কুইন্টাল ৫০০ টাকা মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে ময়দার। আর কাঁচামালের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন বেকারি শিল্পের মালিকরা। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে পাউরুটির দাম বাড়ানোর কথা ভাবছেন তাঁরা। ডজনে ১০ টাকা করে পাউরুটির দাম বাড়াতে চাইছে মালিকপক্ষের সংগঠন। কেক, বিস্কুটের ক্ষেত্রেও সমান দাম বৃদ্ধি চাইছেন তাঁরা। সব মিলিয়ে দামের ছেঁকায় গরিব নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের নাগাল ছাড়া হতে চলেছে পাউরুটি, কেক এবং বিস্কুট। লাইন্সম্যানরা এখন বেকারি থেকে এক ডজন রুটি কেনেন ৫০ টাকায়। বাজারে বিক্রি করেন ৬০ টাকায়। মূল্যবৃদ্ধির কারণে এবার সেই দাম বেড়ে হতে পারে ৭০ টাকা। আর খোলা বাজারে রুটি বিক্রি হবে ৬ এর পরিবর্তে ৭ টাকায়। এমনিতেই মূল্যবৃদ্ধির জেরে বাজারে পাউরুটির বিক্রির পরিমাণ কমছে। ফলে যথেষ্ট সঙ্কটের মধ্যে ছিল বেকারি শিল্প। আবার এই সময়কালে আচমকা ময়দার দাম বেড়ে যাওয়ায় পাউরুটির দাম বাড়ানো অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে বলে দাবি মালিকপক্ষের।পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি, রামনগর,এগরা, কালিনগর, কোলাঘাট, তমলুক এলাকায় রয়েছে শতাধিক বেকারি শিল্প।
প্রত্যেকটি বেকারি শিল্পের মালিক পাউরুটির মূল্য বৃদ্ধির দাবি তুলেছেন। দ্রুতই বেকারি মালিক এবং লাইন্সম্যানদের নিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে রুটির বর্ধিত মূল্য নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন কন্টাই বেকারি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অনিল কুমার পাল। বলেন," কাঁচামালের দাম বেড়েছে তাই পাউরুটির দাম বাড়ানো অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে। আগে এক কুইন্টাল ময়দায় পাউরুটি উৎপাদন করে আমরা ৪০০- ৫০০ টাকা লাভ পেতাম। আগের লাভটাই এখন উৎপাদন খরচের মধ্যে পড়ছে।" একই কথা কাঁথির কহিনুর বেকারির মালিক শেখ মুক্তার আলিরও। আলোচনার মাধ্যমে পাউরুটির বর্ধিত মূল্য নির্ধারণ করার কথা জানিয়েছেন বেকারি লাইন্সম্যান ইউনিয়নের কাঁথি মহকুমা কমিটির সভাপতি অতনু গিরিও। আগে প্রতি কুইন্টাল ময়দার দাম ছিল ১৯৮০-২০০০ টাকা। কিন্তু চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে প্রতি কুইন্টাল ময়দার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে আরও ৫০০ টাকা করে। আর আচমকা এই দাম বৃদ্ধির কারণে সঙ্কট দেখা দিয়েছে বেকারি শিল্পে।
বাজারের কথা ভেবে এখনও পাউরুটির মূল্য বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করতে পারেননি বেকারি মালিকরা। ফলে লোকসান বুঝেও পুরনো দামেই তাঁদের বিক্রি করতে হচ্ছে পাউরুটি, কেক এবং বিস্কুট। ছবি- পাউরুটি-বিস্কুট তৈরি চলছে কাঁথির একটি বেকারিতে।

No comments:
Post a Comment