‘এয়ারলিফট’, ‘টয়েলট এক প্রেম কথা’, ‘প্যাডম্যান’ এবং সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ‘গোল্ড’, শেষ কয়েক বছরে সিনেমার মধ্যে দিয়ে দর্শকদের মনে বারবার আঁচড় কেটে গেছেন বলিউডের খিলাড়ি ‘অক্ষয় কুমার’। কোন ক্রীড়া ব্যাক্তিত্বের বায়োপিক তিনি পর্দায় বাস্তবায়িত করতে চাইবেন এর উত্তরে প্রোডিউসার-অভিনেতা অক্ষয় বেছে নিলেন বাঙালি দৌড়বিদ হিমা দাসকে।
এই প্রথম বাঙালি চরিত্র করছেন। কলকাতায় থাকার দিনগুলো মনে পড়ে?সম্প্রতি এই নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারবে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি পূর্বপশ্চিম পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো–
হ্যাঁ, অনেক স্মৃতি। নিউ মার্কেটের কাছে আমার কাজের জায়গা ছিল। দু’বছর ছিলাম ওই শহরে। তখন অনেক কিছু শিখেছিলাম। যেগুলো জীবনে চলার পথে কাজে লেগেছে। বাঙালিরা খুব জেদি হয়। কোনও বিষয় এক বার মাথায় ঢুকলে যেন তেন প্রকারে সেই কাজটা করেই ছাড়ে। তাতে পুরো জীবন লেগে গেলে, লেগে যাবে। এক কথায় বাঙালিরা জিনিয়াস। এই শহর থেকেই এক জন ভাল বন্ধু পেয়েছি। তার সঙ্গে এখনও আমার যোগাযোগ আছে। তখন তো বাংলাও ভাল বুঝতে পারতাম। কোথায় কী খাবার ভাল পাওয়া যায়, সব জানতাম।
আপনার নায়িকা মৌনী রায়ও তো বাঙালি।
মৌনী খুব ভাল অভিনেত্রী। টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ। ও আমার স্ত্রীর ভূমিকায়। ওর চরিত্রের খুব জোরালো একটা দিক আছে, সেটা ক্রমশ প্রকাশ্য।
‘গোল্ড’ করার পিছনে কী কারণ ছিল?
১৯৪৮ সালে স্বাধীন ভারত অলিম্পিকে প্রথম সোনা জেতে। সেই সময়ে আমাদের দেশে যা রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল, তাতে ঘটনাটা চাপা প়়ড়ে যায়। ইতিহাসের বইতে হয়তো উল্লেখ আছে। কিন্তু সে সব আর কে উল্টে দেখে! আমাদের মনে হয়েছিল, এই গল্পটা সবাইকে বলা প্রয়োজন। এ রকম গল্প ছবির মাধ্যমে দর্শকের কাছে তুলে ধরলে, তার ইমপ্যাক্ট অনেক বেশি হয়। আমি খুব ভাগ্যবান যে, ছবিটা আমার কাছে এসেছে।
অক্ষয়কুমারকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আধুনিক জগতের মনোজকুমার বলা হয়। আপনার কী মত?
এই সব আমি ভাবি না। ‘এয়ারলিফ্ট’, ‘টয়লেট এক প্রেম কথা’, ‘প্যাডম্যান’, ‘গোল্ড’-এর মতো ছবি করি, কারণ আমি চাই ছবির মাধ্যমে ব্র্যান্ড ইন্ডিয়া তৈরি করতে। হলিউডের ছবির প্রভাব আমাদের উপর খুব বেশি। আমেরিকার সুপার পাওয়ার হওয়ার পিছনে ওদের ছবির অবদান অনেক। ওরা যদি ‘থ্রি হান্ড্রেড’ বানাতে পারে তা হলে আমরা ‘কেশরী’ বানাতে পারব না? যেখানে মাত্র একুশ জন শিখ দশ হাজার আফগানের সঙ্গে লড়াই করেছিল!
এই বয়সেও এতটা এনার্জি কী করে?
রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমোতে যাওয়া আর সকালে ওঠা। সকাল পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠে দেখুন, ভাল লাগবে। ক্রোয়েশিয়া ওয়র্ল্ড কাপ ফাইনালে খেলেছে কারণ, ওই দেশে যুবক থেকে বৃদ্ধ সবাইকে যে কোনও একটা স্পোর্টস খেলতেই হয়। আমাদের দেশে এ নিয়ে কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু আমি সকলকে অনুরোধ করছি, যে কোনও একটা খেলা নিয়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। তাতে মনও ভাল থাকবে। আমাকে অনেকে ডিপ্লোম্যাটিক বা পলিটিক্যালি কারেক্ট বলেন। আমি সেটা স্বীকারও করছি। কিন্তু আমি কোনও দিন কারও নিন্দে করিনি। কোনও সাক্ষাৎকারে কারও নামে খারাপ কথা বলিনি। দেখবেন, আমার নামেও কেউ খারাপ কথা বলে না। মার্শাল আর্টের মূল মন্ত্র— ধৈর্য রাখা। মনকে সব নেগেটিভ জিনিসের থেকে দূরে রাখা। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। এগুলো আমরা ছোটবেলা থেকে শিখে আসছি। কিন্তু ভুলে যাই।
সন্তানদের মধ্যে নিজের কী কী গুণ দেখতে চান?
ওরা নিজেদের ব্যক্তিত্ব নিজেরা তৈরি করুক। ভাল-খারাপ দিকগুলো বলে দিই, বাকিটা নিজেরা বুঝে নিক।
অনেকের বায়োপিকে অভিনয় করেছেন। নিজের বায়োপিক করতে চান না?
না। এমন কিছু করিনি যার জন্য আমার বায়োপিক বানাতে হবে। অরুণাচল মুরুগানন্থম সস্তায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বানিয়েছেন। রঞ্জিত কাটিয়াল ১ লক্ষ ৭০ হাজার লোককে এয়ারলিফ্ট করেছিলেন। তাঁদের সামনে আমি কে?
অক্ষয়কুমারের কাছে স্টারডম কী?
স্টারডম আজ আছে, কাল নেই। কোনও কিছুকে হালকা ভাবে নিই না। পরিশ্রম করি। টেকেন ফর গ্রান্টেড মনোভাব নেই আমার। কেরিয়ারের শুরুতে অনেকটা স্ট্রাগল করেছি। মুম্বইয়ের চার্চগেট স্টেশনের কাছে রাস্তার একটি বুকস্টলে ‘হাউ টু লার্ন অ্যাক্টিং’ বলে একটা বই কিনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যথেষ্ট টাকা ছিল না। মুম্বই আমাকে কাজ দিয়েছে। কাজ করতে শিখিয়েছে।

No comments:
Post a Comment