অর্ক রায়, মালদা: প্রবল প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করেও কেরালার বন্যা পীড়িত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে মালদার রাজপথে হাজার হাজার মানুষ। মালদা জেলা বিদ্যালয় প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি আশিস কুন্ডুর উদ্যোগে পথে নামলেন কয়েক হাজার মানুষ। এই মহতি উদ্যোগে সামিল জেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্তারাও। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে মিছিল করে ঘুরে মানুষকে সচেতন করা, মানবিকতাকে সামনে রেখে কেরালার বন্যা বিধ্বস্ত মানুষদের পাশে থাকার বার্তা দিলেন এই সমস্ত মানুষ জন। আট থেকে আশি সকলেই সামিল ছিলেন এই মিছিলে। এই মিছিল থেকেই আওয়াজ উঠল "সকলের তরে সকলে আমরা"। তোলা হলো কেরলের বন্যা বিধ্বস্ত মানুষদের জন্য অর্থ সাহায্য যা আগামী দিনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মাধ্যমে পাঠানো হবে দুর্গতদের কাছে।
প্রায় সবসময়ই রাজনৈতিক মিছিল মিটিং দেখতে অভ্যস্ত শহরবাসী দেখল ,একটা অন্য ধরনের মিছিল, আর এই মিছিলে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত যোগদান আর মানুষের জন্য কিছু করার অদম্য আগ্রহ নিঃসন্দেহেই একটা অন্য বার্তা দিল সমাজের কাছে।
আর তাই বোধ হয় মানুষের মানুষের এই আবেগ আর স্বতঃস্ফূর্ততার সাথে নিজেদের ও শামিল করেছিলেন মালদার পুলিশ সুপার ,জেলাশাসক থেকে জেলার বিভিন্ন আধিকারিক ছাড়াও, শিল্পী ,সাহিত্যিক সহ সমাজের বিশিষ্ট মানুষজন।
রাখি বন্ধন উৎসবের দিন এই অভিনব উদ্যোগ এর পরিকল্পনা যিনি করেছেন, সেই জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের সভাপতি তথা ইংরেজবাজার পৌরসভা পৌর পিতা আশিস্ কুণ্ডু জানালেন, "কেরালায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহ বন্যায় বহু মানুষ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন ।এখনো যারা আছেন তাদের অনেকেই বিপন্ন, তাই আজ প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে উপেক্ষা করেও আমাদের এই উদ্যোগ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাখি বন্ধন উৎসব কে সামনে রেখেই আমরা দুর্গত মানুষদের সঙ্গে আমাদের বন্ধন সুদৃঢ় করতে চায়। এই উদ্যোগের ফলে সংগৃহীত অর্থ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মাধ্যমে পাঠানো হবে কেরালায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত মালদার পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষ এর বার্তা, ভারতবর্ষের দক্ষিণ থাকা রাজ্য কেরালা। বিগত ১০০ বছরেও এ ধরনের বন্যা ওখানকার মানুষ প্রত্যক্ষ করেন নি। এখনো বহু মানুষ দুর্যোগের মধ্যে রয়েছেন। এই আর্ত মানুষদের সাহায্যে বিভিন্ন স্তরের মানুষ দাঁড়াচ্ছেন, নিজেদের সাধ্যমত সাহায্য ও করছেন। আজকের এই মহতি উদ্যোগের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে পেরে খুব আনন্দ হচ্ছে, ভালো লাগছে।'
দুদিন ধরে চলা উদ্যোগে শনিবার সন্ধ্যায় কেরলের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারানো মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে মোমবাতি জ্বালানো হয়। পালন করা হয় নীরবতাও।
এই উদ্যোগের ফলে সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ সামান্য হলেও রাখি বন্ধন উৎসবকে সামনে রেখে এ ধরনের মহতি উদ্যোগ, মানব ধর্ম ছাড়াও দুই রাজ্যের মানুষের সম্পর্ককে যে আরও অনেক বেশি গভীর করবে একথা বোধহয় বলার অপেক্ষা রাখে না।

No comments:
Post a Comment