দীর্ঘক্ষণ সঙ্গম করার কলা কৌশল! - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 28 June 2018

দীর্ঘক্ষণ সঙ্গম করার কলা কৌশল!


মনের সূক্ষ্মবৃত্তি মানুষকে সকল জন্তুদের থেকে অনেকখানি উন্নত করেছে। প্রেম হলো মানুষের সেই মানসিক বৃত্তির পরাকাষ্ঠা। সঙ্গম হলো সেই প্রেমের মূল্যদান। প্রেমে অভিষিক্ত হয়ে নর-নারী স্বেচ্ছায় সেই মূল্যের আদান-প্রদান করে। এমন সঙ্গম ক্রিয়ার মধ্যে কোনো লজ্জা বা ভয়ের অবকাশ থাকবে না। সঙ্গম সম্বন্ধে আলোচনা এই মনোভাব নিয়েই করতে হবে। নির্বিকার শিক্ষার্থীর মতো মন নিয়ে পাঠক-পাঠিকাকে এই অধ্যায়টি পড়তে হবে। এর মধ্যে এমন কিছু কথা জানবার থাকতে পারে যা আমাদের দেশের অধিকাংশ মেয়েরা এবং অধিকাংশ পুরুষেরাও জানে না। এই সঙ্গম ক্রিয়ার সম্বন্ধে সব কথাই সকলের পক্ষে সুস্পষ্টভাবে জেনে রাখা দরকার। তাতে প্রত্যেক স্বামী ও স্ত্রী সহজেই পরস্পরকে সুখী করতে পারবে। জীবনে তাদের অশান্তি দেখা দেবে না। আজকাল জানা যাচ্ছে যে বিবাহিত জীবনের যত কিছু অশান্তির মূল এরই মধ্যে লুকিয়ে আছে। উপযুক্ত জ্ঞানলাভ এবং তাঁর প্রয়োগের দ্বারাই সে অশান্তি নিবারিত হতে পারে।
সঙ্গমের নির্দিষ্ট ক্রিয়াটি যে কেমন ভাবে করতে হয় এ কথা জগতের কোন প্রাণী না জানে? এ বিদ্যা কাউকে শিখিয়ে দিতে হয় না, সকলেই নিজের সহজাত প্রবৃত্তির দ্বারা আপনা থেকেই শিখে নেয়। নিত্যই দেখা যায় যে সঙ্গমে নিযুক্ত হওয়া মাত্র প্রত্যেক প্রানী আগে কিছুই না শিখে ঠিক নির্ভুল ভাবে এই ক্রিয়া করে যেতে থাকে।
কিন্তু এ বিষয়ে যে কথাটি মানুষের পক্ষে সব চেয়ে বিশেষ করে জানা দরকার সেটি এই যে, মানুষের সঙ্গম উভয় পক্ষের তৃপ্তির সঙ্গম। এতে নর এবং নারী, দুজনেরই সমান তৃপ্তি পাওয়া চাই। একজনই কেবল তৃপ্তি ভোগ করবে, একজন তাঁর নিমিত্তমাত্র হবে, মনুষ্য সঙ্গমের এ উদ্দেশ্য কখনই নয়। স্বামী এবং স্ত্রীতে যেখানে যৌন মিলন ঘটলো সেখানে শেষ পর্যন্ত দুজনেরই যৌন ত্রিপ্তি সম্পূর্ণ না হলে সেই  মিলন সার্থক হলো না। সন্তান সৃষ্টির দিক দিয়ে এ কথা নয়, কারণ তৃপ্তি নারীর পক্ষে হোক  বা নাই হোক, পুরুষের শুক্র কোনোক্রমে নারীর যোনিতে গিয়ে পড়লেই তাঁর থেকে সন্তানের উৎপত্তি হয়ে থাকে। এমন কি কোনো পুরুষের সদ্যনির্গত শুক্র যদি ডাক্তারি পিচকারীতে ভরে কোনো নারীর যোনির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া যায় তবে তাঁর থেকেও সন্তানের উৎপত্তি হতে পারে।
প্রাশ্চাত্যের কথা বাদই দিলাম। ভারতে তথা আমাদের কলকাতাতেও নল জাতকের সংখ্যা নেহাত এখন কম নয়। মানুষের সঙ্গমের মুখ্য উদ্দেশ্য কেবলই সন্তান উৎপাদন নয়, তাঁর চেয়ে আরো একটা বড় উদ্দেশ্য হলো তাঁর আনন্দ । সেই আনন্দকে লক্ষ্য করেই মানুষের এত রকমের বিশিষষ্টতা। সব কিছু প্রচেষ্টার মধ্যে তাঁর আনন্দই হলো প্রধান কাম্য। সৃষ্টিরক্ষার জন্য প্রকৃতিও তাঁর এই আনন্দের চাহিদার সঙ্গে শুক্রপাতকে যোগ করে দিয়েছে। কিন্তু এটা কেবল পুরুষের বেলা, তাই শুক্রপাত না হওয়া পর্যন্ত তাঁর নিবৃত্তি হবে না। নারীর  বেলা সঙ্গমের সময় সৃষ্টিরক্ষার দিক দিয়ে কনো কিছুই হবার নেই, তাই গর্ভাধানের সঙ্গে আনন্দকে যোগ করে দেবার প্রয়োজন নেই। কিন্তু বৃহত্তর উদ্দেশ্যের দিক দিয়ে সঙ্গমে আনন্দ পাবার সুযোগ তাকেও দেওয়া হয়েছে, যদি সেটুকু তাঁর পক্ষে অধিকন্ত পাওনার মতো। সুযোগ হলে সেই আনন্দটুকু সে পেয়ে যাবে, না হলেও সৃষ্টিরক্ষার তাতে কোন ব্যাঘাত নেই। কিন্তু প্রকৃতির প্রয়োজনের অতিরিক্ত সেই আনন্দের পাওনাটুকু তাঁর পাওয়া খুব দরকার, নইলে মনুষ্য জীবনের একটা প্রধান অধিকার থেকে সে বাদ পড়ে যায়। সেই মনুষ্য অধিকারের দিক দিয়ে নারীকেও সঙ্গমে শেষ পর্যন্ত তৃপ্ত করতে হবে। সঙ্গমসুখ নর-নারীর মধ্যে সমানভাবে বন্টিত হওয়া দরকার। এই কথাটি সর্বাগ্রে আমাদের প্রত্যেককে ভালো করে বুঝতে হবে ও পরস্পকে বোঝাতে হবে।
নারীর দিক দিয়ে এই যৌন তৃপ্তির কথা আজকাল নতুন করে বলা হচ্ছে তা নয়। বহু পুরাকাল থেকেই এ কথা বলা হয়ে গেছে। বাৎস্যায়নের কামসূত্রে ও অনঙ্গরঙ্গ প্রভৃতি অন্যান্য গ্রন্থে সঙ্গমের বহু প্রকার ও প্রকরণের বর্ণনা করে অতি নিখুঁত ভাবে পুনঃ পুনঃ নির্দেশ দেওয়া আছে যে, কোন কোন উপায়ের দ্বারা বিভিন্নরূপ নারীকে যৌন তৃপ্তি দিতে হবে, এবং তা দিতে না পারলেই পুরুষের সঙ্গম প্রচেষ্টার অঙ্গহানি হবে(কামসূত্র যৌন বিজ্ঞানের মহাকাব্য নিবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা পূর্বেই করা হয়েছে)।সম্ভবত তখনকার দিনে সেই সকল নির্দেশই যথাযথভাবে পালন করাও হতো। কিন্তু তারপর থেকে পুরুষের প্রাধান্য প্রবল হয়ে উঠলো, নারী হলো তাঁর একান্ত ভোগের বস্তু। এখন পুরুষ কেবল নিজের তৃপ্তিটাই দেখে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীর তৃপ্তির চাহিদার কথা মোটে জানেই না, তাঁর সে চাহিদা মেটাবার বিষয়ে কোন খেয়ালও করে না। নারীজাতি এতকাল পুরুষের এই আত্মপরায়ণতা সহ্য করে এসেছে। স্পষ্ট করে কিছু দাবি করেনি এবং মুখ ফুটে কিছু ব্যক্তও করেনি। কিন্তু ভিতরে যে ব্যর্থতার গ্লানি জমে উঠেছে তাঁর ফল কোথায় যাবে? আজ ঘরে ঘরে যে স্ত্রী-পুরুষের মধ্যে এত অশান্তি, জটিলতা, মনের অমিল, তাঁর মূল হেতুটি কোথায়? মেয়েদের মধ্যে এত স্ত্রীরোগ, বাধকের ব্যাথা, হিষ্টিরিয়া, শিরঃপীড়া, স্নায়ুদৌর্বল্য, যৌন অসাড়তা, এই সবেরই বা কারণ কি? আমরা চিকিৎসার ক্ষেত্রে মনোযবনিকার অন্তরালে ঢুকে নানারূপ দেখেশুনে এটুকু অন্তত খুব ভালো রকমই জেনেছি যে এই সমস্ত অঘটনের মূলে রয়েছে মেয়েদের যৌন অতৃপ্তি। যৌন জীবন তাদের অধিকাংশেরই ব্যর্থ হয়েছে।স্বামী হয়তো যথেষ্টই ভালোবেসেছে, স্বামীকেও তারা ভালোবেসেছে, কিন্তু তবুও যৌন মিলনে তারা তৃপ্তি পায় নি। যদি সেই দিক দিয়ে জৈব ক্ষুধাটা মিটে যেতো তাহলে নিশ্চয়ই তারা স্বতন্ত্র ধরনের মানুষ হতো। তাদের স্বাস্থ্যও থাকতো ভালো, আর মনেও কোনো গন্ডগোল ঘটতো না।
অনেকের ধারণা, সঙ্গমে পুরুষের যেমন একটা চরম অবস্থা আসে অর্থাৎ সুখের দিক দিয়ে সে একটা চরম পরিণতিতে গিয়ে পৌঁছতে পারে, মেয়েদের বেলা সেই ধরনের কিছু নেই। তাদের যেটুকু তৃপ্তি হয়, তাঁর, মধ্যে এমন কোনো  নির্দিষ্ট পরিণতি থাকতে পারে না যেমন পুরুষের বেলাতে আছে। শুধু তাই নয়, পুরুষের যেমন বীর্যপাত হয়ে থাকে, মেয়েদের তেমন কিছু নেই। অতএব বীর্যপাতের দরুণ যে আলাদা একটা সুখের অনুভূতি, মেয়েদের তরফে বুঝি তেমন জিনিসের কোনো প্রশ্নই নেই।
বলা বাহুল্য এ সকল ধারণা একেবারেই ভুল। মেয়েরাও প্রকৃতি যৌন সুখ পেতে পারে এবং সেই সুখ বাড়তে বাড়তে পুরুষের মতোই চরম পরিণতিতে গিয়ে পৌঁছতে পারে। পুরুষের মতো বলা ঠিক হলো না, কারণ ওদের তৃপ্তির যখন সেই চরম মুহূর্ত উপস্থিত হয় তখন পুরুষের চেয়েও তাঁর সম্ভোগ ব্যাপকতা ও গভীরতা অনেক বেশি। এর কারণ পুরুষ যৌন তৃপ্তি অনুভব করতে পারে একমাত্র তাঁর লিঙ্গটির দ্বারা। কিন্তু নারী সেই সুখ অনুভব একসঙ্গে তিনটি যৌন অঙ্গের দ্বারা,– প্রথম অঙ্গ যোনি, দ্বিতীয় অঙ্গ শিশ্নিকা, তৃতীয় ওঞো জরায়ু। চরম ক্রিয়ার সময় পুরুষের কেবল লিঙ্গটিতেই যেমন বিশিষ্ট প্রকার আক্ষেপ ঘটতে থাকে, নারীর বেলা ঠিক তেমনি ধরনের আক্ষেপ ঘটতে থাকে উপর্যুপরি ঐ তিনটি স্থানে। একদিকে যেমন যোনিগাত্রের মাংসপেশীগুলির ঘন ঘন সংকোচনের ক্রিয়া চলতে থাকে অন্যদিকে তেমনি শিশ্নিকার ক্ষুদ্র অঙ্গটি পুরুষের লিঙ্গের মতোই উত্তেজনায় দাঁড়িয়ে উঠে তারই মতো চাঞ্চল্য অনুভব করতে থাকে। আবার জরায়ুর বহির্মুখটি তখন একটু নিচের দিকে অগ্রসর হয়ে এসে ঘন ঘন খোলা বোজার প্রক্রিয়ার দ্বারা পাম্পের মতো যেন কিছু শুষে নেবার প্রয়াস করতে থাকে, এটা যেন পুরুষের শুক্রকে ভিতরে টেনে নেবার প্রয়াস। এই যে তিন দিক থেকে তিন রকমের চাঞ্চল্য শুরু হয়ে যায়, এর দ্বারা অনেক মেয়েদের যোনির মধ্যে ঐ সময়ে কিছু রসক্ষরণও হয়ে থাকে। সে রস যদিও শুক্রের মতো নয় এবং যদিও তা পরিমাণে প্রচুর নয়, কিন্তু তবুও সেটা তৃপ্তিকালীন স্রাব। তাঁর মধ্যে থাকে যোনিমধ্যস্থ ছোটখাটো রসস্রাবী গন্ডগুলির রস, এবং জরায়ুর মুখ থেকে পুনঃ পুনঃ চাপের দ্বারা নির্গত হবে না এ কথা মনে করাও ভুল। প্রকৃতপক্ষে অনেকেরই কিছু একটা ক্ষরণ হয়ে থাকে এবং সেটা তারা টের পায়।
পুরুষ ও নারীর যৌন তৃপ্তির পার্থক্য এই, যে পুরুষের লিঙ্গটির সেই সময়কার আচরণ চোখেও দেখা যায় এবং যোনিমধ্যে অনুভব করতেও পারা যায়। কিন্তু নারীর গভীর অঙ্গ সমূহে যা ক্রিয়া হবার তা হতে থাকে ভিতরে, সুতরাং সে নিজে ছাড়া অপর কেউ তাঁর বিন্দুমাত্র আভাস পায় না। কিন্তু সেদিক দিয়ে কিছু বোঝা না গেলেও কোনো এক গভীরতম তৃপ্তির সূচনার তাঁর নাসারন্ধ্র ফুলে ওঠে, ঘন ঘন নিঃশ্বাস পড়তে থাকে, চোখের তারা দুটি বড় হয়ে উঠে, গলার শিরাগুলি ফুলে ওঠে, সারা দেহ থর থর করে কাঁপতে থাকে, অনেক নারী সঙ্গমে চরমতৃপ্তি পর্যায়ে পোঁছে মুখ দিয়ে আহ…উহ…ওহ প্রভৃতি নানারকম শীৎকার ধ্বনি করতে থাকে এবং দুই বাহু দিয়ে স্বামীর গন্ডদেশ এবং দুই পা দিয়ে নিতম্ব জড়িয়ে ধরে। স্বামীকে যোনি থেকে লিঙ্গ বিচ্ছিন্ন করতে দিতে চায় না এবং অন্তিম মুহূর্তে হয়তো একবার অত্যন্ত শিউরে উঠে দেহটি স্থির হয়ে যায়, চোখের পল্লব বুজে যায়, এবং মাথাটি লতার মতো লুটিয়ে পড়ে। তখন বোঝা যায় তৃপ্তি হতে হতে এবার অবসান ঘটেছে। এই তৃপ্তির শেষ মুহূর্তটি উপস্থিত হবার সময় মেয়েরা কেউ কেউ দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে, আর গোঙানির মতো একরকম শব্দ করতে থাকে। এই অবস্থাকে বলে সঙ্গমে নারীর চরম তৃপ্তি বা ইতিহর্ষ লাভ, ইংরেজী পরিভাষায় যাকে বলা হয় orgasm. প্রতিবারের সঙ্গমে নারী একাধিকবার চরমতৃপ্তি বা ইতিহর্ষ লাভ করতে পারে(Mltiple Orgasm)।
আরো এক দিকে দিয়ে পুরুষে ও নারীতে তৃপ্তি উপভোগের পার্থক্য আছে। পুরুষের একমাত্র লক্ষ্য কতক্ষণে সে যোনিমধ্যে লিঙ্গটিকে প্রবেশ করাতে পারবে। কোনোগতিকে এইটুকু ঘটাতে পারলেই তাঁর কার্যসিদ্ধি । লিঙ্গটি যখন সম্পূর্ণ ভাবে ঢুকে গেল তখন থেকে উভয়পক্ষের নিতম্বের উত্থান পতনের দ্বারা মৈথুনের প্রক্রিয়াটি হতে থাকলো, অল্পক্ষণ পরেই শুক্রপাতে পুরুষের তৃপ্তির অবসান হলো। পুরুষ ভাবে যে এ ছাড়া নারীকে খুশী করে সঙ্গমে সম্মত করবার জন্য। পরস্পরের যৌন অঙ্গই যখন সংযুক্ত হয়ে গেছে তাঁর পরে শুধু মৈথুন ক্রিয়াটি শেষ করা ছাড়া আর অন্য কিছু করবার প্রয়োজন কি?
কিন্তু নারী যেমন উপভোগ চায় তা ঠিক এই ধরণের নয়। প্রথমত যোনির সুখের দিকে তাঁর আসল লক্ষ্যী নয়। যোনিকে সঙ্গমে প্রবৃত্ত করা সম্বন্ধে প্রথম দিকটাই তাঁর রীতিমতো আতংকই থাকে। সে জানে যে যোনিস্থান তখনও এ কাজের জন্য প্রস্তুতই হয় নি। উত্তেজনার রসে ভিজে যথেষ্ট নরম এবং স্ফীত না হলে লিঙ্গ প্রবেশে যোনিতে যথেষ্ট ব্যথায় লাগবে। সুতরাং ওর জন্য আপাতত ব্যগ্র নয়। আর এই কথাটি শুনতে আশ্চর্য লাবে, কিন্তু যোনিটিই তাঁর তৃপ্তি অনুভবের সর্বশ্রেষ্ঠ কাম কেন্দ্রস্থান নয়। বলতে গেলে বহু তৃপ্তি-পিপাসিত যৌন কেন্দ্র তাঁর শরীরের সকল অঙ্গে ছড়ানো আছে, সে চায় তাঁর প্রিয়কে সকল অঙ্গ দিয়েই উপভোগ করতে। তাঁর মুখে, কানে, চোখে, গলায়, বগলে, বুকে,স্তনের বৃন্তে, নাভীতে, উরুতে, কামাদ্রিতে, শিশ্নিকাতে, মূলাধারপীঠে, এমন বহু জায়গায় বহু যৌন অনুভূতির ক্ষেত্র আছে যার কাছে যোনিটি তুচ্ছ হয়ে যায়। নারী আগে চায় সেই সকল স্থানেই প্রিয়ব্যক্তির স্পর্শ বৈদ্যুতিক স্পর্শ। স্পর্শের দ্বারা নারী যেমন দেহে মনে উত্তেজিত হয়ে ওঠে, এমন আর কোনো কিছুতেই নয়। মিলনের প্রথম অবস্থা থেকে তাঁর সারা দেহটাই কেন্দ্রে কেন্দ্রে তৃপ্তি লাভের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে। তাঁর দেহের বিশেষ বিশেষ স্থানে প্রিয় ব্যক্তি স্পর্শ কিংবা চুম্বানাদি কিংবা মৃদু দংশনের দ্বারা উদ্দীপিত করলেই নারী মনের মতো তৃপ্তি পেতে শুরু করে। সেই সকল বিষয়ে কিছুমাত্র গ্রাহ্য না করে যদি পুরুষের কেবল যোনির দিকেই লক্ষ্য যায়, এবং যদি সে কেবল তাঁর মধ্যেই লিঙ্গটি প্রবেশ করিয়ে নিশ্চিন্ত হয়, তবে তখন নারীর মনে একটা হতাশা জাগে। সে নিশ্চিন্ত বুঝে নেয় যে অতঃপর আর একটুও বিলম্ব হবে না। এবার কেবল মৈথুনেই পুরুষের সমস্ত আগ্রহ নিযুক্ত হয়ে থাকবে, আর অচিরেই তাঁর তৃপ্তির আশার সমাপ্তি ঘটবে।
নারী কিন্তু প্রথম থেকেই কামনা করে এসেছে যে এমনভাবে যেন সব কিছু তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে না যায়। তাঁর আন্তরিক ইচ্ছাটুকু ছিল এই যে, আগে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ ধীরে ধীরে তৃপ্তিলাভ করুক। চুম্বনে, আলিঙ্গনে, আস্বাদে, আঘ্রাণে, ধর্ষণে, মর্দনে, লেহনে এবং চোষণে শরীরের সকল অংশ আগে আনন্দবোধের চরম সীমায় গিয়ে উপনীত হোক, পর্যাপ্ত রসস্রাবে যোনিস্থান প্লাবিত হয়ে যাক, অবশেষে যথাসময়ে পুরুষের লিঙ্গটি যোনি মধ্যে প্রবেশ করে তৃপ্তির চরম শীর্ষে তাকে নিয়ে যাক। তখন আর তাঁর কঠিন লিঙ্গ প্রবেশে কোনো আতংক নেই, ব্যথাদায়ক মৈথুন ক্রিয়ার বিরুদ্ধেও কোনো আপত্তি নেই, কারণ ততক্ষণে সে এরই জন্য রীতিমতো প্রস্তুত হয়ে উঠেছে। তখন পুরুষের চরম মুহূর্তের সময়টিতে তারও মুহূর্ত এক সঙ্গেই মিলিত হয়ে যাবে, আর দুজনে একত্রেই মহা তৃপ্তি উপভোগ করবে।
 নারী চায় এমনি ধরনের সর্বাঙ্গীণ সঙ্গম। পুরুষ ইচ্ছা করলে নারীকে প্রত্যেক বারেই এমনি সঙ্গমদানে তৃপ্ত করতে পারে। কিছুক্ষণ ধৈর্য ধরে কেবল শৃঙ্গারের উপাচারগুলি প্রয়োগ করতে থাকলেই হলো। তাকে আবিস্কারের দ্বারা জেনে নিতে হবে যে, কোন বিশেষ প্রক্রিয়াতে তাঁর সঙ্গিনী সবচেয়ে বেশি রকম উত্তেজিত হয়। সুতরাং তাকে নিত্য নতুন নতুন ভাবে পরীক্ষা করে দেখতে হবে। ইচ্ছা এবং চেষ্টা থাকলে এটুকু আবিস্কার করতে পারা পুরুষের পক্ষে কিছুই কঠিন নয়,এবং তাতে তাঁর ধৈর্যচ্যুতিও হবার কথা নয়, কারণ সঙ্গমের সঙ্গিনীকে উত্তেজিত করে তোলাবার মধ্যেও এক রকমের আনন্দ আছে। পুরুষ এই নিয়েই নিযুক্ত থেকে সেই সময় কিছুক্ষণ ধৈর্য ধরলে তাঁর বিশেষ ক্ষতিও হবে না। কারণ শেষ পর্যন্ত সার্থক সঙ্গম ঘটবেই, এবং যেটুকু নিজস্ব তৃপ্তি তাঁর কাম্য সেটুকু সে পাবেই। তাঁর আগে সঙ্গিনীকে সে উত্তমরূপেই উত্তেজিত করে নিক। যখন সে উত্তেজনার আতিশয্যে চরম সীমার কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছবে, তখন পুরুষ নিশ্চিন্ত মনে মৈথুন ক্রিয়াতে নিযুক্ত হয়ে পড়ুক। যদি নারীর তৃপ্তি তখন আগে ঘটে যায়, তাতেও কোনো ক্ষতি নেই। নারীর তৃপ্তি লাভের পরেও পুরুষের তৃপ্তিটুকু অনায়াসে ঘটতে পারে এবং তা বেশি পরিমাণেই। কিন্তু পুরুষের তৃপ্তির পরে নারীর তৃপ্তি পাওয়া আর সম্ভব হয় না। পুরুষের সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সমস্ত অঙ্গ শিথিল হয়ে যায়, তাঁর লিঙ্গ সংকুচিত হয়ে যায়, তখন আর সে চেষ্টা করেও কিছু করতে পারে না।
সঙ্গমকালে আরো কয়েকটি বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হয়, তাহলে খুব তাড়াতাড়ি তাঁর সমাপ্তি হয় না। প্রথমত লিঙ্গ প্রবেশ করাবার সময় সেটি পিচ্ছিল করা থাকলেও প্রথমেই সবটুকু ঢুকিয়ে দেবার জন্য ব্যগ্র হওয়া উচিত নয়। খানিকটা ঢুকলেই অমনি থাক, একটু বিশ্রাম। দ্বিতীয় বা তৃতীয় বারের চেষ্টায় সবটুকু ধুকে গেলে তখন আবার কিছু বিশ্রাম। তারপর ধীরে ধীরে মৈথুন ক্রিয়া শুরু। বীর্যপাত হবার উপক্রম দেখলেই আবার কিছুক্ষণ বিশ্রাম। সেই ভাবটা কেটে গেলে আবার তখন মৈথুন শুরু। এমনিভাবে অগ্রসর হতে  থাকলে শুক্রপাত খুব তাড়াতাড়ি হয়না। এই সময় পরস্পরে কেমন বোধ করছে একটু জানাজানি করা ভালো। তাহলে নারীর তৃপ্তি যখন আসন্ন তখন সময় বুঝে মৈথুন শেষ করা যায়। পুরুষের বীর্যপাতের পরেও নারীর তৃপ্তি হতে কিছু বিলম্ব থাকে তাহলে পুরুষ তৎক্ষণাৎ লিঙ্গটি বাইরে বের না করে নিয়ে সেই অবস্থাতেই যোনির মধ্যে রেখে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে থাকবে। একটু বিশ্রাম নিলেই আবার সে মৈথুন নিযুক্ত হতে পারে এবং নারীকে শেষ পর্যন্ত তৃপ্তি দিতে পারে। দুজনের তৃপ্তির পরেও লিঙ্গ কিছুকাল যোনির মধ্যে তেমনিভাবেই রাখা দরকার, কারণ নারীর বেলা তৃপ্তির পরের রেশটুকুও একটু দীর্ঘস্থায়ী। তাড়াতাড়ি বিযুক্ত হলে সেটুকু তাঁর বাদ পড়ে যায়।
 কোনো কোনো স্বামী ভালো রকমেই জানে যে সঙ্গমে কেবল নিজের তৃপ্তি পাওয়াটাই যথেষ্ট নয়, স্ত্রীকেও সেই তৃপ্তি দেওয়া দরকার। তারা প্রকৃতই স্ত্রীকে ভালোবাসে, তাই যথাসম্ভব চেষ্টাও করে যাতে স্ত্রী তার ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত না হয়। কিন্তু কতকগুলি ভুল ধারণার ফলে তাদের সে ঐকান্তিক চেষ্টাও অনেক সময় ব্যর্থ হয়ে যায়। তারা এই ভয়েতেই সব চেয়ে বেশি অস্থির হয় যে, মৈথুন ক্রিয়াকে তারা বেশিক্ষণের জন্য বিলম্বিত করতে পারবে না। কিছুক্ষণ মৈথুনের পরেই তাদের বীর্য লিঙ্গ থেকে খসে পড়ে যাবে, এবং স্ত্রীকে তৃপ্তি দেবার তখন কোনো সুযোগই হবে না। তাই তারা প্রাণপণে চায় তাদের রতিশক্তিকে বাড়িয়ে নিতে, অর্থাৎ মৈথুন ক্রিয়ার সময়টাকে যথাসম্ভব বিলম্বিত করতে। ঐ সাময়িক ক্রিয়াটির উপরেই তাদের যত লক্ষ্য। তাদের ধারণা ওই ক্রিয়া যতই দীর্ঘ হবে, ততই সঙ্গিনী সুখী হবে। তাই সেই শক্তিকে দীর্ঘতর করতে হঠযোগ মুষ্টিযোগ ব্যায়ামযোগ প্রভৃতি কোনো যোগেরই ক্রটি হয় না। তারা হেকিমের কাছে ছোটে ইউনানী মলম সংগ্রহের জন্য, কবিরাজের কাছে ছোটে ধ্বজবজ্রস্কুশ বটিকার জন্য, ডাক্তারের কাছে ছোটে হরমোন ও ভিটামিন প্রভৃতি ইঞ্জেকশনের জন্য।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad