ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল পবিত্র ঈদুল আজহা। রাত পোহালে পশু কোরবানির সঙ্গে সঙ্গে মনের খারাপ সত্তাকেও কোরবানি দেবেন সারা বিশ্বের মুসলমানরা। অন্য সবার মতো কোরবানির প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিনোদন ভুবনের তারকারাও। বলিউডের মুসলিম তারকাদের কাছে ঈদুল আজহা মানে ‘বকরি ঈদ’। কারণ ভারতে ঈদুল আজহাকে বলা হয় ‘বকরি ঈদ’। এই ঈদে ভারতীয়রা বকরি বা খাসি কোরবানি দিয়ে থাকেন। বলিউডের মুসলিম তারকারাও তার ব্যতিক্রম নয়। ‘বকরি ঈদ’ নিয়ে খানদের বিড়ম্বনার গল্পই আজ শোনা যাক:
ইরফান খান
২০১৬ সালের কোরবানি ঈদে বেশ তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন বর্তমানে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করা ইরফান খান। সেবছর কোরবানি ঈদের আগে এক মন্তব্য করে ফেঁসে যান তিনি। ইরফান বলেছিলেন, `বর্তমান সময়ে বকরি ঈদের মর্যাদা কেউ ঠিকমতো বোঝে না। কোরবানি দিতে হয় প্রিয় জিনিস। হাট থেকে একটা পশু কিনেই বকরি দেওয়া হয়, যেটা অল্প সময়ে প্রিয় হয়ে ওঠে না।` তাঁর মতে, এখন লোক দেখানোর জন্য চড়া দামে বকরি কিনে কোরবানি দেওয়া হয়। ইরফানের এমন মন্তব্যে চটে যান ভারতের কট্ররপন্থী মুসলিমরা। তাঁকে বিধর্মী বলেও কটাক্ষ করেন অনেকে। এরপ পাল্টা জবাবে ইরফান বলেন , যাঁরা আমার কথার গভীরতা বুঝতে রাজি নন, তাঁদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছুই বলার নেই।’
আমির খান
ইরফানের এই ঘটনার পর হঠাত্ একদিন এক সাংবাদিক আমির খানের কাছে ইরফান খান যা বলেছেন সে সম্পর্কে মন্তব্য জানতে চান। ওই সাংবাদিক নিশ্চয়ই ভালো করে জানতেন, মিস্টার পারফেকশনিস্ট আমির খান তাঁর ধর্ম ইসলাম নিয়মিত চর্চা করেন। যা-ই হোক, আমির খান তো বোকা নন। তিনি জবাব দিলেন, `ধর্ম হচ্ছে ব্যক্তিগত ব্যাপার। তাঁর (ইরফান) নিজস্ব মন্তব্য করার অধিকার আছে।` আমিরের এমন মন্তব্যের পর ইরফানের বিতর্ক অনেকটাই ঢাকা পড়ে যায়।
ইরফানের এই ঘটনার পর হঠাত্ একদিন এক সাংবাদিক আমির খানের কাছে ইরফান খান যা বলেছেন সে সম্পর্কে মন্তব্য জানতে চান। ওই সাংবাদিক নিশ্চয়ই ভালো করে জানতেন, মিস্টার পারফেকশনিস্ট আমির খান তাঁর ধর্ম ইসলাম নিয়মিত চর্চা করেন। যা-ই হোক, আমির খান তো বোকা নন। তিনি জবাব দিলেন, `ধর্ম হচ্ছে ব্যক্তিগত ব্যাপার। তাঁর (ইরফান) নিজস্ব মন্তব্য করার অধিকার আছে।` আমিরের এমন মন্তব্যের পর ইরফানের বিতর্ক অনেকটাই ঢাকা পড়ে যায়।
শাহরুখ খান
কোরবানির সময় ভারতে বলিউডের মুসলিম তারকাদের নামে পশু বিক্রি করা হয়। ২০১৫ সালে শাহরুখ, সালমান আর সাইফকে জয়পুরের এক পশুর হাটে বিক্রি করা হয়! অর্থাৎ তিনটি বকরির নাম এই তিন তারকার নামে রাখা হয়েছিল। সালমান ও শাহরুখের ওজন ১০০ থেকে ১২৫ কেজির মধ্যে ছিল। আর সাইফের ওজন ছিল ৮০ কেজি। একই সঙ্গে আমির খান নামের এক বকরি বিক্রি হয় দেড় লাখ রুপিতে। ওজন ছিল ১২৫ কেজি।
সালমান খান
একই কাণ্ড আবার ঘটলো ২০১৬ সালে। সে বছর শাহরুখ, সালমান আর আমির নামে তিনটা বকরি বিক্রি হয়। ১৫ হাজার থেকে ৫ লাখ রুপি পর্যন্ত চড়া দাম হাঁকেন এদের মালিক। ২০১৫ সালে শাহরুখ খানকে ১ লাখ রুপির ব্যবধানে হারিয়ে দেয় সালমান খান! শাহরুখ খান নামের একটি বকরি বিক্রি হয় ১০ হাজার রুপিতে আর সালমান খান নামের আরেকটি বকরি বিক্রি হয় ১ লাখ ১০ হাজার রুপিতে। ভারতীয় পশু বিক্রেতারা মনে করেন, বলিউডের মুসলিম তারকা, বিশেষ করে `খান`-দের নামে বকরির নাম রাখলে তা খুব ভালো দামে বিক্রি করা যায়। শুধু কি তা-ই? তারা বকরির গায়ে রং দিয়ে আলপনা এঁকে, সেগুলোর পায়ে ঘুঙুর বেঁধে, চোখের পাপড়িতে রং করে আকর্ষণীয় করে হাটে নিয়ে আসেন।
একই কাণ্ড আবার ঘটলো ২০১৬ সালে। সে বছর শাহরুখ, সালমান আর আমির নামে তিনটা বকরি বিক্রি হয়। ১৫ হাজার থেকে ৫ লাখ রুপি পর্যন্ত চড়া দাম হাঁকেন এদের মালিক। ২০১৫ সালে শাহরুখ খানকে ১ লাখ রুপির ব্যবধানে হারিয়ে দেয় সালমান খান! শাহরুখ খান নামের একটি বকরি বিক্রি হয় ১০ হাজার রুপিতে আর সালমান খান নামের আরেকটি বকরি বিক্রি হয় ১ লাখ ১০ হাজার রুপিতে। ভারতীয় পশু বিক্রেতারা মনে করেন, বলিউডের মুসলিম তারকা, বিশেষ করে `খান`-দের নামে বকরির নাম রাখলে তা খুব ভালো দামে বিক্রি করা যায়। শুধু কি তা-ই? তারা বকরির গায়ে রং দিয়ে আলপনা এঁকে, সেগুলোর পায়ে ঘুঙুর বেঁধে, চোখের পাপড়িতে রং করে আকর্ষণীয় করে হাটে নিয়ে আসেন।
তবে ২০১৭ সালে খানদের নামে ভারতে পশু বিক্রির খবর শোনা যায়নি। চলতি বছরের কোরবানি ঈদে আবারো চালু হয়েছে খানদের নামে পশু বিক্রির প্রবণতা। সম্প্রতি ভারতের উত্তর প্রদেশের এক পশুর হাটে সালমান খানের নামে একটি ছাগলের দাম হাঁকা হয়েছে ৫ লাখ রুপি।
No comments:
Post a Comment