স্ত্রীর ওপরে মাতাল স্বামীর নির্যাতনের কথা প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু এ কথা খুব কমই শোনা যায় যে স্ত্রী তার স্বামীকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। তাও আবার কামড়ে কামড়ে স্বামীকে খুন করা।
বাপের বাড়ি যেতে না দেয়ার জন্য কামড়ে স্বামীকে মেরেই ফেলল ওই স্ত্রী। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুরের কাছে পাহাড়িপুর গ্রামে।
একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত বুধবার রাতে এই ঘটনা ঘটে। ৩৫ বছরের অরবিন্দ নামে ওই ব্যক্তির প্রতিবেশীরা প্রথমে চিৎকার শুনতে পান। এরপর অরবিন্দের মা প্রতিবেশীদের কাছে এসে ছেলের ওপরে বৌমার আক্রমণের কথা জানান।
ঘটনার কথা শুনেই প্রতিবেশীরা গিয়ে দেখেন ঘরের ভিতরে পড়ে রয়েছেন অরবিন্দ। রক্তে ভেসে যাচ্ছে তার শরীর। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে অরবিন্দের মৃত্যু হয়।
পরে জানা যায়, অরবিন্দের স্ত্রী গোমতি ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বাপের বাড়ি যেতে চেয়েছিল। কিন্তু অরবিন্দ আপত্তি জানায়। এই নিয়ে দু’জনের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। আচমকাই গোমতি অরবিন্দকে আক্রমণ করে কামড়াতে শুরু করে। স্ত্রীর কামড়ের জেরে অরবিন্দের ঘাড়ে, বুকে এবং পেটে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। এরপরেই অরবিন্দের স্ত্রী ছেলে-মেয়েদের নিয়ে পালিয়ে যায়।
অরবিন্দের মা গুলাবি জানিয়েছেন, বেড়াতে যাওয়াকে কেন্দ্র করেই অরবিন্দ এবং গোমতীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। অরবিন্দ এবং গোমতী ঘরের দরজা বন্ধ করেই ঝগড়া করতে থাকে। প্রতিবেশীরা কিংবা আমি তাদের মধ্যে গেয়ে সমস্যা মেটাতে পারেননি। এরপর আমি লোকজন ডেকে ঘরের দরজা ভেঙে ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখি। গুরুতর আহত অবস্থায় অরবিন্দকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত রক্তপাতের ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পরেই নিজের সন্তানদের নিয়ে পালিয়েছে গোমতী। তার সন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ। স্বামীকে হত্যা করার অপরাধে তার বিরুদ্ধে খুনের মামলা করা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment