এই প্রথমবারের মতো মিডিয়ার সামনে এলেন আলকায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের মা আলিয়া ঘানেম। ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় তিনি ৯/১১ হামলায় তার ছেলের দায় অস্বীকার করেছেন।
ওসামার মা সৌদি আরবে থাকেন। বিলাবহুল বাড়িটি ওসামার ছবি দিয়ে সাজিয়ে রেখেছেন তিনি। বিন লাদেনের পরিবার সৌদি আরবের অন্যতম ধনী পরিবারগুলোর একটি। কন্সট্রাকশন ব্যবসার সাথে জড়িত পরিবারটির কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে সৌদি সরকার।এসময় তিনি ওসামাকে ‘খুব ভালো ছেলে’ বলে অভিহিত করেন। এছাড়া মাকে ওসামা ‘খুব ভালোবাসতেন’ বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্স সন্ত্রাসী হামলার ‘পরিকল্পনাকারী’ ওসামাকে গুলি করে হত্যা করে।
বড় ছেলে ওসামা বেশ ‘লাজুক ও ধর্মভীরু’ ছিলেন জানান তার মা। তিনি দাবি করেন কিং আবদুলাজিজ ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় চরমপন্থিরা তার ছেলের মগজ ধোলাই করে। এ কারণে ও একদম বদলে গিয়েছিল। তবে তার ওসামা অনেক ভালো ছেলে ছিল বলেও তিনি জানান।
বিন লাদেনের মা আরও বলেন, ও বাসা থেকে আন্দোলনের জন্য অনেক টাকা নিতো। তবে তাকে নিষেধ করা হতো চরমপন্থীদের সঙ্গে না মেশার জন্য। মাকে ও অনেক ভালোবাসতো বলেই কখনো বলতো ও টাকা নিয়ে কী করতো।
লাদেন অর্থনীতির ছাত্র ছিলাম। ছাত্রজীবনে তার সঙ্গে পরিচয় মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য আবদুল্লাহ আজ্জামের সঙ্গে। পরে আজ্জামকে সৌদি আরব থেকে বের করে দেয়া হয়। পেরবর্তীতে আজ্জামই বিন লাদেনের আধ্যাত্মিক উপদেষ্টা হয়েই ছিলেন।
লাদেনের মা দাবি করেন তিনি কখনোই বিশ্বাস করতে পারেননি তার ছেলে জিহাদি হয়ে মানুষ হত্যা করবে। লাদেনের সঙ্গে তার মায়ের সর্বশেষ দেখা হয় ১৯৯৯ সালে একটি আফগান সামরিক ঘাঁটিতে।
এদিন গার্ডিয়ানের সঙ্গ বিন লাদেনের সৎভাই আহমেদও কথা বলেন। আহমেদ গার্ডিয়ানকে বলেন, মা কখনোই মানতে পারেন না তার ছেলে কোনো অন্যায় করেছেন। তিনি এখনো এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
মা তাকে সবসময়ের এখনো ভালো হিসেবেই জানেন। তিনি তার আশেপাশের মানুষদের দোষারোপ করেন। বিন লাদেনের জিহাদি দিকের কথা মায়ের জানা ছিল না বলেও জানান লাদেনের ভাই।
তিনি আরও জানান, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে একযোগে বিমান হামলার কথা তারা জানতেন না। হামলার ‘৪৮ ঘণ্টার’ মধ্যে তার পরিবার জানতে পারে ওই হামলার জন্য ওসামা ও তার দল দায়ী। তার জন্য আমরা সবাই লজ্জা পেতাম।
No comments:
Post a Comment