মালদার ব্যবসায়ী সংগঠনের এক্স-সম্পাদকের জালিয়াতি!! - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 5 August 2018

মালদার ব্যবসায়ী সংগঠনের এক্স-সম্পাদকের জালিয়াতি!!



অর্ক রায়,মালদা : আবারও বিস্ফোরক অভিযোগ, মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের সদ্য বিদায়ী সম্পাদক উজ্জ্বল সাহার বিরুদ্ধে। এবারে শহরের রথবাড়ি ফ্লাইওভারের নিচে দোকান দিতে বেনিয়ম, স্বজনপোষণ, আত্মসাতের অভিযোগে সরব সংগঠনেরই অন্য এক প্রাক্তন সম্পাদক তথা আজীবনের জন্য নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হেমেন সাহা। জেলার এই প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ইতিমধ্যেই আইনজীবীর মাধ্যমে চিঠি দিয়ে মালদার চেম্বার অফ কমার্স এর কাছে ফ্লাইওভারের নিচে দোকান বিলি তে স্বজনপোষণ, দুর্নীতি এবং আর্থিক তছরুপের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে সমস্ত বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। তথ্য জানার অধিকার এ বিষয়ে তিনি ইতিমধ্যেই চিঠি দিয়েছেন মালদার জেলা শাসক এবং পূর্ত দপ্তর কেও।
এছাড়াও সদ্য বিদায়ী এই সম্পাদকের বিরুদ্ধে মালদার চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হয়েছে ,পদ থেকে সরে যাওয়ার পর ও উজ্জল সাহা সংগঠনের বেশ কিছু কাগজপত্র ফাইল সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নিজের কাছে আটকে রেখেছেন ।এমনকি মালদার চেম্বার অফ কমার্সের অফিসিয়াল পাসওয়ার্ড নিজের কাছে জোর করে রেখে দেওয়া, এমনকি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইমেইল ডিলিট করে দেওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগ ও রয়েছে তার বিরুদ্ধে ।


এ ব্যাপারে মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স এর সম্পাদক জানিয়েছেন "আমরা ডিলিট করে দেওয়া ইমেইল গুলি উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছি। খোয়া যাওয়া কিছু কাগজপত্র উজ্জল সাহা ফেরত দিলেও এখনো অনেক কাগজপত্র এবং ফাইল পাওয়া যাচ্ছে না। আমি এবং সভাপতি দুজনেই শ্রী সাহার বাড়ি গিয়ে তাকে অনুরোধ করেছি কাগজপত্র ফেরত দিতে।
বেশ কয়েকদিন হয়ে গেছে এখনো সমস্ত কাগজপত্র আমরা পাইনি। আগামীতে সমস্ত কাগজপত্র না পেলে সংগঠনের স্বার্থে আমাদের থানায় অভিযোগ জানানো ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।"


যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছেন মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের সদ্য বিদায়ী সম্পাদক উজ্জ্বল তিনি বলেন, "এ সবই মিথ্যে অভিযোগ ।চেম্বারের ই মেইলের পাসওয়ার্ড সম্পর্কে তার বক্তব্য, এই পাসওয়ার্ড পাওয়া যাচ্ছে না ।আর তিনি কোন ইমেইল ডিলিট করেননি" বলেও জানান।
ফ্লাইওভারের নিচে দোকান বিলিবন্টন এ দুর্নীতি প্রসঙ্গে তার বক্তব্য ,"এই চুক্তি পূর্ত দপ্তর এর সঙ্গে মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের হয়েছিল । চুক্তিতে চেম্বারে পক্ষে লিজ হোল্ডার হিসেবে তিনি এবং বর্তমান সম্পাদক স্বাক্ষর করেছিলেন। "তবে দোকান কিভাবে বিলি করা হয়েছে ,কারা এই দোকান পেয়েছেন তার উত্তরে তিনি বলেন, "এসবের উত্তর বর্তমান সম্পাদক বলতে পারবেন।"
তবে মালদা শহরের রবীন্দ্র এভিনিউতে ফ্লাইওভারের নিচে দোকান তৈরীর আগে পূর্ত দপ্তরের সঙ্গে লিজ চুক্তিতে প্রাক্তন সম্পাদক উজ্জ্বল সাহার সাথে বর্তমান সম্পাদক জয়ন্ত কুন্ডুর স্বাক্ষর লিজ হোল্ডার হিসেবে আছে বলে উজ্জ্বল বাবু দাবি করলেও, ২০১০ সালের ৩১ শে মার্চ পূর্ত দপ্তর এর নিবাহি বাস্তুকার মালদা হাই ডিভিশন এর সাথে মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় যার দলিল নম্বর আই-৩৬৫৬ মৌজা মহেশমাটি, জে এল নম্বর- ৬৬ ,প্লট নম্বর- ৭৮, জায়গার পরিমান ৩৪৭৩ দশমিক ২৫ বর্গ ফিট। সেখানে দেখা যাচ্ছে
এই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল কেবল মাত্র লিজ হোল্ডার হিসেবে উজ্জল সাহা এবং দাতা হিসেবে পূর্ত দপ্তর এর নিবাহী বাস্তুকার এর মধ্যে। চুক্তিতে লিজ হোল্ডার হিসেবে জয়ন্ত কুন্ডুর নাম কোথাও দেখা যায়নি।
আর এখানেই ব্যবসায়ী মহলের প্রশ্ন ,নাম না থাকা সত্ত্বেও কেন বিদায়ী সম্পাদক উজ্জল সাহা মিথ্যে কথা বলে জয়ন্ত কুন্ডু কে এই ঘটনার মধ্যে যুক্ত করতে চাইছেন?
ইতিমধ্যেই এই দোকান বিলি প্রসঙ্গে ব্যাপক অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগে সরগরম জেলার ব্যবসায়ী মহল। প্রশ্ন উঠেছে এই দুর্নীতি থেকে নিজেকে আড়াল করতেই কি বিদায়ী সম্পাদক স্বচ্ছ ভাবমূর্তির বর্তমান সম্পাদক কে সামনে আনার চেষ্টা হচ্ছে? কারণ সদ্য দায়িত্ব নেওয়া জয়ন্ত কুন্ডু ইতিমধ্যেই মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে কিছু কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যাতে ইতিমধ্যেই ঝুলি থেকে বেশ কিছু বিড়াল বেরিয়ে পড়েছে বলেই ব্যবসায়ী মহলের অভিমত।
মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের অন্য এক প্রাক্তন সম্পাদক অভিযোগ করেছেন "দোকান বিলিতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। এই দোকানগুলি নামে-বেনামে বেশ কয়েকটা বেআইনিভাবে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে ।"তিনি এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছেন।
"২০১০ সালে এই দোকানগুলির অধিকার মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স এর পক্ষে উজ্জল সাহা গ্রহণ করলেও এখনও পর্যন্ত এই সমস্ত দোকানগুলির ১১০ জন ব্যবসায়ীর একজনও এখনো পর্যন্ত দোকানের কোন ধরনের কাগজপত্র হাতে পাননি, ফলে তাদের ব্যাংক ঋণ ট্রেড লাইসেন্স সহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে" জানিয়েছেন মালদা রথবাড়ি ফ্লাইওভার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সম্পাদক দ্বিজেন বালা।
সদ্য বিদায়ী সম্পাদক উজ্জ্বল প্রসঙ্গে আইনজীবী সঞ্জয় কুমার শর্মা জানান, "মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের পথটাকে ব্যবহার করে ব্যবসা করা হচ্ছে। যখনিই উজ্জল সাহা ধরা পড়েছেন, আমি শুনতে পেয়েছি উনি অনেক ওখান থেকে সরিয়েছেন। অনেক গুরুত্বপূর্ণ মেইল ডিলিট করে দিয়েছেন। কারণ ,এগুলো যদি লোকেদের সামনে চলে আসতো তাহলে উনি ধরা পড়ে যেতেন। আমরা আমাদের নোটিশের জবাব এবং তথ্য জানার অধিকার দেওয়া চিঠির উত্তর পাওয়ার পরেই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।
আমার কাছে আম বাজার থেকেও বেশ কিছু ব্যবসায়ীরা এসেছিলেন ।তাদের বক্তব্য, সেখানেও দোকানে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে উঠে এসেছে এই প্রাক্তন সম্পাদকের নাম ।আমরা সবকিছু জানতে চাই । তবে তিনি যে পদের অপব্যবহার করেছেন এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।"
অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে আইনজীবী জানান "ফ্লাইওভারের নিচে যে দোকানগুলি রয়েছে তার মনেও ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে ২০১০ সালে যে দোকানগুলি দেওয়া হয়েছে সেগুলি পরিমাণে অনেক কম ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বেশি অর্থ নেওয়া হয়েছে এই দোকান গুলির মধ্যে বেশ কয়েকটা মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের পদে থাকা লোকজন অন্যায় ভাবে হাতিয়ে নিয়েছেন উজ্জ্বল সাহা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামেও বেশ কয়েকটি দোকান নেওয়া হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। যদিও এই বিষয়গুলির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দরকার ।আমি ইতিমধ্যেই মালদা শহরের এক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী তথা এই সংগঠনের প্রাক্তন সম্পাদক কথামতো চেম্বারকে আইনি নোটিশ দিয়ে জানতে চেয়েছি বেশ কিছু তথ্য তথ্য জানার অধিকার এও বেশকিছু দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে সমস্ত কাগজ হাতে পাওয়ার পরই আসল সত্যিটা বেরিয়ে আসবে। তখন আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
এই দোকান বিলিতে যে বেশ কিছু দুর্নীতি হয়েছে তা আমাদের অন্তর তদন্তেও স্পষ্ট ।এই বাজারে কজন প্রকৃত দোকানদার দোকান পেয়েছেন এর উত্তরে ,কখনো ৬৫ কখনো ৬৮, ১০০ বা ১১২ দোকানদারের কথা বিভিন্ন সময় শোনা গেছে। তবে আসল সংখ্যাটি কত তা নিয়ে কিন্তু ধোঁয়াশা থেকেই গেছে।
কারা এখানে দোকান পেয়েছেন? প্রাপকদের নাম ঠিকানা বা ফোন নাম্বার ,বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও তা পাওয়া যায়নি ।আর এখানেই আমাদের সন্দেহ গভীর হয়েছে।
এই দোকান ঘর গুলি কি নির্মিত হয়েছিল তখনকার অনুমোদিত নকশা অনুসারে ? নাকি ব্যক্তি স্বার্থে দোকান ছোট করে,বাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল বেশ কয়েকটা ঘর । উত্তর অধরা।
যে মাপ এবং নিয়ম মেনে এই দোকান ঘর গুলি করার কথা ছিল, বা দোকান নির্মাণের পর এই সমস্ত দোকানে কি ধরনের ব্যবসা করা যাবে নির্দিষ্ট করা ছিল,তা কি বর্তমানে পালিত হচ্ছে?
ঘরগুলি বিলি বন্টনের সময় স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়েছিল কি?
এরকম বহু প্রশ্নের উত্তরের আশায় এখনো তাকিয়ে রয়েছেন জেলার বহু ব্যবসায়ীর সঙ্গে লক্ষ্য লক্ষ্য মালদাবাসীও।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad