পরের বছরই লোকসভা নির্বাচন। তার আগেই বৃদ্ধি পেল ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কুইন্টাল প্রতি ২০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১৪টি খরিফ শস্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়ানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তে আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন কৃষকরা। এবার থেকে সাধারণ ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কুইন্টাল প্রতি বেড়ে দাঁড়াল ১,৭৫০ টাকা। এ গ্রেড ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কুইন্টাল প্রতি ১৮০ টাকা বাড়িয়ে ১,৭৭০ করা হল। অন্যদিকে কুইন্টাল প্রতি তুলোর সহায়ক মূল্য ২০.৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৫,১৫০ টাকা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর ধানের সহায়ক মূল্য দেড়গুণ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। চলতি বছরের বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বাজেটে প্রস্তাব হিসেবে রাখেন। আর গতকাল সেই প্রস্তাব কার্যকরী হয়ে গেল।
বিগত কয়েকবছর ধরেই দেশের কৃষি অর্থনীতি খুব একটা ভালো জায়গায় নেই। একের পর এক কৃষকের আত্মহত্যায় রীতিমতো প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছিল কেন্দ্রীয় সরকারকে। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের জয়ের পিছনে কৃষক ভোটের একটা বড় অবদান রয়েছে। যা গত ৩০ বছরে কোনও দলের জন্য লক্ষ্য করা যায়নি। কিন্তু, গত ২ বছর ধরে সেই জনপ্রিয়তা ক্রমশ ভাঁটার দিকে এগোচ্ছিল।
অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকারের এই ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে সেই জনপ্রিয়তা আবার পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে বলেই মনে করছে দেশের আর্থিক মহল। অনেকে আবার বলছেন, চলতি বছরের শেষেই রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়ে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। দেশের রাজনৈতিক মহলের মতে, এই নির্বাচনে কৃষকদের পাশে পেতেই নরেন্দ্র মোদি কৃষকদরদী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

No comments:
Post a Comment