় কেন রাজার বিরুদ্ধে মন্ত্রীরা জিহাদ ঘোষনা করল?


বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলায় গনতন্ত্র বিপন্ন। এই অভিযোগ তুলে সাংগঠনিক জেলা সভাপতির কাজকর্মের বিরুদ্ধে জ্বেহাদ ঘোষণা করে বৈঠক করলেন জেলার একাধিক নেতা কর্মীরা। রবিবার সন্ধ্যায় চুঁচুড়ার পিপুলপাতি মোড়ে একটি পেক্ষাগৃহে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন বিজেপির জেলার একাধিক নেতা কর্মীরা। এদিন ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জেলা কমিটির সহ সভাপতি শ্যামল বিশ্বাস। উপস্থিত ছিলেন জেলার একাধিক নেতা কর্মীরা। এদিনের ওই বৈঠকে আলোচনার বিষয় ছিল আগামী লোকসভা ভোটে দলকে কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।

এদিন ওই সভার সভাপতি তথা জেলার সহ সভাপতি শ্যামল বিশ্বাস বলেন, হুগলি সাংগঠনিক জেলায় গনতন্ত্র বিপন্ন। ১৯জন মণ্ডল সভাপতিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাউকে পদ থেকে সরিয়ে দেবার আগে কিছু পদ্ধুতি মেনটেন করা হত। এদিন শ্যামল বাবু বলেন, এদিন পর্যন্ত আমি হুগলি সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি। আমার লজ্জ্যা করছে বলতে, তবুও বলছি রাতের অন্ধকারে ১৯জন সভাপতিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে কাউকে জিগ্যাসা না করে। অথচ, তৃণমূল ও সিপিএমের ঘনিষ্ট পান্ডুয়ার এক ব্যাক্তিকে সহ সভাপতি করা হয়েছে। এদিন শ্যামল বাবু বলেন, দলীয় পদটা আমার কাছে কোনও বড় ব্যাপার নয়। তবে দূর্নীতিমূক্ত ভারতবর্ষের সঙ্গে সঙ্গে দূর্নীতি মুক্ত বাংলা আমরা গড়ব এই সংকল্প আমাদের ছিল। কিন্তু বিপত্তি ঘটল সৈরাচারী রাজার শাসনে। সেই রাজার শাসন ব্যাবস্থার বিরুদ্ধে আমাদের সার্বিক লড়াই। সেই রাজা বলছেন, আমি আমার ইচ্ছায় দল চালাব। আমি কারও কথা শুনব না। দলের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই নয়। আমাদের লড়াই ওই রাজার বিরুদ্ধে। দলের বিরুদ্ধে আমরা কোনও মন্তব্য করব না। কারন, দল আমাদের কাছে আমাদের মায়ের মত। তাই দলকে যদি কোনও ব্যাক্তি কারও কাছে বিক্রী করতে চায়। তাহলে আমরা জীবন দিয়ে তার বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাব।
এদিন ওই বৈঠকে হুগলি মণ্ডলের প্রাক্তন সভাপতি তথা জেলা কমিটির সদস্য নিমাই দত্ত বলেন, হিটলারি কায়দায় সংগঠন আমাদের চলে না। আমাদের দলে গনতন্ত্র রয়েছে। আমরা গনতন্ত্রে বিশ্বাস করি। গোটা ঘটনাটি আমরা রাজ্য নেতৃত্বের কাছে জানিয়েছি। কারন, জেলা সভাপতি ও এক রাজ্য সম্পাদক মিলিত ভাবে সাংগঠিক জেলাকে শেষ করে দিয়েছে। আগামী দিনে আমরা লোকসভা জিততে পারবো কি না। সেটা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
এদিন বিজেপির এক কর্মী দেব ব্রক্ষ্ম বলেন, বিজেপির প্রাক্তন হুগলি মণ্ডলের সভাপতি নিমাই দত্তের আন্দোলনমুখি কাজ কর্মে সন্তুষ্ট হয়ে সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত সাহ তাকে সম্ভর্ধনা দিয়েছেন। পাশাপাশি বিজেপির রাজ্য সভাপতি নিমাই দত্তের কাজকে বাহবা দিয়ে তখন অন্যান্ন মণ্ডল সভাপতিদের নিমাই দত্তকে অনুসরন করতে বলেছিলেন। প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতির নেতৃত্বে হুগলিতে সর্বাধিক আন্দোলন সংগঠিত হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠন মজবুত হয়েছে। পার্টি সংবিধানের কথা বলা হয়। কিন্তু দলের বহু উচ্চ নেতৃত্বই সেটা মানেন না। আমরা কার কাছে বিচার চাইব। তবে বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার গোটা ঘটনা গুলি নিয়ে ধিকি ধিকি আগুন জ্বলতে শুরু করেছে। এই বিষয়টি নিয়ে রাজ্য নেতৃত্ব এখনই কোনও ব্যাবস্থা না নিলে আগামী দিনে কর্মীদের ক্ষোভ আগ্নেওগিরীর আকার নিতে পারে। অন্তত এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। যদিও গোটা ঘটনাটি নিয়ে বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুবীর নাগকে বাইট দেবার কথা বললে তিনি বাইট দিতে রাজী হলনি। তবে তিনি এক বিবৃতীতে বলেন, ভগবান এদের শুভবুদ্ধি দিক। তারা দলের সঙ্গে কাজ করুক। দলের সঙ্গে যারা কাজ করতে চাইবে তাদের সম্পূর্ন সহযোগীতা করার দায়িত্ব আমার।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad