ব্যাঙের মতই জলে থাকে রোহিত ও মঙ্গল! - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, 2 July 2018

ব্যাঙের মতই জলে থাকে রোহিত ও মঙ্গল!



ব্যাঙের মতোই জলে থাকে রোহিত ও মঙ্গল দুই ভাই! দুজনই শিশু। দিনে ১২-১৪ ঘণ্টা পানির গামলায় বসে থাকে দু’জনে। রাতে ঘুমোনোর সময় তাদের গায়ে দেওয়া হয় ভেজানো কম্বল। গরম, বর্ষা, কনকনে ঠান্ডাতেও পানি ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে পারে না তারা। শরীর পানিতে না-ভিজলে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।
ভারতের উড়িশা রাজ্যের তাঁতনগর মহকুমার ডোবরোবাসার বাসিন্দা মাধব সোয় ও নাগুরি নামের এক দম্পতির সন্তান তারা। রোহিতের বয়স পাঁচ আর মঙ্গলের তিন। অনেকটা যেন রূপকথার ‘উভচর-মানুষ’ দু’জনেই !
রোহিত ও মঙ্গলের বাবা দিনমজুর। মা নাগুরি গৃহবধূ। দরিদ্র পরিবার। জন্মের পর থেকেই শরীর খারাপ থাকত দু’টি শিশুর। দিনভর কান্নাকাটি। অন্যদের মতো তাদের বাবা মাও ভেবেছিলেন বাচ্চা তো কাঁদবেই। কিন্তু একদিন দেখেন, আচমকা গায়ে পানি পড়তেই কান্না থামায় রোহিত। এর পর থেকে কাঁদলেই বড় ছেলের গায়ে পানি ছিটিয়ে দিতেন মা-বাবা, আত্মীয়রা। জন্মের পর ছোট ছেলে মঙ্গলের কান্না এ ভাবেই থামাতেন তাঁরা। নিরক্ষর গরিব গ্রামের কেউ-ই তার কারণ খোঁজার চেষ্টা করেননি। দুই ছেলেকে শান্ত করতে বাড়ির উঠোনে পানিভর্তি গামলায় বসিয়ে রাখা রাখতেন সকলে। খেলাধুলো করলেও কিছু ক্ষণ পর পরই শরীর চাঙ্গা করতে পানিতে গলা ডুবিয়ে বসে থাকে রোহিত, মঙ্গল।
এ খবর পেয়ে ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্থানীয় প্রশাসন। ছেলে দু’টিকে বড় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করানো হয়।
চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ‘এক্টোডারমাল ডিসপ্লেসিয়া’ নামে অত্যন্ত বিরল রোগে আক্রান্ত দু’টি শিশু। এখনও পর্যন্ত গোটা বিশ্বে মাত্র ৭ হাজার মানুষ ওই রোগের শিকার। চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, প্রতি আড়াই লক্ষ মানুষের মধ্যে এক জন ওই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। বংশ পরম্পরার তা ছড়িয়ে যায়। রোহিতদের মা-বাবার মধ্যে এক জন রোগটির ‘বাহক’ বলে জানান চিকিৎসকেরা।
রোগটির সমস্যা কী? চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, রোহিতদের শরীরে কোনও ঘর্মগ্রন্থি নেই। তা-ই দেহের অভ্যন্তরীণ তাপ বাইরে বের হতে পারে না। শরীর অত্যধিক গরম হয়ে যাওয়ায় অস্বস্তি হতে থাকে। পানির সংস্পর্শে থাকলে তা-ই রোগী আরাম পায়। এই রোগ সারাতে তেমন কোনও ওষুধ এখনও তৈরি হয় নি।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad