খুলিবিহীন 'বিস্ময়' শিশু - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, 18 August 2018

খুলিবিহীন 'বিস্ময়' শিশু




শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নেওয়া শিশুদের বড় করে তোলা কত যে কঠিন, তা বুঝতে পারেন একমাত্র বাবা-মায়েরা। কিন্তু আমেরিকার ফ্লোরিডার ব্র্যান্ডন বুয়েল এবং ব্রিটানি বুয়েলের অভিজ্ঞতা সত্যিই বিরল। অদ্ভুত এক সমস্যা নিয়ে জন্মেছিল তাদের শিশু জ্যাক্সন। খুলি এবং মস্তিষ্কের কিছু অংশ ছাড়াই জন্ম নেয় শিশুটি!
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বিরল এই অবস্থার নাম মাইক্রোহাইড্রানেনসেপহ্যালি। যে কেউ তাকে দেখলে হতভম্ব হয়ে যাবেন। অনেকের দৃষ্টিতে তাকে এলিয়েন শিশু বলে মনে হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে এই শিশুটি হয়ে উঠেছে বিশ্বের কাছে এক অসীম প্রাণশক্তির প্রতীক। 'জ্যাক্সন স্ট্রং' নামে তার ফেসবুক পেজে লাইকার আড়াই লাখেরও বেশি। জন্মের বেশ কিছু দিন পর তার বাবা জ্যাক্সনের ছবি প্রকাশ করেছেন।
জন্মের প্রথম তিন সপ্তাহ চিকিৎসকরা তাকে নিয়ে যথেষ্ট ঘাম ঝরিয়েছেন। বাবা-মাকে যেকোনো পরিস্থিতির জন্যে প্রস্তুত থাকতে বলেছিলেন।
বাবা বুয়েল জানান, প্রতিটা ক্ষণ-দিন আমরা জ্যাক্সনের সঙ্গে ছিলাম। যত সময় যাচ্ছিল আমরা ততই আশাবাদী হয়ে উঠছিলাম। এই ফুটফুটে নবজাতক প্রকৃতির বিরুদ্ধে যেভাবে টিকছিল, তা দেখেই ওর নাম দিয়েছি 'জ্যাক্সন স্টং'।
দেখতে দেখতে এক বছর পেরিয়ে গেছে জ্যাক্সনের। বয়স যখন ঠিক ১৩ মাস, তখন ফেসবুকে বিশাল একটি পোস্ট দিয়েছেন বাবা-মা। পোস্টের শেষের দিকে লিখেছেন, এটা পরিষ্কার যে জ্যাক্সনের ক্ষুদে পায়ের ছাপ এই পৃথিবীতে দীর্ঘস্থায়ী অভিব্যক্তি রেখে যাবে। ইতিমধ্যে গত এক বছরে জ্যাক্সন বহু প্রাণের প্রাণশক্তির প্রতীক হয়ে গেছে এবং আমাদের কাছে আজীবন তাই হয়ে থাকবে। 
জ্যাক্সন নামের শিশুটি এখন কেবলমাত্র সবার কাছে বেঁচে থাকার শক্তিই নয়, মেডিক্যাল কমিউনিটিতেও এক আশাপ্রদ মানব প্রাণ। বড় বড় নিউরোলজিস্টরা বলছেন, জ্যাক্সনকে নিয়ে কে কি চিন্তা করছেন তা বড় কথা নয়। আমাদের বিশ্বাস, এই বিরল অবস্থা নিয়ে জন্ম এবং বেঁচে থাকার পেছনে প্রকৃতির বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে। আমরা তাই বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করছি। জ্যাক্সনের বেঁচে থাকা এক অতিপ্রাকৃতিক ঘটনা।
কিন্তু বাবা-মায়ের চিন্তা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যাচ্ছে না। জ্যাক্সন বেঁচে আছে এতেই তারা আনন্দিত। এখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য জ্যাক্সনকে আদর-যত্নে বড় করে তোলা। ছোট্ট এই শিশুটি বেঁচে থাকুক মানুষের প্রাণশক্তি হয়ে, এটাই স্বপ্ন তাদের। সূত্র : হাফিংটন পোস্ট

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad