সাবান একটি ময়লা পরিষ্কারক দ্রব্য। সোডা, ক্ষার, চর্বি ইত্যাদি উপকরণ ব্যবহার করে সাবান তৈরি করা হয়। গায়ে মাখা ও কাপড় কাচার জন্য দুই ধরনের সাবান আমরা ব্যবহার করি। বর্তমানে হাত ধোয়ার জন্য তরল সাবানও ব্যবহার করা হচ্ছে। হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ সাবান ব্যবহার করে আসছে। সম্ভবত মেসোপটেমিয়ার (ইরাক) মানুষ প্রথম সাবান আবিষ্কার করে।
সাবান মূলত ব্যবহার করা হয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য। এতে অনেক অসুখ থেকে বাঁচা যায়। গায়ে মেখে এবং কাপড় কেচে আমরা সাবান ব্যবহার করি। আমাদের শরীরে ময়লা হয়। এর বিশেষ কারণ চামড়ার ওপর একধরনের আঠালো পদার্থ জমা হয়। এ পদার্থকে সাবান ভিন্ন এক পদার্থে পরিণত করে, যা সহজেই পানিতে দ্রবীভূত হয়। তাই গোসলের সময় সাবান মাখলে গায়ের ময়লা দূর হয়। কাপড়ে মেখে ধুয়ে ফেললে কাপড়ও পরিষ্কার হয়।
সাবান কোথায় তৈরি করা হয়? আজকের জামানায় সাবান তৈরি করা হয় কারখানায়। স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রে প্রয়োজনমতো উপকরণ ব্যবহার করে এটি তৈরি করা যায়। এ ছাড়া সাধারণ যন্ত্রের সাহায্যেও সাবান তৈরি করা যায়। আগে মানুষ হাতে তৈরী সাবান ব্যবহার করত। এরপর শুরু হয় কারখানায় সাবান তৈরি করার যুগ। অবশ্য এখনো কিছু মানুষ হাতে তৈরি সাবান ব্যবহার করে।
সাবান কী করে তৈরি করা হয়? ইতোমধ্যে তোমরা জেনেছ, প্রথমে মানুষ হাতে সাবান তৈরি করত এবং পরে আসে কারখানায় তৈরি করা সাবানের যুগ। বিশ্বের প্রথম সাবান কারখানা কোথায় স্থাপিত হয়? যুক্তরাজ্যের বিস্টল শহরে। কখন? ১২ শতকে। এবার জেনে নাও সাবান তৈরি করার সাধারণ নিয়ম। জীবজন্তুর চর্বি কিংবা বনস্পতি তেলের সাথে কস্টিক সোডা বা কস্টিক পটাশ মিশিয়ে সাবান তৈরি করা হয়। নারিকেল তেল বা তাল্লর সাথে কস্টিক সোডা কিংবা কস্টিক পটাশ মিশিয়ে ফোটানো হয়। এরপর কোনো খোলা পাত্রে ধীরে ধীরে ঠাণ্ডা হতে দিলে তা সাবানে পরিণত হয়।
সাবধান, তোমরা নিজেরা এখনই এটি তৈরি করতে যেয়ো না। বড় হয়ে ইচ্ছে করলে তৈরি করতে পারবে এবং উন্নত সাবান তৈরি করার জন্য গবেষণাও চালাতে পারবে।

No comments:
Post a Comment