'যৌন দৃশ্যে অভিনয়ে অসুবিধা হয়নি' - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 19 July 2018

'যৌন দৃশ্যে অভিনয়ে অসুবিধা হয়নি'

বলিউড অভিনেত্রী ঈশিকা দে। সদ্য ভাইরাল হয়েছে তার যৌনদৃশ্যের অভিনয়। নেটফ্লিক্সের অরিজিনাল সিরিজ সেক্রেড গেমসে অভিনয় করেছেন ঈশিকা। নওয়াজউদ্দিনের সঙ্গে যৌনদৃশ্যে অভিনয় তাকে অন্য এক পরিচিত দিল। ধাঁধার মতো শোনালেও এই সাহস কিন্তু আমার আপনার মতো অনেকের নেই। একে পরিচালকের আসনে অনুরাগ কাশ্যপ তারওপর অভিনয় করতে হবে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকির সঙ্গে- হাওড়ার মন্দিরতলার মেয়ে যেন এই সুযোগটার জন্যই অপেক্ষা করছিলেন।

ঈশিকার 
লাইমলাইট, ঈশিকার আক্ষেপ...নওয়াজউদ্দিনের সঙ্গে যৌনদৃশ্য নিয়ে অভিনয় প্রসঙ্গে এক ভারতীয় গণমাধ্যম নিউজ ১৮-কে এক সাক্ষাতকার দেন। সাক্ষাতকারটি পূর্বপশ্চিম বিডি নিউজের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো
দেখুন, সেক্রেড গেম আমাকে যে লাইমলাইট এনে দিয়েছে, তা নিয়ে সত্যিই আমি খুশি ৷ তবে সঙ্গে একটু আক্ষেপও রয়েছে ৷ একজন ট্যালেন্টেড অভিনেত্রী হয়েও আমি আমার জায়গা অর্থাৎ বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সেভাবে সুযোগ পায়নি ৷ আমাকে সেভাবে ব্যবহারই করা হয়নি ৷ এই খারাপ লাগার জায়গাটা তো রয়েইছে৷ সঠিক সুযোগ পেলে হয়তো অভিনেতা হিসেবে মাটি খুঁজে পাওয়াটা একটু সহজ হতো ৷ আমার মনে হয়, আমাকে ব্যবহার করা যেতে পারত ৷ তবে হ্যাঁ, সেক্রেড গেমের পর ছবিটা একটু বদলেছে ৷ মুম্বইতে আমি প্রচুর কাজের অফার পাচ্ছি ৷ কিন্তু সেক্রেড গেম আমার মুম্বইয়ে করা প্রথম কাজ নয় ৷ অনুষ্কা শর্মার পরী ছবিতেও অভিনয় করেছিলাম ৷ তবে আমার দৃশ্যটা এডিটের টেবিলে কেটে দেওয়া হয় ! তবে জনপ্রিয়তাটা সেক্রেড গেম-ই দিয়েছে।
নান্দিকারের সঙ্গে অভিনয় করতেন ঈশিকা ৷ অভিনেতা হওয়ার ইচ্ছেটা প্রথম থেকেই ৷ তবে পরিবারের লোকজন, আত্মীয়সজ্জনের রক্তচক্ষু ৷ মেয়ে হবে অভিনেতা? এমনকী, এই নিয়ে বাকবিতন্ডাও কম ছিল না ৷ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছিল ঈশিকার সঙ্গে ৷ তবে ‘কনফিডেন্ট’ ঈশিকা জানতেন, অভিনয়টা তিনি পারেন, পারবেন ৷ আর সেই সাহসেই মুম্বইয়ে পাড়ি দেওয়া !
কিন্তু, যৌনদৃশ্যে ‘ভাইরাল’ ! লোকে তো গুগল সার্চও করছেন..
উত্তর দিতে কিছুটা সময় নিলেন ঈশিকা, ‘আসলে, ব্যাপারটা যে ভাইরাল হবে, তা আগে থেকে জানা ছিল না ৷ এমনকী, আমি জানতামই না দৃশ্যটা এতটা বোল্ড হবে ৷ তবে হ্যাঁ, এই ধরণের দৃশ্য ভাইরাল-ই হয় ৷ এই ‘ভাইরাল’ শব্দটাকে মাথা পেতে গ্রহণ করতে রাজি ৷ তবে একেবারেই তা পজেটিভ সেন্সে ৷ আসলে, আমাদের সমাজে ‘সেক্স’ ব্যাপারটা তো এখনও ট্যাবু ৷ মানে অনেকটা ঘোমটার তলায় থাকা...এটা যতদিন না যাচ্ছে, ততদিন ‘ভাইরাল’ মানেটা ভুলভাবেই ব্যবহার হবে ৷ তবে আশা করি, এই মানসিকতা বদলে যাবে, কারণ অনেকেই এখন নানারকম কাজ করছে ৷ তবে সত্যিই বলতে কি, আমি কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও ধরণের বিদ্রুপ পায়নি ৷ কোনও সমালোচনাও হয়নি দৃশ্যটা নিয়ে ৷ আমি কিন্তু শুধু প্রশংসাই পেয়েছি ৷
কেরিয়ারের শুরুতেই ট্যাগ হয়ে গেলে?
দেখুন, আমি কারও মানসিকতা বদলে দিতে পারব না ৷ আমাকে একটু বেছে নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি করতে হবে৷ আমি খুব নতুন এই ইন্ডাস্ট্রিতে ৷ আগে থেকে হয়তো বুঝব না, কোনটা সঠিক নির্বাচন, কোনটা নয় ৷ হ্যাঁ, তবে ব্র্যান্ড, পরিচালক দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ৷ তাহলেই হয়তো ট্যাগ হওয়া থেকে বিরত থাকতে পারব ৷ এই যেমন ‘সেক্রেড গেম’-এর অডিশনে আমার অভিনয় দারুণ প্রশংসা পায় ৷ আমাকে অন্য আরেকটি চরিত্রের জন্যও বলা হয়েছিল ৷ তবে সেই চরিত্রটায় একটু পুরুষালি লুক দরকার ছিল ৷ আমি তা একেবারেই নই ৷ তবে আসল উত্তেজনাটা শুরু হয়, শ্যুটিং শুরুর পর ৷ অনুরাগ স্যার (অনুরাগ কাশ্যপ) আমার পারফরম্যান্স দেখে প্রচণ্ড খুশি হয়েছিল ৷ শ্যুটের পর আমাকে জড়িয়ে ধরেছিল ৷ মুকেশ ছাবড়াকে ফোন করে আমার প্রশংসা করেছিল ৷ আমি নিজেই ভাবছিলাম, আমি কি সত্যিই এত ভালো করেছি ৷ অনুরাগ স্যার থেকে নওয়াজ সবাই প্রশংসা করছিল ৷ এই প্রশংসাই গুলো ট্যাগ হয়ে থাক বরং ৷ ’
নওয়াজের মতো বড়মাপের অভিনেতার সঙ্গে ‘যৌনদৃশ্য’ অভিনয়৷ ভয় লাগেনি ?
একদমই নয়, নওয়াজ স্যার খুবই ডাউন টু আর্থ একজন মানুষ ৷ আমাকে বুঝতেই দেননি, আমি নিউকমার৷ নিজে হাতে কোল্ডড্রিঙ্ক এগিয়ে দিচ্ছেন, ডায়লগ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে ৷ হয়তো এভাবে অজান্তেই একটা কমফোর্ট জোন তৈরি হয়ে যাওয়াতে দৃশ্য শ্যুটে কোনও অসুবিধাই হয়নি!
আর বাড়ির লোক রিয়্যাকশন ?
‘সেক্রেড গেম’-এর পর একমাত্র বাবার সঙ্গে আমার কথা হয়নি ৷ এমনকী, আমি বাবাকে ফেসবুক থেকেও ব্লক করেছি ৷ তবে হ্যাঁ, মায়ের মিশ্র প্রতিক্রিয়া ৷ মা শুধু চিহ্নিত পাড়ার লোককে কী ভাবছে তা নিয়ে। তবে আমি কিন্তু আমার বন্ধু-বান্ধব সবার থেকেই দারুণ প্রশংসা পেয়েছি ৷ এমনকী, কলকাতায় থাকা আমার কিছু অভিনেতা বন্ধুরাও আমাকে দেখে মুম্বই আসার কথা ভাবছে ৷ আমি কাউকে অনুপ্রাণিত করতে পারছি ৷ এটা কি কম পাওয়া?
‘সেক্রেড গেম’ থেকে পাওয়া লাইমলাইট নিয়েই এখন বড্ড ব্যস্ত হাওড়ার মেয়ে ঈশিকা দে৷ একের পর এক ওয়েব সিরিজের অফার শুধু নয়, পরের ছবিতে সইফ আলি খানের সঙ্গেও অভিনয় করতে চলেছেন তিনি ৷ নিজেকে গ্রুম করছেন ৷ আর লক্ষ্য রাধিকা আপ্টে, নন্দিতা দাস ও কঙ্কনা সেনশর্মার পরেই নিজের নামটা দেখতে পারার ৷ আর এরই মাঝে তিনজন রুমমেট, বাড়ি থেকে দূরে একলা জীবন-যাপন ও মুম্বই শহর ৷ ঈশিকা লিখে চলেছেন বাসন্তী দেবী কলেজের এক ছাত্রীর মুম্বই পাড়ির গল্প ! যা কিনা পরে হয়তো ফের ভাইরাল হয়ে পড়বে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad