অর্ক রায়,মালদা, ১৭ অগাস্ট : কথা না শোনায় শ্বশুরের হাতে আক্রান্ত হলেন পুত্রবধূ। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৬০ বছরের এক প্রতিবেশীও।বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে বামনগোলা থানার চাঁদপুর গ্রামে। শুক্রবার গভীর রাতে আক্রান্ত দু'জনকে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পুলিশে কোনও অভিযোগ দায়ের না হলেও ঘটনার পর থেকেই বাড়ি থেকে বেপাত্তা অভিযুক্ত শ্বশুর।
চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কিছুদিন আগে বিয়ে হয় আলটিনা বিবির। আনোয়ার পেশায় রিকশাচালক। সকাল হলেই রিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। গতকালও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শওহরের অবর্তমানে বাড়ির কাজকর্মে ব্যস্ত ছিলেন আলটিনা। বাড়ির কিছু জিনিসপত্র এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরাচ্ছিলেন তিনি। তাঁকে সেই কাজ করতে মানা করেন শ্বশুর আসিরুদ্দিন শেখ। শ্বশুরের কথা নাকি শোনেননি আলটিনা। এতেই আসিরুদ্দিন পুত্রবধূকে বেধড়ক মারতে শুরু করে। চর-থাপ্পরের সঙ্গে ঘরের চৌকাঠ দিয়েও আলটিনাকে মারা হয়। মাথা ফেটে যায় আলটিনার। তাঁর চিৎকারে প্রতিবেশী ৬০ বছরের আজিমুদ্দিন রহমান তাঁকে বাঁচাতে ছুটে একে চৌকাঠ দিয়ে তাঁর মাথাতেও আঘাত করে আসিরুদ্দিন। মাথা ফেটে যায় আজিমুদ্দিনেরও। এরপর গ্রামের লোকজন ছুটে এসে আসিরুদ্দিনকে নিরস্ত করে। খবর দেওয়া হয় আনোয়ারকে। তিনিও বাড়িতে ছুটে আসেন। তড়িঘড়ি আহত দু'জনকে স্থানীয় বামনগোলা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত পর্যন্ত তাঁরা সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু রাতে আলটিনা ও আজিমুদ্দিনের শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তাঁদের মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয়। মাঝরাতে দুজনকে নিয়ে আসা হয় মেডিকেলে। চিকিৎসার পর আজিমুদ্দিন খানিকটা সুস্থ হলেও এখনও হাঁটাচলা করতে পারছেন না আলটিনা। এদিকে ঘটনার পরেই বাড়ি থেকে পালিয়েছে আসিরুদ্দিন৷ এখনও ঘরে ফেরেনি সে।

No comments:
Post a Comment