ফিকে গোলাপি আভা। তে-কোণা ছোট মাথা, পিঠে ধনুকের মতো বাঁক আর সামান্য গোলাকৃতির মধ্যপ্রদেশ। কেতাবি বনেদি ঘরানার অব্যর্থ পরিচায়ক। তেল চুকচুকে শরীরের প্রতি অণুতে আভিজাত্য ঝরে পড়ছে। এই তো পুবালি বাতাস আর ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে কয়েক দিন আগেই সমুদ্রে রমরমা দেখিয়েছিল ইলিশ। এ মাসের শুরুতেই মনে হয়েছিল,রুপোলি ফলনে এ বার বুঝি মাছের গোলা উপচে পড়বে।কিন্তু এখন নাগালে থেকেও অধরা। নিম্নচাপের কারণে গভীর সমুদ্রে মৎস্য শিকারে না করেছে হাওয়া অফিস। তাই ঘাটে বসে জেলে সম্প্রদায়ের মানুষ। কাজদাম না থাকায় অলস সময় পার করছেন জেলে ও আড়ত্দাররা । প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য ১৯ জুলাই থেকে এই অবস্থা। ২২ তারিখ থেকে নতুন করে ইলিশ শিকারে বেরিয়ে ছিল অধিকাংশ লঞ্চ-ট্রলার। কিন্তু ফের নিমচাপের ভ্রূকুটি।মুখভার আকাশের। উত্তাল সমুদ্রে রয়েছে জলোচ্ছ্বাস। মাঝেমধ্যে বইছে ঝোড়ো হাওয়া। যা মৎস্যজীবীদের পক্ষে অশনি সঙ্কেত।
প্রশাসনের তরফে মৎস্যজীবী সংগঠনগুলির কাছে লঞ্চ-ট্রলারগুলিকে ফিরে আসতে বলা হয়েছে। আর এই নির্দেশ পাওয়ার পর বুধবার রাত থেকেই বন্দরে, ঘাটের নিরাপদ আশ্রয়ে ভিড়তে শুরু করেছে বেশিরভাগ লঞ্চ-ট্রলার। কিন্তু হাওয়া যা টাটকা ইলিশ বাগে পাওয়ার নিশ্চিত সুযোগ ছিল মৎস্যজীবীদের কাছে। কিন্তু দুর্যোগের কারণে শুধু আক্ষেপ করা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই তাঁদের।আবহাওয়ার কারণে মৎস্যজীবীদের সঙ্কটের কথা জানিয়েছেন দিঘা ফিশারমেন এন্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক নবকুমার পয়ড়্যা। বলেন,"ইলিশ উপযোগী আবহাওয়া থাকলেও আমরা ইলিশ ধরতে যেতে পারছি না। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় কারণে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়া মানা।" দিঘা, শঙ্করপুর, পেটুয়া,শৌলাতে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর দেখা গেল গভীর সমুদ্র থেকে শূন্য হাতে ফেরা লঞ্চ-ট্রলারের লম্বা লাইন। মৎস্যজীবীদের চোখে-মুখে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে অভাবের ছাপ।হতাশা দেখা দিয়েছে মরশুমেও ইলিশ শিকার করতে না পেরে। বসে বসে খরচ করতে হচ্ছে পুঁজির টাকi

No comments:
Post a Comment