পাশ-ফেল নিয়ে তৎপর রাজ্য ৷ কেন্দ্রের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই কোন পথে পাশ-ফেল ফেরানো যায় তা নিয়ে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করেছে রাজ্য সরকার। এই কমিটির দায়িত্বে রয়েছেন রাজ্য B.Ed বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সোমা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ সাত দিনের মধ্যে সব দিক খতিয়ে দেখে একটি রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে এই কমিটিকে।
এদিকে পাশ-ফেল প্রথা রাখা উচিত নাকি তুলে দেওয়া উচিত, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করছে শিক্ষা দপ্তর। এ বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন অনেকেই। আর তাই সঠিক "সিদ্ধান্ত" নিতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, "আমরা পাশ-ফেল নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নিইনি। এই প্রথা তুলে দেওয়া হবে না রাখা হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করছি। মুখ্যমন্ত্রীর সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। তারপর যা দরকার তাই করব। কে কী বলল তা নিয়ে কেন মন্তব্য করব ?"
অন্যদিকে পাশ-ফেল ছাড়াও কলেজে ভরতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে শিক্ষা দপ্তর। কলেজে টাকা নিয়ে ভরতি করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল বেশ কয়েকজন তৃণমূল ছাত্র নেতার বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দুর্নীতি রুখতে তৎপর হন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। আচমকা বেশ কয়েকটি কলেজ পরিদর্শন করেন। পরে তাঁর নির্দেশে শিক্ষামন্ত্রীও কলেজ পরিদর্শন করেন। এমনকী পুলিশকেও কড়া হাতে এই পরিস্থিতি দমন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। দলীয় সূত্রে খবর, এর পাশাপাশি কলেজ ভরতির ব্যাপারে উত্তর কলকাতার একাধিক নেতা-মন্ত্রীর নাম দলের কাছে আসে। তার জন্য ক্ষুব্ধ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। আর তাই আগামী বছর যাতে ভরতি প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হয় সেই ব্যবস্থাই নিচ্ছে শিক্ষা দপ্তর।
এ বিষয়ে দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা যাতে আগামী দিনে প্রভাব খাটাতে না পারে তার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে দল ও শিক্ষা দপ্তর। দলের ভাবমূর্তি সবার আগে, তাকে কলুষিত হতে দেওয়া যাবে না। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।"
সূত্রের খবর, এবার থেকে কলেজগুলিকে নিজেদের ওয়েবসাইটে জানিয়ে দিতে হবে সেখানে কোন সাবজেক্ট আছে, তার জন্য কত সিট, কোন সাবজেক্টের অনার্স আছে ও পাসে কোন সাবজেক্ট আছে। এছাড়া কত নম্বর পেলে পড়ুয়ারা ওই কলেজে ভরতি হতে পারবে সেই বিষয়ও ওয়েবসাইটে দেওয়া থাকবে। এই অনুযায়ী নির্দেশিকাও জারি হতে পারে। সামনে বছর থেকে এই পথেই ভরতির সমাধান করতে চায় রাজ্য সরকার।

No comments:
Post a Comment