
বকরির ঈদ! কোরবানি ঈদ! ঈদুল আযহা।এই ঈদের নাম বকরি ঈদ হওয়ার দুটা ইতিহাস পাওায় যায়।একটি হল এক সময় এই বাংলায় বকরি তথা ছাগল ছাড়া অন্য কোন কোরবানির পশু তেমন একটা পাওয়া যেত না,আর এই বকরি দিয়ে কোরবানি করার কারনে ঈদুল আযহার নাম হয়ে যায় বকরির ঈদ। অন্যমতে আরবি "বাকারা"শব্দের অর্থ গাভী তথা গরু।আর এই গরু কোরবানির পথ ধরে গরুর ঈদ বা বকরীর ঈদ।যাই বলে ডাকি না কেন; এই ঈদ মানেই গরু, ছাগল এর ডাকাডাকি,কাটাকাটি আর বাটাবাটি।না উদ্যোগের মধ্যদিয়েও ১৯৪৭ সালের আগ মুহূর্ত পর্যন্তু পূর্ববঙ্গ তথা বাংলাদেশে হিন্দু জমিদাররা নিজেদের জমিদারিতে কোরবানি বা গো-হত্যা করতে দিত না।জমিদারদের অত্যাচার আর ধর্মী অনুশাসন মানতে গিয়ে অনেকেই ‘বকরি’ ঈদ নামে কোরবানি দিতো।আর এভাবেই ব্রিটিশ আমলে ‘ঈদুল আজহা’স্থানীয়ভাবে ‘বকরির ঈদ’য়ে পরিণত হয়েছিল।আর এই তথ্যের সততা পাওয়া যায় ১৯০৪ সালের দিকে ঢাকার নবাব পরিবারের এক সদস্য কাজী আবদুল কাইউমের ডায়েরি থেকে।সেবছরের কোরবানির ঈদ ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি। তিনি লিখছেন, ‘আজ রোববার, পবিত্র বকরির ঈদ। নামাজ শেষ আমিও অন্যান্যের মতো নওয়াবের সংগে কোলাকুলি করি।নওয়াব সাহেব আমাকে আদেশ দেন অন্যান্যকে নিয়ে বিনা খরচে ক্ল্যাসিক থিয়েটারের নাটক দেখার জন্য।এই দিনলিপি থেকে অনুমান করে নেওয়া যায়- সেসময়ে কোরবানির ঈদ,বকরির ঈদ’ হিসেবে ভালোই পরিচিতি পেয়ে গিয়েছিল। সেটা এতোটাই যে ঢাকার লোকজনদের কোরবানি দিতে তেমন কোনো ঝামেলা না হলেও তারাও এই কোরবানির ঈদকে ‘বকরির ঈদ’ই বলতেন।১৯৪৭য়ে ঢাকা পাকিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী হওয়ায় এটির জাঁক যত বেড়েছে, কোরবানির মাত্রাটাও হয়তো ততটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর নব্য ধনীরা কোরবানিকে ব্যবহার করেছে নিজেদের বিত্ত-বৈভব আর ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে। সর্বশ্রেষ্ঠ ত্যাগের যে প্রতীকী মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কোরবানি মুসলমানদের জন্য আল্লাহ ফরজ করে দিয়েছেন, সেই উদ্দেশ্য থেকে লোক দেখানো কোরবানি আজ অনেক দূরে সরে গেছে। এই লোক দেখানোর কোরবানি পরিহার করে নিজেদের ভেতরের পশুকে কোরবানি দেওয়ার চেষ্টা করাই আমাদের জন্য মঙ্গলময় হবে।
No comments:
Post a Comment