স্বাধীন ভারতবর্ষে ভেদাভেদ কাম্য নয় ডিএ মামলায় মন্তব্য করলেন হাইকোর্ট! - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 10 July 2018

স্বাধীন ভারতবর্ষে ভেদাভেদ কাম্য নয় ডিএ মামলায় মন্তব্য করলেন হাইকোর্ট!


নিজস্ব প্রতিনিধি: মঙ্গলবার ডিএ মামলার শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত  রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের  ডিএ সংক্রান্ত মামলায় নতুন তথ্য আদালতকে দিতে পারলেন না । এদিনও  আদালতে গত বেশ কয়েকবার মামলার শুনানিতে রাজ্যের যে বক্তব্য ছিল আজও তার কোন অন্যথা হয়নি । অর্থাৎ সরকারি কর্মচারীদের ডিএর বৈষম্য প্রসঙ্গে রাজ্য এদিনও বলে দিল্লী চেন্নাইয়ে মূল্যবৃদ্ধির উপর নির্ভর করে সেখানকার রাজ্য সরকারী কর্মচারীদের ডিএ দেওয়া হয়। এবং কলকাতার মূল্যবৃদ্ধির উপর নির্ভর করে কর্মীদের ডিএ দেওয়া হয় এখান কার সরকারি কর্মচারীদের ।তিনি আরও বলেন , সরকারের উচিত বিবেকের উপর নির্ভর করে ডিএ দেওয়া হয় দুটি জায়গায় ভিন্ন অনুপাতে । এরপর একের পর এক প্রশ্নবাণ উড়ে আসে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তের উদ্দেশে ।  বিচারপতি এজিকে বলেন,
মহার্ঘভাতায় সরকারী কর্মচারীরা জমি বাড়ি কেনেন না । ডিএ খাদ্য ও অসুধপত্র মতো অত্যাবশ্যক  সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়। তাহলে কেন এবিষয়ে এত ভেদাভেদ রয়েছে সরকারের মধ্যে। স্বাধীন দেশের আদালত যদি দেখে কোথাও বৈষম্য হচ্ছে তাহলে আদলত তা মানবে নাএবং সেবিষয়ে তাঁরা হস্তক্ষেপ করবেন । ডিএ নিয়ে দিল্লি, চেন্নাই এর সঙ্গে এ রাজ্যের কর্মচারীদের বৈষম্য নিয়ে সরব হতে দেখা গেল বিচারপতিদের । এদিন রাজ্য নতুন করে হলফনামা দিতে চাইলে তা খারিজ করে দেয় আদালত । দীর্ঘ দিন ধরে মামলাটি চলছে তাই নতুন আর সময়  দেওয়া যাবে না , রাজ্যকে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন বিচারপতি দেবাশীষ কর গুপ্ত ও বিচারপতি শেখর ববি সরফের  ডিভিশন বেঞ্চ। পাশাপাশি এদিন বিচারপতি শেখর ববি সারাফও এজিকে প্রশ্ন করেন যে আমাকে দেখান দিল্লী এবং চেন্নাইতে সরকারি কর্মচারীদের যে ডিএ দেওয়া হয় তা আইনসম্মত কি না ? উত্তরে এজি বলেন , না ডিএ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট আইন নেই ।তবে সরকারের বিবেক ওপর নির্ভর করে তাঁদের ডি এ দেওয়ার ক্ষেত্রে । বিচারপতি সারাফ এজিকে বলেন , এটা হতে পারেনা এর বিষয়ে কোনও নির্দেশিকা বা সুনির্দিষ্ট আইন থাকতে হবে । এজি তার উত্তরে বলেন , তাহলে কোর্ট ডিএ দেওয়ার প্রসেঙ্গে সিদ্ধান্ত নিক। তখন বিচারপতি  এজিকে বলেন, এর জন্য নির্বাচিত সরকার রয়েছে। তাহলে  কেন আদালতকে  এবিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে হবে ? পুলিশ শাসিত সরকার চলাতে গেলে যুক্তি লাগেনা , কিন্তু জনদরদি সরকার চালাতে গেলে যুক্তির অবশ্যই প্রোয়োজন রয়েছে ।
 আগামী ১৭ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানি। তবে সেদিনই নিষ্পত্তি হতে পারে বছরের পর বছর ধরে চলা ডিএ মামলার শুনানি।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad