অবৈধ সম্পর্কের জেরে স্বামীকে খুনের অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে ।ঘটনাটি ঘটেছে শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফুলবাড়ির কাঞ্চনবাড়ি এলাকায়। মৃতের নাম নিতাই ভৌমিক।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১১ জুলাই থেকে নিখোঁজ ছিল একই পরিবারের তিন সদস্য। কাঞ্চনবাড়ির একটি নামী বিস্কুট কারখানার শ্রমিক নিতাই ভৌমিক, তার স্ত্রী পুরবী ভৌমিক এবং ছোট ছেলে নয়ন ভৌমিক । ২০ তারিখ নিতাই ভৌমিকের ভাই গণেশ ভৌমিক এনজেপি থানায় দাদার নিখোঁজ হওয়ার লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের পরেই ছোট ছেলেকে নিয়ে গা ঢাকা দেয় স্ত্রী পুরবী। এরপর ২৬ জুলাই কাঞ্চনবাড়ি এলাকাতেই এক ব্যক্তির পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার হয়। সেই সময়েই পুলিশ সন্দেহ করে দেহটি ওই ব্যক্তিরই। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তে পাঠালে পুলিশ জানতে পারে গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে খুন করা হয়েছিল ওই ব্যক্তিকে। পাশাপাশি মৃতদেহটি যে নিতাই বাবুরই তা শনাক্ত করে তার পরিবারের সদস্যরা। এসব নিশ্চিত হতেই ততপরতার সাথে তদন্তে নামে পুলিশ। পুরবীর উদ্দেশ্যে খোঁজ শুরু করা হয়।পুলিশ আরও জানায়, বাপের বাড়ি ময়নাগুড়ি সংলগ্ন এলাকায় গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন পুরবী। শুধু তাই নয় ময়নাগুড়ির জটেশ্বর এলাকার ছয় জায়গায় পালা বদলে লুকিয়ে ছিলেন। এরপর পুলিশ অভিযুক্ত মহিলাকে সোমবার মাঝরাতে গ্রেফতার করে। তাকে জেরা করলে বক্তব্যে অসঙ্গতি পায়। জেরায় মহিলা স্বীকার করে তার স্বামীকে খুন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিগত ছয়মাস ধরে মহিলার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। ১২ তারিখ রাত দেড়টা নাগাদ প্রেমিক তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ঘরে ঢোকে। ঘাস কাটার ধারলো অস্ত্র দিয়ে এক কোপে নিতাইবাবুর গলা কেটে দেওয়া হয়। এরপর রক্তে মাখা লেপ তোশক ক্যানেলের জলে ফেলে দেয় ও মৃতদেহটি কম্বলে মুড়িয়ে বাড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত জমিতে ফেলে রেখে দেয়। ঘটনায় বাকি দুজন অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাদের নাম প্রকাশ করতে চায়নি। তাদের উদ্দেশ্যে খোজ শুরু করেছে পুলিশ। মহিলাকে এদিন জলপাইগুড়ি আদালতে পাঠানো হয়। পুলিশি হেপাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।

No comments:
Post a Comment