শতবর্ষে পুরুষ হৃদয় তোলপাড় করা বক্ষবন্ধনী - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 25 July 2018

শতবর্ষে পুরুষ হৃদয় তোলপাড় করা বক্ষবন্ধনী

শতবর্ষে পুরুষ হৃদয় তোলপাড় করা বক্ষবন্ধনী
অন্তর্বাস! নামটা শুনলেই পুরুষ হৃদয় তোলপাড়৷ কারণ এই শব্দতেই আবৃত নারী সৌন্দর্য৷ পৃথিবীর প্রায়  সব মহিলাই যে অন্তর্বাসটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেন সেটি  হল বক্ষবন্ধনী বা ব্রেসিয়ার৷ আর সেই বন্ধনীরই একশো বছর পূর্তি হল সম্প্রতি৷  অনেকেই ভাবতে পারেন নোংড়া বিষয় নিয়ে নাড়াঘাটা করছি৷ কিম্বা ওয়েবসাইটের ফলোয়ার বাড়াবার ইউএসপি৷ কিন্তু এটি যেমন তেমন বিষয় নয়৷ এর সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস, অতীত, বাস্তব এমনকী বিপ্লবও৷
আজ থেকে ১০০ বছর আগে এই বক্ষবন্ধনীর পেটেন্ট নথিভুক্ত হয়৷ তারিখটা ছিল ১২ ফেব্রুয়ারী ১৯১৪৷ তাই, ফেব্রুয়ারি মাস জুড়েই বিশ্বের নানা দেশে অন্তর্বাসের শতবর্ষে নতুন নতুন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে৷এই ব্রেসিয়ার প্রথম তৈরি করেছিলেন মেরি ফিল্পস জেকব মামের এক মহিলা৷ তখন মেরির বয়স মাত্র ২৩ বছর৷ তিনিই প্রথম এই ব্রা-য়ের পেটেন্ট নথিভুক্ত করেন৷ অবশ্য পরে মাত্র দেড় হাজার ডলার মূল্যে এই পেটেন্টটি বেঁচেও দিয়েছিলেন মেরি৷ ভাবুনতো আজ থেকে একশো বছর আগে দেড় হাজার ডলার কি মুখের কথা৷ যিনি এটি কিনেছিলেন তার দূরদর্শিতার কথাটাও একবার ভাবুন৷
মহিলাদের উপর অত্যাচার শুধু যে এ যুগে তার কিন্তু নয়৷ সৃষ্টির ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে নারী জন্মের প্রথম দিন থেকেই অত্যাচারিত সে৷ কি ভাবছেন মাথায় সিঁদুর, পায়ে আলতা এসব কেবলই সাজগোজের অঙ্গ? সেযুগে মাথার সিঁথি তীরের ফলা দিয়ে চিড়ে দেওয়া হত এমকী পায়ের আলতার গপ্পোও একই নিয়মের অধীনে৷  পুরুষের নারী জয়ের প্রতীক ছিল এটি এমনকি আজও আছে৷ ঠিক তেমনই সেযুগে বক্ষযুগল আগলে রাখতে নারীরা বস্ত্রের নীচে পরিধান করতেন কর্সেট৷ এটি ছিল এক ধরণের বর্ম, তিমি মাছের হাড় দিয়ে তৈরি হুপ যুক্ত৷ কাজেই এর ওজন কতটা হতে  পারে তা আশা করি বুঝিয়ে বলার দরকার নেই৷ ঠিক এমন সময়েই মেরির এই ব্রা আবিষ্কার অবশ্যই নারী মুক্তির সমতুল্যই বলা চলে৷
বক্ষবন্ধনী কেবল নারী পরিধানের অঙ্গ হয়ে থাকেনি৷ নারীমুক্তি, নারী বিপ্লবের প্রতীকী হয়ে দাঁড়িয়েছে কালে কালে৷ ষাটের দশকে নারীমুক্তি আন্দোলন যখন চরমে, তখন ইউরোপ-আমেরিকার মহিলারা তাদের ব্রা পুড়িয়ে পুরুষ-শাসিত সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান৷ দেশ, সংস্কৃতি ও কাল একটি প্রতীক্ অর্থ ও গুরুত্বপূর্ণতা নির্ধারন করে৷ তাই মিশরের একটি সাম্র্তিক আন্দলনেও নীল রঙের ব্রা পরে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন মহিলারা৷
শুধু ইতিহাস বা আন্দোলন নয় নারী ও পুরুষের যৌনতা প্রকাশ পায় এই বিশেষ পরিধেয়টির মাধ্যমে৷ ফ্যাশন জগতেই দিন দিন নিত্য নতুন ছোঁয়া লাগে এই বস্ত্রে৷ পুঁজিবাদের আমলে এই বিশেষ অন্তর্বাস নির্মাতা মার্কিন কোম্পানি ভিক্টোরিসা’স সিক্রেট-এর এই মণি-মাণিক্য খচিত ফ্লোরাল ফ্যান্টাসি ব্রায়ের দাম হয়েছিল প্রায় ২৫ লক্ষ ডলার৷ যত  দিন যাচ্ছে এই বিশেষ পোষাকের উপর চলছে একের পর এক এক্সপেরিমেন্ট৷ পরিবেশ সচেতনতা থেকে দেশজ সংস্কৃতির ছোঁয়া দিতে ভারতেও তৈরি হয় বিভিন্ন ধরণের ব্রা৷
নারীবাদ বা নারী অন্দোলনের ক্ষেত্রে শুধু ব্রা পুড়িয়েই ক্ষান্ত থাকেননি বিশ্বের নারী৷ উম্নুক্ত নারীদেহও হয়ে উঠেছে অন্দোলনের প্রতীক৷ এমন ঘটনার সাক্ষী হতে হয়েছে আমাদের বারবার৷ তাই ক্ষুদ্র এই নারী বস্ত্রকে তুচ্ছ করা একেবারেই সাজে না৷ একবার ভেবে দেখুন এই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ছেড়ে নারী যদি উন্মুক্ত হয়ে আপনার সামনে প্রতিবাদের ভাবমুর্তিতে এসে দাঁড়ায় চোখ তুলে চাইতে পারবেন তো?

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad