সাজানো না, সত্যিকারে পুরনো সব কবরের মাঝে বসে খেতে কেমন লাগবে আপনার? যেমনই লাগুক ভারতের আহমেদাবাদের অধিবাসীদের বোধহয় মজাই লাগছে। তা না হলে কী কবরস্থানে খোলা রেস্তোরাঁ এত জমজমাট হয় কীভাবে!
লোভনীয় সব দক্ষিণী খাবারে সাজানো এই রেস্তোরাঁয় খেতে হলে আপনাকে যেতে হবে ভারতের আহমেদাবাদের লাল দরজা অঞ্চলের নিউ লাকি রেস্তোরাঁয়। যেখানে সাজানো সব টেবিলের পাশে ছড়ানো রয়েছে এক ডজন সমাধি।
এর আগে কয়েক দশক ধরেই বন্ধ ছিলো শতাব্দীপ্রাচীন ওই কবরস্থান। পরে ওই জায়গার মালিকের কাছ থেকে পুরো কবরস্থানটা কিনে নেন কৃষাণ কুট্টি। ভূতের ভয় তো দূরের কথা মালিক কৃষাণ মনে করেন কবরগুলোর জন্যই তার ব্যবসা ফুলে ফেঁপে উঠছে। খাবারের গুণমান ছাড়াও এখানে লোক আসার বড় কারণ ওই কবরগুলো।
কিন্তু কবরগুলো কাদের তা তিনি নিজেও জানেন না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান‚ ষোড়শ শতকের কোনও এক সুফি সাধকের ভক্তদের কবর ওগুলো। ওই সুফির কবরও আছে কাছেই আর এক জায়গায়।
তবে কবরস্থানে রেস্তোরাঁ করলেও কৃষাণ কবরগুলোর সরিয়ে ফেলা তো দূরের কথা বরং খুব সুন্দর করে সাজিয়ে রাখেন সেগুলো। রোজ সকালে রেস্তোরঁ খোলার আগে রেস্তোরাঁর কর্মীরা কবরগুলোতে নতুন চাদর পাতেন, ছড়িয়ে দেন তাজা ফুল। প্রতিটি কবরের চারপাশ গ্রিল দিয়ে সুন্দর করে বাঁধিয়েও দিয়েছেন কৃষাণ।
কবরস্থানের গুনে টানা ৫০বছর ধরে জমজমাট হয়ে চালু থাকা নিউ লাকি রেস্তোরাঁর এতই পসার বেড়েছে যে আগে যেখানে শুধু চা‚ বিস্কুট আর মাখন টোস্ট বিক্রি হত এখন খদ্দের সামলাতে খুলতে হয়েছে দুটো বিভাগ। এক জায়গায় শুধু আগের মতো মালাইদার দুধ চা-বিস্কুট-টোস্ট পাওয়া যায়, আর এক জায়গায় চা-কফি-কোল্ডড্রিঙ্কের সঙ্গে দক্ষিণের সব মজাদার খাবার।

No comments:
Post a Comment