ভারতের কেরালা রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এখনো পর্যন্ত বন্যায় ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। সংখ্যা আরো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷
৭১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়ানক বন্যার সম্মুখীন কেরলবাসী। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দক্ষিণ রেলওয়ের পরিষেবা ও কোচি মোট্রো পরিষেবাও। গৃহহীন দেড় লাখ মানুষ ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।
রাজ্যে এই প্রথম একসঙ্গে ৩৫টি বাঁধের পানি ছাড়া হয়েছে। মোট ৩৯টি বাঁধের মধ্যে ৩৫টির থেকেই জল ছাড়া হয়েছে। তামিলনাড়ুর মুল্লাপেরিয়ার বাঁধ থেকে জল ছাড়ার পর কেরালার বন্যা পরিস্থিতি আরো ভয়ানক হয়ে ওঠে।
বন্যার ফলে এই প্রথম চারদিনের জন্য বন্ধ রয়েছে কোচি বিমানবন্দর। বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বিমান পরিষেবা। রানওয়ে পুরোপুরি পানির নিচে। ফলে কোনো বিমান ওঠানামা করতে পারছে না। বেশ কিছু বিমানকে কোঝিকোড় ও তিরুবনন্তপুরম বিমানবন্দর দিয়ে অবতরণ করানো হচ্ছে। কোচি বিমানবন্দর পেরিয়ার নদীর তীরের কাছে অবস্থিত।
ইদ্দুকি বাঁধের স্লুইস গেট খুলে দেয়া হয়েছে। ফলে জলস্তর আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। আপাতত বানভাসিদের জন্য ১০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যারা নিজেদের জমি ও ঘর দুটোই হারিয়েছেন তাদের মোট ১০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে। যেখানে ৬ লাখ রুপি জমি কেনার, ৪ লাখ রুপি বাড়ি বানানোর।
বন্যার্তদের মধ্যে যাদের গুরুত্বপূর্ণ নথি হারিয়ে গেছে তাদের বিনামূল্যে নথি তৈরির আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। বন্যাবিধ্বস্ত প্রত্যেক ত্রাণ শিবিরে কয়েক হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। রাজ্যের স্কুলগুলোতেও আশ্রয় নিয়েছে বন্যার্তরা।
এদিকে একটানা বৃষ্টি এখনো চলছে। তিরুবনন্তপুরমে পথনমমিথায় জলমগ্ন এলাকার থেকে সাতজনকে উদ্ধার করেছে সেনা। জাতীয় স্বার্থে জরুরি ব্যবস্থা জারি করা হয়েছে কেরলায়। স্কুল, কলেজ, সরকারি দফতর আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। সূত্র: এই সময়

No comments:
Post a Comment