দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে ক্রমাগত স্থবির হয়ে যাচ্ছে ডুয়ার্সের মেটেলি ব্লকের মুর্তি চাবাগানের শ্রমিক পরিবারের এক কিশোর শাহিদ ঝোরা। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না অসহায় মা।
ডুয়ার্সের মেটেলি বাজার যে পথ সামসিংয়ের দিকে চলে গেছে সেই পথেই পড়ে মুর্তি চা বাগান। এই মুর্তি চা বাগানের ফ্যাক্টরি লাইন শ্রমিক বস্তির এক ঘরে বিছানায় শয্যাশায়ী কিশোর শাহিদ। দৃষ্টিশক্তি ইতিমধ্যে হারিয়ে ফেলেছে।হাত পা ক্রমাগত অসার হয়ে যাচ্ছে। অথচ কয়েক মাস আগেও শাহিদ অন্যান্য বাচ্চাদের মতো স্কুলে যেত। অন্যান্যদের মতো প্রাণচাঞ্চল্ ছিল।খেলাধুলো করতো। মাস ছয়েক আগে আচমকা চোখে কম দেখতে শুরু করে।বন্ধ হয় স্কুল যাওয়া। তারপর ক্রমাগত দুর্বল হতে থাকে।মা রেবিকা ঝোরা সামর্থ্যানুযায়ী জোগাড় করে মংগলবাড়ি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানের চিকিৎসার পর নিয়ে যায় উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।সেখানেও কিছুদিন চিকিৎসা চলে।তারপর অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে বাড়ি নিয়ে চলে আসে।বর্তমানে বাড়িতেই শয্যাশায়ী। নিজের খাওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।
এরকম এক সন্তান দরিদ্র মা অসহায় হয়ে দিন পার করছেন।মা রেবিকা ঝোরা বললেন,মাস ছয়েক আগেও স্কুলে যেত খেলাধুলো করতো। তারপর আচমকাই এমন হয়ে গেল।দু একবার চিকিৎসা করিয়েছি।এখন কি করব? কোথায় যাব? কিছুই বুঝতে পারছি না।
ওই চাবাগানের জানাল,মেডিকেলের ডাক্তারবাবু জানিয়েছেন ওকে বাইরে নিয়ে যেতে। কিন্তু,ওদের পক্ষে বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করা সাধ্যাতীত।
কেন এমন হলো।জানতে চাওয়া হলে এক বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষঞ্জ জানান,রোগী না দেখে কিছু বলা যায় না।তবে যা শুনেছি, তাতে মাথায় আঘাত জনিত কারনে হয়ে থাকতে পারে।কলকাতায় এনে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে চিকিৎসা করে দেখা যেতে পারে।
মাল ব্লকের BMOH প্রিয়াঙ্কু জানা জানিয়েছেন, আমি এখনো দেখি নি বাচ্চা টাকে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসলে চিকিৎসার ব্যাবস্থা করা হবে।

No comments:
Post a Comment