এমন একটা রেস্তোরার কথা ভাবুন- যেখানে রোবটেরা স্বাগত জানাচ্ছে ক্রেতাদের। রোবটের হাতেই পরিবেশিত হচ্ছে খাবার। স্বাগত আর পরিবেশন নয় শুধু, রান্নাবান্নার দায়িত্বও যন্ত্রমানবেরাই করছে পালন।বিজ্ঞান কল্পকাহিনী বা সিনেমায় এমন রেস্তোরার নজির আছে অনেক। তবে এখন আর কল্পনায় নয়, রোবট পরিচালিত রেস্তোরা যাত্রা শুরু করেছে বাস্তবেই।
গত সপ্তাহে চীনের কানশানের চালু হয়েছে রেস্তোরাটিতে ক্রেতাদের স্বাগত জানাতে রাখা হয়েছে দুটি রোবট। টেবিলে খাবার পরিবেশনের দায়িত্ব পালনে চারটি ছোট মানবাকৃতির রোবট আছে নিয়োজিত। আর রান্নাঘরে খাবার ভাজা এবং পুডিং বানানোর কাজে ব্যস্ত আরো দুটি রোবট।অভিনব এই রোবট পরিচালিত রেস্তোরাটির প্রতিষ্ঠাতা সং ইউগ্যাং নামের এক ব্যাক্তি। নিজের রেস্তোরা সম্পর্কে এএফপিকে তিনি জানান, এই রেস্তোরা চালুর প্রাথমিক বুদ্ধিটা তার মেয়ের মাথা থেকে আসে। মেয়েটি গৃহস্থালি কাজ করতে মোটেও পছন্দ করে না। বাবাকে তাই এমন রোবট আবিস্কারের বুদ্ধি দিয়েছিল সে, যে রোবটেরা গৃহস্থালি কাজে পটু হবে। এই ভাবনাই শেষ পর্যন্ত রেস্তোরার পরিকল্পনা পর্যন্ত নিয়ে যায় ইউগ্যাংকে।
রেস্তোরায় নিয়োজিত প্রতিটি রোবট তৈরিতে খরচ পড়েছে ৪০ হাজার ইয়েন বা সাড়ে ছয় হাজার মার্কিন ডলার। এই খরচ রেস্তোরার কাজে নিয়োজিত একজন মানবকর্মীর বার্ষিক বেতনের সমান।ইউগ্যাং বলেন, ‘রোবটগুলো দৈনন্দিন ব্যবহৃত ৪০ টি বাক্য বুঝতে পারে। তবে মজার ব্যাপার হল এরা কখন অসুস্থ হবে না কিংবা ছুটি চাইবে না। এদের দুই ঘণ্টা চার্জ দিলে অনায়াসে পাঁচ ঘণ্টা কর্মক্ষম থাকবে।’
রোবট পরিচালিত রেস্তোরার নজির এটাই প্রথম নয়। ২০১২ চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় হারবিন শহরে একটি রোবট পরিচালিত রেস্তোরা চালু হয়।সাম্প্রতিক সময়ে শ্রমিকদের পারিশ্রমিক ক্রমশ বেড়ে যাওয়ায় চীনে দৈনন্দিন কাজে রোবটের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃদ্ধির মাত্রা এতোটাই ব্যাপক হয়ে উঠেছে যে, গত বছর শিল্পক্ষেত্রে রোবটের ব্যবহারে শীর্ষে থাকা জাপানকে এরই মধ্যে পেছনে ফেলেছে চীন।

No comments:
Post a Comment