ভরা এজলাসে একরাশ অপমান আর লজ্জা নিয়ে ধর্ষিত তরুণী শোনালো এক আশ্চর্য গল্প। তরুণী যার প্রেমে পড়েছিলেন, সেও যে এক নারী, তা সম্পর্ক বিছানায় গড়ানোর আগে পর্যন্ত বুঝতে পারেননি। এই প্রতারণার বিচার চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন তিনি।
ঘটনাটি ইংল্যান্ডের চেন্টারের। অভিযুক্ত পঁচিশ বছর বয়সী তরুণী গেইল নিউল্যান্ডের সঙ্গে তরুণীর আলাপ পরিচয় ফেসবুকে। নিউল্যান্ড গার্লফ্রেন্ড বাগাতে ‘কি ফরচুন’ নামে একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলে। আলাপের এক পর্যায়ে দু’জনের সম্পর্ক ঘনিষ্ট হয়। একদিন ঘুরতে যান চেস্টারে। সারাদিন ঘুরাফেলা করে হোটেলে ফেরেন রাতযাপন করতে। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে তখনই।
চেস্টার ক্রাউন কোর্টে ওই তরুণী বলেন, ‘আমি যখন বুঝলাম, আমার বয়ফ্রেন্ড আসলে, পুরুষ নয়, আমারই মতো যুবতী, নিউল্যান্ড, এর পর ঘেন্নায় গা গুলিয়ে ওঠে। মানসিকভাবে অসুস্থ বোধ করি।’
ভিডিও কনফারেন্সে এই জবানবন্দি রেকর্ড করেন বিচারক। সেখানে সাক্ষীর কথাও ছিল। পরে, ভিডিও লিঙ্কে হাজির হয়ে বিচারক রজার ডটনের প্রশ্নের উত্তর দেন ওই তরুণী। জানান, ২০১১ সালে ভুয়া প্রোফাইল থেকে তাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিলেন নিউল্যান্ড। রিকোয়েস্টে উল্লেখ করেন, মিউচুয়াল ফ্রেন্ডের সূত্রেই তিনি তাকে চেনেন।
এভাবেই শুরু। ক্রমে প্রেমের সম্পর্ক। এর মধ্যে কয়েকবার প্রেমিক কি ফরচুনের সঙ্গে দেখাও করতে চান। কিন্তু, প্রতিবারই পাশ কাটিয়ে যান ‘কি’। নানা অজুহাতে। ফেসবুক ছাড়াও তাদের কথা হতো ফোনে।
অবশেষে ২০১৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি চেস্টারের ডেনে হোটেলে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হন দু’জনে। কেন তাকে এড়িয়ে গেছেন এর ব্যাখ্যাও দেন কি। জানান, দুর্ঘটনায় তার পুরুষাঙ্গে চোট লেগেছিল, এর জন্য অস্ত্রোপচারও করাতে হয়। এসব গল্পের পর সঙ্গম করতে গিয়ে তরুণী চমকে উঠে দেখেন কি’র পুরুষাঙ্গ আসলে কৃত্রিম!
স্তন চাপা দিতে নিউল্যান্ড বুকে ব্যান্ডেজ জড়িয়ে রাখতেন। কিন্তু বলতেন, ‘হার্ট মনিটর’কে সুরক্ষিত রাখতেই তাকে বুকে ব্যান্ডেজ বাঁধতে হয়।
তবে ধোঁয়াশার বিষয় হচ্ছে, চেস্টারের হোটেলের ওই ঘটনার পরে, এই তরুণীর সঙ্গে কি’র আবার দেখা হয়। ওই বছরই জুনে নিউল্যান্ড ওরফে কি’র ফ্ল্যাটে আবারও গিয়েছিলেন তরুণী। আবার তারা মিলিত হন। কিন্তু, এবার আর পুরুষের ভেক ধরেননি নিউল্যান্ড।
এদিকে বান্ধবীর আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কি ওরফে নিউল্যান্ড। তার দাবি, তিনি যে নারীই, তা জানতেন বান্ধবী। কোনও কিছুই গোপন করেননি। এমন অভিযোগ ওঠায়, তিনি বিস্মিত।

No comments:
Post a Comment