গত ৪ বছরে ১০০ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন বলে দাবি ম্যাট স্টোনের।
৪ বছরের ১০০ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন ম্যাট স্টোন নামক এক মার্কিন পুরুষ। ম্যাটের এই সন্তানগুলো গর্ভে ধারণ করেছেন বিভিন্ন বয়সের মার্কিন নারী। তাদের কেউ অন্যের স্ত্রী, কেউ আবার অবিবাহিত নারী, কেউবা সমকামী নারী। তবে শারীরিক সম্পর্ক ছাড়াই সন্তানগুলোর জন্ম হয়েছে। কারণ, ম্যাট স্টোন আসলে একজন শুক্রানু দাতা।

বিনামূল্যে শুক্রানু দান করার জন্য ৪ বছর আগে ফেসবুকে এই পেজটি খুলেছিলেন ম্যাট স্টোন।
ফেসুবকে বিজ্ঞাপন দেওয়ার মাধ্যমে বিনামূল্যে শুক্রানু বিতরণ করেন তিনি। সাধারণত শারীরিক সমস্যার কারণে স্বাভাবিক উপায়ে সন্তান জন্মদানে সক্ষম নয় এমন দম্পতি, কোনো বিধবা বা ডিভোর্সি নারী ও সমকামী নারীরাই ম্যাটের ক্লায়েন্ট। তাদের কাছ থেকে শুক্রানুর বিনিময়ে কোনো প্রকার অর্থ নেন না ম্যাট স্টোন। কারণ, বিষয়টিকে তিনি অন্যের সেবা করা হিসেবেই দেখেন।
ম্যাটের ভাষায়, ‘সব সময় শুক্রানু বিনামূল্যে প্রদান করি আমি। মানুষকে সাহায্য করতে এই কাজ করি, অর্থের জন্য নয়। আর্থিকভাবে আমি যথেষ্ট স্বচ্ছল।’ ম্যাট স্টোনের বয়স ৩৭ বছর। বসবাস যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনায়। পেশায় তিনি একজন তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক কর্মী।

ম্যাটের শুক্রানুতে জন্ম নেওয়া একটি শিশুর খবর সম্বলিত পোস্ট শোভা পাচ্ছে ম্যাটের ফেসবুক পেজে। চলতি বছর ২০ জুন এই পোস্টটি করেছিলেন ম্যাট।
১০ বছর আগে একটি স্পার্ম ব্যাংকের হয়ে কাজ করতে গিয়ে প্রথমবারের মতো শুক্রানু দান করার বিষয়ে জানতে পারেন ম্যাট। সেই থেকে এ নিয়ে কিছু করার চিন্তা মাথায় ছিল তার। ৪ বছর আগে ফেসবুকে তাই নিজের নামে একটি পেজ খুলেন ম্যাট স্টোন। সেই পেজের নাম দিয়েছেন ম্যাট স্টোন (শিপিং ডোনার)। সেই ফেসবুক পেজেই নিজের শুক্রানু দানের বিষয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন তিনি। এর প্রেক্ষিতে খুব অল্প দিনেই বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সাড়া পেতে শুরু করেন ম্যাট স্টোন।
সেই থেকে এখনো চলছে তার শুক্রানু দানের বিষয়টি। নিয়মিতই এই বিষয়ে ফেসবুকে পেজে আপগ্রেড বিজ্ঞাপন দেন ম্যাট। এ ছাড়া পেজটি তার শুক্রানুতে জন্ম নেওয়া বিভিন্ন ছেলেমেয়ের ছবিতে ভরা। প্রতিদিন ৮-১৯ জন ক্লায়েন্ট তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেও জানিয়েছেন ম্যাট স্টোন।
ম্যাট আরো বলেছেন, ‘আমার শুক্রানু নিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া নারীদের মধ্যে ৯০ শতাংশ সমকামী দম্পতির, ৫ শতাংশ স্বাভাবিক দম্পতির এবং ৫ শতাংশ সিঙ্গেল (ডিভোর্সি বা বিধবা)।’

ছোটবেলা থেকেই ম্যাট স্টোন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী।
তবে যে কেউ চাইলেই যে ম্যাট তাকে শুক্রানু দান করেন তা নয়। যে শিশুগুলো জন্ম নিবে তাদের ভবিষ্যত যেন উজ্জ্বল হয়, তাদের যেন কখনো কষ্ট করতে না হয়-এই বিষয়গুলো আগেই নিশ্চিত করে নিতে চান ম্যাট স্টোন। সেজন্য যারা শুক্রানু নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন তাদের কাছে শুরুতেই একটি প্রশ্নপত্র ধরিয়ে দেন ম্যাট। সেই প্রশ্নপত্রে জানতে চাওয়া হয় ওই দম্পতি বা নারীর সংসার জীবন সুখের কিনা, পারিবারিক জীবনে তাদের কোনো বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে কিনা, তাদের আর্থিক অবস্থা কেমন, তারা সন্তানের জন্য পযাপ্ত সময় ব্যয় করার ক্ষমতা রাখেন কিনা ইত্যাদি। প্রশ্নের উত্তরে সন্তুষ্ট হলেই কেবল ওই নির্দিষ্ট ক্লায়েন্টকে নিজের শুক্রানু দান করেন ম্যাট স্টোন। এই বিষয়ে ম্যাটের বক্তব্য হলো, ‘আমি অনাগত সেই সন্তানগুলোকে এই পৃথিবীতে অসুখী অবস্থায় দেখতে চাই না।’

এক ক্লায়েন্টকে শুক্রানু পাঠানোর প্রস্তুতিকালে ছবিটি তুলেছেন ম্যাট স্টোন।
তার শুক্রানুতে জন্মালেও এই সন্তানগুলোকে কখনো নিজের বলে দাবি করতে রাজি নন ম্যাট স্টোন। তার মতে, ‘আমার শুক্রানুতে জন্মালেও সন্তানগুলো কিন্তু ওই দম্পতিদেরই। আমি সেভাবেই ভাবি। তাই তাদের (সন্তানদের) ওপর আমি কোনো দাবি রাখতে চাই না। আবার তাদের সঙ্গে কখনোই দেখা করতে চাই না। কারণ, আমি চাই না তারা আমাকে লুকিয়ে থাকা পিতা হিসেবে জানুক।’
শুক্রানু দান করার বিষয়-আশায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে কোনো আইন নেই। তাই এই বিষয়টি নিয়ে ম্যাট স্টোনকেও কোনো প্রকার ঝামেলা পোহাতে হয় না। তবে শুক্রানু দান করার ক্ষেত্রে ম্যাট কিন্তু যথেষ্ট সচেতন। তার শুক্রানু থেকে একটি সুস্থ সবল শিশুর জন্ম দিতে চাইলে তাকেও যে সুস্থ-সবল ও নিরোগ থাকতে হবে সেই বিষয়টি বেশ ভালোই জানা আছে ম্যাটের। তাই সব সময়ই নিজের সুস্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখেন তিনি। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে শরীরের কোনো প্রকার অসুখ-বিসুখ দানা বেঁধেছে কিনা।

নিজেকে সবসময় নিরোগ ও সুস্থ রাখার বিষয়ে সচেতন থাকেন ম্যাট।
শুক্রানু দান করে ৪ বছরে ১০০ সন্তানের জন্ম দিলেও ব্যক্তি জীবনে ম্যাট কিন্তু ২ সন্তানের জনক। এই সন্তান দুটি শারীরিক মিলনের মাধ্যমেই জন্ম দিয়েছেন তার প্রেমিকা। ভবিষ্যতে দাম্পত্য জীবনে আরও সন্তান নেওয়ার ইচ্ছে রয়েছে তার। তবে শুক্রানু দান করার মাধ্যমে আর কতদিন সন্তান জন্ম দিবেন সেই বিষয়ে এখনই একটা ডেডলাইন ঠিক করে রেখেছেন ম্যাট স্টোন।
তার ভাষায়, ‘বেঁচে থাকলে এই কাজটি (শুক্রানু দান করা) আমি ৪৫ বছর পযন্তই করব। এর পরে আর নয়।’
বিনামূল্যে শুক্রানু দান করার জন্য ৪ বছর আগে ফেসবুকে এই পেজটি খুলেছিলেন ম্যাট স্টোন।
ম্যাটের ভাষায়, ‘সব সময় শুক্রানু বিনামূল্যে প্রদান করি আমি। মানুষকে সাহায্য করতে এই কাজ করি, অর্থের জন্য নয়। আর্থিকভাবে আমি যথেষ্ট স্বচ্ছল।’ ম্যাট স্টোনের বয়স ৩৭ বছর। বসবাস যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনায়। পেশায় তিনি একজন তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক কর্মী।
ম্যাটের শুক্রানুতে জন্ম নেওয়া একটি শিশুর খবর সম্বলিত পোস্ট শোভা পাচ্ছে ম্যাটের ফেসবুক পেজে। চলতি বছর ২০ জুন এই পোস্টটি করেছিলেন ম্যাট।
সেই থেকে এখনো চলছে তার শুক্রানু দানের বিষয়টি। নিয়মিতই এই বিষয়ে ফেসবুকে পেজে আপগ্রেড বিজ্ঞাপন দেন ম্যাট। এ ছাড়া পেজটি তার শুক্রানুতে জন্ম নেওয়া বিভিন্ন ছেলেমেয়ের ছবিতে ভরা। প্রতিদিন ৮-১৯ জন ক্লায়েন্ট তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেও জানিয়েছেন ম্যাট স্টোন।
এভাবেই প্যাকেটজাত করে ক্লায়ান্টকে শুক্রানু পাঠান ম্যাট স্টোন। তবে এ জন্য কিন্তু তিনি কোনো অর্থ নেন না। কাজটি সেবা হিসেবেই দেখেন এই মার্কিন পুরুষ।
ম্যাট দাবি করেছেন, ‘৪ বছর আগে ফেসবুক পেজটি খোলার পর অসংখ্য নারীকে সন্তানের মা হওয়ার জন্য শুক্রানু দান করেছি আমি। গত ৪ বছরে কম করেও ১০০ সন্তানের জন্ম হয়েছে আমার শুক্রানু দিয়েই। এর মধ্যে ৭০ জনের নাম-পরিচয় জানা রয়েছে আমার। বাকিদের বাবা-মা আমাকে সন্তানের জন্মের বিষয়ে আমাকে অবহিত করেনি। তবে আমার ধারণা, সন্তানের সংখ্যাটা ১০০-এর বেশিই হবে। বর্তমানে আরো ১০-২০ জন নারী সন্তানসম্ভবা।’ম্যাট আরো বলেছেন, ‘আমার শুক্রানু নিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া নারীদের মধ্যে ৯০ শতাংশ সমকামী দম্পতির, ৫ শতাংশ স্বাভাবিক দম্পতির এবং ৫ শতাংশ সিঙ্গেল (ডিভোর্সি বা বিধবা)।’
ছোটবেলা থেকেই ম্যাট স্টোন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী।
এক ক্লায়েন্টকে শুক্রানু পাঠানোর প্রস্তুতিকালে ছবিটি তুলেছেন ম্যাট স্টোন।
শুক্রানু দান করার বিষয়-আশায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে কোনো আইন নেই। তাই এই বিষয়টি নিয়ে ম্যাট স্টোনকেও কোনো প্রকার ঝামেলা পোহাতে হয় না। তবে শুক্রানু দান করার ক্ষেত্রে ম্যাট কিন্তু যথেষ্ট সচেতন। তার শুক্রানু থেকে একটি সুস্থ সবল শিশুর জন্ম দিতে চাইলে তাকেও যে সুস্থ-সবল ও নিরোগ থাকতে হবে সেই বিষয়টি বেশ ভালোই জানা আছে ম্যাটের। তাই সব সময়ই নিজের সুস্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখেন তিনি। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে শরীরের কোনো প্রকার অসুখ-বিসুখ দানা বেঁধেছে কিনা।
নিজেকে সবসময় নিরোগ ও সুস্থ রাখার বিষয়ে সচেতন থাকেন ম্যাট।
তার ভাষায়, ‘বেঁচে থাকলে এই কাজটি (শুক্রানু দান করা) আমি ৪৫ বছর পযন্তই করব। এর পরে আর নয়।’
No comments:
Post a Comment