চাঁদনী, ঝাড়গ্রাম : শুক্রবার দিল্লীতে অনাহারে ৩ শিশুর মৃত্যু ঘিরে চূড়ান্ত শোরগোল শুরু হয়েছে গোটা দেশে। শুধু কি তাই, বিদেশেও এই ঘটনায় মুখ পুড়েছে ভারতের।
কিন্তু যে বিষয়টি আপনার জানা নেই তা হল, এই তিন মৃত শিশুর সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে ঝাড়গ্রাম জেলার নাম। কারন, এই তিন মৃত শিশুর মামা বাড়ি ঝাড়গ্রাম জেলারসাঁকরাইল থানা এলাকায়।ঘটনার খবর পেয়েই চূড়ান্ত ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাকরাইল ব্লকের উপর কাঠমুন্ডি গ্রামের বাসিন্দারা। এই গ্রামেই থাকেন মৃত শিশুদের ৩ মামা ও তাঁদের পরিবার। কিন্তু দিল্লীতে যে এমন অনাহারে রয়েছে শিশুরা সে বিষয়ে কিছুই জানতে পারেননি তাঁরা।
সংবাদ মাধ্যমের কাছেই গোটা ঘটনাটি জানতে পারেন বেনু সিংয়ের বাপের বাড়ির লোকেরা। বেনুরা ২ বোন ও ৩ দাদা। মানসিক ভারসাম্য হীন মিনু এখনও জানেন না তাঁর তিন শিশু আর বেঁচে নেই। বেনুর একটাই কথা, পেট ভর্তি খেতে দেওয়া হোক।
শুক্রবার সাঁকরাইল থানার পুলিশ বেনু সিং সহ বাচ্চাদের ছবি নিয়ে তাঁর মামা বাড়ীতে আসে। তাঁরাও ছবি দেখেই বোনকে চিনতে পেরেছেন।
কিন্তু কিভাবে ঝাড়গ্রাম থেকে দিল্লীতে পাড়ি জমাল বেনু সিং?
আসলে ঝাড়গ্রামের কাঠমুন্ডি গ্রামের এক যুবক কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন দিল্লীতে একটি হোটেলে কাজ করত। সেখানেই কাজ করত মথুরার বাসিন্দা মঙ্গল সিং। সেই সুবাদেই ২০০৮ সালে মঙ্গলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয় বেনু সিংয়ের।
বেশ কয়েক বছর আগে বোন বেনু এখানে এসেছিল। তারপর তাঁরা আবার দিল্লীতে ফিরেও যায়। এখানে বেনুর তিন ভাই ও তাদের পরিবার মোটামুটি স্বচ্ছল।সবরকম সরকারি সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন তারা। বাড়িতে খাওয়ার কোনো অভাব নেই। অথচ তাদের ভাগ্নিরা না খেতে পেয়ে মারা গেছে শুনে হতবাক তারা। বোনের খিদের জ্বালায় মাথা খারাপ হয়ে গেছে। এরকম জানলে গ্রামে নিয়ে চলে আসতাম। অন্তত না খেতে পেয়ে মরতো না, বক্তব্য বেনুর দাদাদের।

No comments:
Post a Comment