খেতে গেলে মুরগির কাবাব, খুব সুন্দর সাজিয়ে আপনাকে পরিবেশন করা হলো কুকুরের কাবাব! ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে অহরহই ঘটছে এমন ঘটনা!
অ্যানিমেল অস্ট্রেলিয়া নামে একটি সংস্থার এক তদন্তে এ সব তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, কুকুরদের বেঁধে রাখা হয়েছে। সেগুলো হত্যা করে বানানো হচ্ছে কাবাব। তারপর মুরগির কাবাব বলে চালান দেওয়া হচ্ছে বালির পর্যটকদের কাছে।
সংস্থাটির তদন্তের পর প্রকাশিত এক ভিডিওটিতে দেখা যায়, মাত্র এক ডলার... মুরগির কাবাব... কুকুর নয়, বলতে বলতে বালির ডাবল সিক্স সৈকতে কয়েকজন অস্ট্রেলীয় পর্যটকের দিকে এগিয়ে যান এক ব্যক্তি। কাবাবের পাত্রের ওপর কুকুরের ছবি। একজন তদন্তকারী ওই ব্যক্তিকে গিয়ে কিসের মাংস, তা জিজ্ঞাসা করেন। জবাবে তিনি জানান, কুকুরের মাংস সেটি। কুকুরের মাংস বলেই পাত্রের ওপর কুকুরের ছবি রয়েছে কি না জিজ্ঞাসা করা হলে, কাবাব বিক্রেতা বিষয়টি স্বীকার করেন।
সংস্থাটির চিকিৎসক লিন হোয়াইট সংবাদমাধ্যম এবিসিকে জানান, ‘আমরা যখন তদন্ত শুরু করলাম, আমাদের ধারণা ছিল না যে কুকুরের মাংস ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন এলাকাগুলোতেও ঢুকছে।’
তদন্তের পর লুক নামের এক কর্মকর্তা জানান, কুকুরগুলো মুগুর দিয়ে পিটিয়ে, গলায় ফাঁস লাগিয়ে বা বিষপ্রয়োগ করে হত্যা করা হয়। এটি যেমন একদিক থেকে নিষ্ঠুরতা, তেমনি পর্যটকদের সঙ্গে প্রতারণা। তারা মাংসের উৎস জানলে অসুস্থ হয়ে পড়বেন। তদন্তকারী সংস্থার একজন চিকিৎসক জানান, বিষপ্রয়োগ করে হত্যা করা ওই কুকুরের মাংস স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
তবে কম মূল্যের কারণে বালির বাসিন্দারা অনেকেই কুকুরের মাংস পছন্দ করেন। বালিবাসীর ধারণা, কুকুরের মাংস পুরুষের যৌনশক্তিও বাড়ায়।
চিকিৎসক হোয়াইট জানান, ‘অ্যানিমেল অস্ট্রেলিয়ার’ লক্ষ্য হলো বালির সংস্কৃতির ওপর হস্তক্ষেপ না করেই এই নিষ্ঠুর কাজের সমাপ্তি ঘটানো। কুকুরের মাংস খাওয়া বালির সংস্কৃতির অংশ না। সেখানে গিয়ে আস্তানা গাড়া একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এই অভ্যাসের প্রচলন ঘটায়।
সে সময় তিনি এ বিষয়ে বালির প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে সাহায্য চান।

No comments:
Post a Comment