শিম্পাঞ্জি এবং মানুষ। এই দুইয়ের সংমিশ্রণে তৈরি হয়েছিল ‘হিউম্যাঞ্জি’। কিন্তু ফল বিরূপ হতে পারে এই আশঙ্কায় প্রাণীটিকে হত্যা করে ফেলেছিলেন আবিস্কারক বিজ্ঞানী। না কোনও কল্পবিজ্ঞানের গল্প নয়। এমনটা ঘটেছিল সত্যিই। দাবি বিবর্তন বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানী গর্ডন গালোপ–এর। তিনি বলেছেন, ‘সংকর প্রাণী নিয়ে গবেষণা করতেন ফ্লোরিডার অরেঞ্জ পার্কের বিজ্ঞানী ইলিয়া ইভানোভ।
১৯২০ সালে তিনি একটি স্ত্রী শিম্পাঞ্জির শরীরে মানুষের শুক্রাণূ ঢুকিয়ে সেটিকে গর্ভবতী করেন এবং সেই মহিলা শিম্পাঞ্জিটি একটি হিউম্যাঞ্জি’র জন্ম দেয়। কিন্তু যদি সেটা কারো কোন ক্ষতি করে, এই ভয়ে কয়েক সপ্তাহ পরে হিউম্যাঞ্জিটিকে মেরে ফেলেছিলেন ইভানোভ।’ তবে সেই গবেষণার সমস্ত নথি সযত্নে রেখে দিয়েছিলেন ইভানোভ। যা তিনি ১৯৩০ সালে দিয়ে দেন জর্জিয়ার আটলান্টায় এমরয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নামী গবেষককে।
ইভানোভের আগেও অনেক বিজ্ঞানীই মানুষের শুক্রাণু দিয়ে স্ত্রী শিম্পাঞ্জিকে গর্ভবতী করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সফল হননি। এমনিতেও নানা বিতর্কিত গবেষণা করার জন্য বারবার সতর্ক করা হয়েছিল ইভানোভকে। যে কারণে বহু গবেষণাই তিনি করতেন গোপনে।
যদিও কেউ কেউ মনে করতেন ইতিহাসের প্রথম হিউম্যাঞ্জি হল অলিভার। ১৯৫৮ সালের জন্মানো এই শিম্পাঞ্জিটি খাড়া দু’পায়ে দীর্ঘসময় হাঁটতে পারত।
তার মুখমণ্ডলে লোমও ছিল খুবই কম। নাক অন্য শিম্পাঞ্জিদের তুলনায় অনেকটা খাড়া ছিল। তবে ১৯৯৬ সালের একটি ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ হয়ে যায়, গঠনগত ফারাক থাকলেও অলিভার জিনগতভাবে একটি সাধারণ শিম্পাঞ্জিই।
ইভানোভের পরীক্ষাকে স্বীকৃতি দিয়ে গাল্ফ বলছেন, ‘মানুষ ও শিম্পাঞ্জির মেলবন্ধন ঘটিয়ে হিউম্যাঞ্জি বানানো সম্ভব। শুধু শিম্পাঞ্জিই নয়, গোরিলা এবং ওরাংওটাংয়ের সঙ্গেও প্রজনন করিয়ে সংকর জীবের জন্ম দেওয়া সম্ভব। এগুলির নাম হবে হুরিলা এবং হুরাং।’

No comments:
Post a Comment