ওয়েনের বয়স সাত বছর। স্কুয়ার্টজ-জেম্পল সিনড্রম নামে এক বিরল বংশগতি রোগে আক্রান্ত এই শিশু। তার যেমন চলাচলে দারুন অসুবিধা, ঠিক তেমনি নতুন মানুষের সাথে মিশতেও অসুবিধা।
স্কুয়ার্টজ-জেম্পল সিনড্রমের বৈশিষ্ট্য হল, মাংসপেশীতে স্থায়ী টানের সৃষ্টি করা এবং নতুন পরিবেশ ও নতুন মানুষের সামনে ভীতি সৃষ্টি করা।
কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, তিন পায়ের ‘হাটচি’ নামের এক কুকুর বদলে দিয়েছে ওয়েনের জীবন।
ইতালিয়ান শেফার্ড ‘হাটচি’কে বেঁধে রাখা হয়েছিল এক রেললাইনে, যেখানে ট্রেনে কাটা পড়ে তার এক পা এবং লেজ। অবগত হয়ে এই অবস্থায়ই তাকে বাসায় নিয়ে আসে ওয়েনের মা। এবং মজার ব্যাপার, ওয়েনের সাথে দ্রুত সম্পর্ক গড়ে তোলে ‘হাটচি’।
ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ারের ছাত্রদের নেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়েন ‘হাটচি’র সাথে তার প্রথম সাক্ষাতের কথা বলতে গিয়ে জানায়, ‘প্রথম যেদিন আমাদের তার সাথে দেখা হয়, সে আমার কোলের ওপর মাথা রেখে শুয়ে পড়ে। এবং এখান থেকেই আমাদের বন্ধুত্ব শুরু হয়।’
এর সাথে সাথে ওয়েন যোগ করে, ‘সে আমার জীবন বদলে দিয়েছে। আমি এখন আর আগন্তুকের ভয়ে ভীত হই না।’
দ্য ব্রিজ.কম এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে ওয়েনের বাবা উইল হফকিনস জানান, দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ‘হাটচি’র সাথে ওয়েনের সম্পর্কটা এমন দাঁড়াল, তার ছেলে রীতিমত কুকুরটার সাথে বাইরে ঘুরতে যেতে চাইল। তার ভেতর আত্মবিশ্বাস বাড়তে শুরু করল। আরো মজার ব্যাপার, ‘হাটচি’ও ওয়েনকে প্রচণ্ডভাবে ভালোবাসতে শুরু করে।
২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যে ‘জীবনের জন্য বন্ধুত্ব’ প্রতিযোগীতায় ওয়েন-হাটচি জুটি জিতে নেয় সেরা পুরষ্কার। পুরষ্কার জেতার পর ওয়েন জানায়, ‘আমি খুব খুশি। যারা আমাদের ভোট করেছেন, তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। আমি সুখী, কারণ হাটচি আমার জীবনে আছে। সে আমাকে হাসতে শিখিয়েছে এবং সে আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।’

No comments:
Post a Comment