পুতুলের হাসপাতাল - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 10 July 2018

পুতুলের হাসপাতাল


কারো হাত নেই, কারো পা, কারো ভেঙে গেছে মাথাটাই। এসব রোগীকেই সুস্থ করে তোলেন ডাক্তাররা। সত্যিকারের সার্জনদের মতো ছুরি-কাঁচি দিয়ে অপারেশন চালান। ১০১ বছরে পুতুলের হাসপাতালে এসে এভাবে সুস্থ হয়েছে লাখ ত্রিশেক রোগী।মক্কেলকে কাঁদাতে চান না কেউই। তবে এখানে মক্কেলের কান্না দেখেই ডাক্তাররা বুঝতে পারেন, কত ভালোভাবে কাজটি করতে পেরেছেন। আশায় আশায় থাকেন, রোগীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় কখন চোখের পানি ঝরবে। জলেই যে আনন্দ ডাক্তারদের! তবে যেসব রোগীকে সুস্থ করতে পারেন না, সেগুলোকে মৃত ঘোষণা দিয়ে একটি বাক্সে রেখে দেন। সে বাক্সের নাম 'পুতুলের গোরস্থান'। যেখানে-সেখানে কেনা প্লাস্টিকের পুতুল ঠিকঠাক করে দেওয়ার জন্য অনেক হাসপাতালই দেশে দেশে গড়ে উঠেছিল। তার মাত্র কটিই টিকে আছে। তাদের মধ্যে সিডনির পুতুলের হাসপাতাল দেখতে দেখতে পার করে দিল ১০০ বছর। পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি হয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের ভাঙাচোরা পুতুলকে নতুন করে দেওয়ার ভরসাস্থল। খেটে চলেছেন জনা ১২ ডাক্তার-কর্মী। তাঁদের প্রধান জেফ চ্যাপম্যান। ৬৭ বছরের মানুষটিই হাসপাতালের সর্বেসর্বা, প্রধান সার্জন। তাঁর বাবার তৈরি হাসপাতাল চালাচ্ছেন। কর্মীদের অনেকে আসেন দূর-দূরান্ত থেকে। অনেকে পড়ে আছেন বছরের পর বছর। তাঁদেরই একজন কেরি স্টুয়ার্ট। সিকি শতাব্দী ধরে এ ডাক্তারের রোগী সারাতে সারাতে পেকে গেছে মাথার চুল। তার পরও মাঝেমধ্যে মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। সবচেয়ে বিরক্ত লাগে সেলুলয়েডের পুতুল। একেবারে দুবলা, নাড়াচাড়া করাই ঝামেলা। কাঁচামালও খুব পাতলা, টিস্যুর মতো সিনথেটিক প্লাস্টিক। বলতে বলতে মেজাজ চড়ে গেল- 'সেলুলয়েডের পুতুল ঠিকঠাক করা খুব ঝামেলা। অনেক সময় নেয়। একেকটা পুতুল নিয়ে তিনবারও কাজ করতে হয়েছে। তার পরই কেবল হয়েছে মনেরই মতো।'

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad