দিনভর একটা-দু'টো নয়, ৯৬টা কলা খাইয়ে চোরের পেট থেকে উদ্ধার হল সোনার হার!
২২ ডিসেম্বর বিদর্ভ এক্সপ্রেসের এস-৭ কামরায় সফর করছিলেন শীতল কাম্বলে। মাঝবয়সী মহিলা। পেশায় ডাক্তার। গলায় ছিল ১২ গ্রাম ওজনের একটা সোনার হার। ওই কামরায় কিছুক্ষণ ধরে ঘুরঘুর করছিল দামু গুপ্তা। এক সময় সুযোগ বুঝে ওই মহিলার গলা থেকে হার ছিনিয়ে দৌড় দেয়। কিন্তু, ট্রেন ততক্ষণে পক্ষীরাজ! বাছাধন পালাবে কোথায়! ধরা দিতেই হল। এস-৮ কামরায় তাকে পিছমোড়া করে বেঁধে ফেললেন যাত্রীরা। তার পর তুলে দেওয়া হল জিআরপি-র হাতে।
কিন্তু, সোনার হার তো বিলকুল হাওয়া। তন্নতন্ন করে খুঁজেও উদ্ধার হল না দামুর কাছ থেকে। শুধু এক যাত্রী পুলিশকে বললেন, তিনি দেখেছেন কিছু একটা যেন খাচ্ছে চোর। ব্যস! ওইটুকুই সূত্র। শেষে আলট্রা-সোনোগ্রাফি করে জানা গেল, হার রয়েছে চোরের পেটে! সে এমনই সেয়ানা, পেটব্যথা হলেও রা কাড়ে না। শুধু ফ্যালফেলিয়ে থাকে।
পুলিশের ডাক্তারও তেমন বাঘা তেঁতুল। বিধান দিলেন, ওকে কলা খাওয়ান। যতটা পারেন। দেখবেন, ইয়ে করলে বেরিয়ে আসবে সোনার হারও। পরামর্শ পেয়ে মহা উৎসাহে কাজে লেগে গেল কল্যাণ জিআরপি।
ইন্সপেক্টর এস নির্মল জানালেন, সারাদিন-সারারাত ধরে ওকে কলা খাওয়ানো হয়েছে। ৯৬টা কলা খাওয়ার পর তবে পেট থেকে বেরিয়েছে ওই হার। তার পর তা পরিষ্কার করে ঝকঝকে অবস্থায় রেখে দেওয়া হয়েছে পুলিশের জিম্মায়। মুম্বইয়ের বান্দ্রার বাসিন্দা শীতল কাম্বলেকে খবর দিয়েছে পুলিশ। অবশ্য তিনি এখনও হার নিতে আসেননি।
পুলিশ সূত্রে খবর, ২৮ বছর বয়সী দামু গুপ্তা আদতে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা। চুরির অভিযোগে কয়েকবার সেখানে জেল খেটেছে। বড় দাঁও মারার উদ্দেশ্যে সদ্য এসেছে মুম্বইতে।
ঘুঘু ধরলেও এমনভাবে ফাঁদে পড়ে যাবে, ভাবেনি বেচারা।

No comments:
Post a Comment