১৬৭৩-৭৪ সালে বাংলার সম্রাট ইব্রাহিম খানের অনুমতি সাপেক্ষে হুগলীর চন্দননগরে বানিজ্য করতে আসে ফরাসিরা। যার সুবাদে প্রায় সাড়ে তিনশো বছর ধরে চন্দননগর ফরাসি উপনিবেশে পরিণত হয়েছিলো। চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো কিংবা আলোর জাদু সবকিছুতেই জড়িয়ে রয়েছে ফরাসি ইতিহাস।
কথিত রয়েছে একদা চন্দননগরের পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যুক্ত বহু ভারতীয় বিপ্লবীদের নিরাপদ জায়গা গরে দিয়েছিলো এই শহরই। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হলেও ফরাসীরা চন্দননগরকে ভারতের হাতে তুলে দেয় ১৯৫২সালে।
তাই ফ্রান্সের সাথে এখনও ফরাসীদের একটা নাড়ির টান রয়ে গেছে। যেই টানের জোরেই এখনও চন্দননগররে রয়েছে ফ্রান্সের বহু স্থাপত্য। আর আজকের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে ফরাসীদের জন্য মাতোয়ারা গোটা চন্দননগরবাসী। রাশিয়ায় ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়ার মহারনের আগে চন্দননগরে যেন অকাল জগদ্ধাত্রী পুজোর উন্মাদনা। গোটা চন্দননগর শহরকে ফ্রান্সের জাতীয় পতাকার রং লাল,নীল, সাদার মোড়কে মুড়ে ফেলা হয়েছে। বিভিন্ন ক্লাব সংগঠনে বাজছে সাকিরার ওয়াকা-ওয়াকা। আর সেই গানের ছন্দে পা মেলাচ্ছেন স্থানীয়রা। কারোর গালে ফ্রান্সের জাতীয় পতাকা পেন্ট করা আবার কারোর হাতে সেই পতাকা। চন্দননগরের স্ট্যান্ডে উপস্থিত শহরের জাগলার। সকাল থেকেই ফুটবল হাতে জাগলিং করে চলেছেন। ২০ বছর আগে এই উন্মাদনা দেখা গিয়েছিলো আলোর শহরে। সেবার জিনেদিন জিদানের হাতে উঠেছিলো বিশ্বকাপ। এবারে জিদান মাঠে না থাকলে কি হবে পল পোগবা কিংবা এমবাবেরা তো রয়েছে। তাই অনেকে খেলা শুরুর আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করছেন যে আজ ফ্রান্স ৩-০ গোলে জিতবে। খেলার ফল যাই হোক না কেনো চন্দননগর কিন্তু আজ আবার কিছুটা হলেও ফরাসী হয়ে উঠেছে।

No comments:
Post a Comment