নিজস্ব প্রতিনিধি , ভাঙড় : ভাঙড়ে দোন্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম এর জামিন নিয়ে চক্রান্তের অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়াতে সরব হয়েছেন আরাবুল অনুগামীরা ।ফেসবুক পোস্টে ভাঙড়ের জমি কমিটির মুখপাত্র তথা নকশাল নেতা অলীক চক্রবর্তীর জামিন পাওয়া প্রশঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে মাওবাদীদের হয়ে কাজ করার অভিযোগ তোলা হয়েছে । একই সঙ্গে ২০১৯ সালে ভোটে দেখিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে ।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রাক্কালে জমি কমিটির নির্দল প্রার্থীর নির্বাচনী মিছিলে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে ।তাঁদের ভোটপ্রচারে মিছিলে গিয়ে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন মাছিভাঙা গ্রামের হাফিজুল মোল্লা।এই ঘটনায় ভাঙড়ের প্রাপ্তন বিধায়ক তথা ভাঙড় ২ নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আরাবুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল ওঠে ।ওই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তড়িঘড়ি আরাবুল ইসলাম কে গ্রেফতার করা হয়।তার পর কয়েক দিন পুলিশ হেফাজত এবং জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক অবশ্য এর মধ্যে দুই বার শারীরিক অসুস্থতার জন্য এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরাবুল। একাধিকবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে আরাবুলের জামিনের আবেদনের শুনানি হলেও বিচারক জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন। সাম্প্রতিক ওই কেসে হাইকোর্ট পুলিশের কাছে কেস ডায়েরি তলব করেছেন।
অপরদিকে, ভাঙড় কান্ডে পুলিশের উপরে আক্রমণ সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, তৃণমূল নেতা খুন -সহ রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত ভাঙড় আন্দোলনের মুখপত্র তথা নকশাল নেতা অলীক চক্রবর্তী ৩১ মে ভুবনেশ্বর থেকে গ্রেফতার হয়ে ৩৫টি মামলায় জামিন পেয়ে গেছেন। জামিন পেয়েছেন ভাঙড় আন্দোলনে যুক্ত অন্যরাও। মুখ্যমন্ত্রী নিজে যাদের বহিরাগত তকমা দিয়েছিলেন, তাঁরা সকলেই এখন মুক্ত।এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ আরাবুল অনুগামীদের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তাদের দাবি, "মিথ্যা অপবাদে আরাবুল ইসলাম কে জেলে বন্দি করে রাখা হয়েছে, দুই মাস জামিন পাচ্ছে না, কারন তৃণমূল দল করে। আর এক জন রেড স্টার মাওবাদী নেতা জামিন পেয়ে গেল।" ওই ফেসবুক পোস্টে আরাবুল ইসলামের জামিন না পাওয়া ও অলীক চক্রবর্তীর জামিন পাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মাওবাদীদের হয়ে কাজ করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০১৯ সালের ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।ওই ফেসবুক পোস্টের শেষে লেখা হয়েছে দিদি প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছে তাই প্রতিবাদ করলাম। এই ফেসবুক পোষ্ট টি আরাবুল পুত্র হাকিমুল ইসলাম এর সঙ্গে ট্যাগ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে হাকিমুল ইসলাম বলেন, "আমাকে তো সবাই ফেসবুকে ট্যাগ করে কিন্তু কে কি ট্যাগ করেছে আমি জানি না।" তিনি আরো বলেন, "মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাছে আমাদের বিনিত অনুরোধ ওই কেসে সঠিক তদন্ত করে যারা অভিযুক্ত তাদের শাস্তি দেওয়া হক।"


No comments:
Post a Comment