বয়স সত্তর ছুঁয়েছে। গোঁফ-দাড়ি পেকেছে আগেই। শরীরের চামড়ায় বয়সের ছাপটা পরিস্কার। মাথার বারো আনি চুল নেই। তার পরও কমেনি বিন্দুমাত্র ইচ্ছাশক্তি। প্রিয় দলের খেলা দেখতে, গ্যালারিতে বসে সমর্থন জোগাতে সবাই যখন বিমানে করে উড়ে যাচ্ছেন, তিনি গেলেন ট্রাক্টর চেপে!
আশ্চর্য হলেও সত্য। হাবার্ট ওয়ার্থ নামের এক জার্মান সমর্থক এমন কাণ্ডই ঘটালেন। টানা দশ দিন ভ্রমণ করে নিজে গ্রাম থেকে চলে যান বিশ্বকাপের দেশ রাশিয়ায়। দারুণভাবে নিজের ট্রাক্টরটি সাজান হাবার্ট। সঙ্গে নিয়ে যান একটি পোষা কুকুর। ট্রাক্টরে করে নিজের পর্যাপ্ত খাবারও নিয়ে যান। সঙ্গে একটি সাইকেলও ছিল। জার্মানির পতাকা উড়িয়ে ধীরে ধীরে তিনি কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছান।
মস্কোতে পা রাখতে প্রায় এক হাজার মাইল পথ পাড়ি দিতে হয়েছে হাবার্টকে। অতিক্রম করতে হয়েছে দুই দেশ- পোল্যান্ড আর বেলারুশ সীমান্ত। গত বৃহস্পতিবার যখন তিনি বেলারুশ সীমান্তে পৌঁছান তখন সে দেশের নিরাপত্তকর্মীরা তার পথ আটকায়। অবশ্য প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসা শেষে ছেড়েও দেয় তারা। বেশ পুরনো মডেলের একটি ট্রাক্টর করে কীভাবে এতটা পথ অতিক্রম করলেন।
এমন প্রশ্ন উঠেছে অনেকের মনে। তবে এ ব্যাপারে হাবার্টের অভিমত, ইচ্ছা থাকলে অনেক কিছুই করা সম্ভব। তিনি ঘণ্টায় প্রায় ৩০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছেন। অনেকটা পথ গাড়ি চালানোর পর তার যখন খিদে লাগত। তখন রাস্তার পাশে ট্রাক্টর রেখেই রান্নাবান্নায় মন দিতেন। এরপর ফের ড্রাইভিং সিটে বসতেন হার্বাট। দারুণ এই ভ্রমণটা বড্ড উপভোগ করেছেন বলেও জানান তিনি। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো ট্রাক্টরের ভেতরের পরিবেশটা। এক প্রকার বেডরুমের মতো দেখতে। খাওয়ার জন্য ছোট্ট একটি টেবিল, ছিল বিছানাও।
পোষা কুকুরটির জন্যও আলাদা কক্ষ করা হয়। হাবার্ট ট্রাক্টরটি চালানোর সময় তার পাশেই কুকুরটি থাকত। তবে রাতে সেটিকে তার নিজস্ব কক্ষে রাখা হতো। হার্বাটের এই ভ্রমণ কাহিনীটা ইতিমধ্যে অনেক মহারথীকেই তাক লাগিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো তাকে নিয়ে ফলাও করে লিখছে। অনেকে বলছেন, বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে এই সমর্থকের প্রচেষ্টা জার্মান দলকে বাড়তি প্রেরণাই দেবে।

No comments:
Post a Comment