কেউ বলেন সাহসী, কারও মতে দাপুটে অভিনেত্রী। কিন্তু, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যাকে কটাক্ষ সহ্য করতে হয় তিনি টালিউড অভিনয় জগতের ঋতুপর্ণা। এই ঋতুপর্ণাকে মানুষ ‘ঋ’ নামে চেনেন। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম নিউজআঠারকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন রাজনন্দিনী। সাক্ষাৎকারটি পূর্বপশ্চিম পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো–
না অনেকদিন পর নয় তো। আমি তো কাজ করছি। হ্যাঁ নামী পরিচালকদের সঙ্গে হয়তো কাজ করছি না। তবে বিভিন্ন ধরনের আর্ট ফর্মে কাজ করে চলেছি। শর্টফিল্ম, ওয়েব সিরিজে কাজ করছি। একটু অন্য ধরনের ভালো কাজ করে যাচ্ছি কিন্তু আমি।অনেকদিন পর তুমি আবার দর্শকদের সামনে। কেমন লাগছে?
তবে বেশ কিছুদিন হয়ে গেল ছবিতে দেখা যাচ্ছে না...
সে বিষয়ে আমি কী বলব বলো। এর উত্তর পরিচালকরা ভালো দিতে পারবেন। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন, তারা আমায় কেন নিতে চান না? আমি তো সবার সঙ্গে কাজ করতে চাই।আমি প্রচণ্ড মিষ্টি একটা মেয়ে (হাসি)।আমায় নিয়ে কাজ করতে কারও কোন অসুবিধে হওয়ারই কথা নয়। আসলে কাস্ট নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করার হয়তো সময় কারও কাছে নেই। তারা হেয়তো ভাবছেন না আমায় দিয়ে দিয়ে কী কী ধরনের চরিত্র করানো যায়। তাদের ওতো ভাববার সময় হয়তো নেই।
কয়েকটা সাহসী ছবি করেছেন, তাই কি ধরে নিয়েছে যে, ‘ঋ’মানেই সাহসী চরিত্র?
ঋ মানেই ন্যুডিটি বা বোল্ড সিন নয়। ঋ একজন অভিনেত্রী। চরিত্রের প্রয়োজনে, স্ক্রিপ্টের প্রয়োজনে একজন অভিনেত্রীর যা যা করা উচিত, আমি তাই করি। আগে কয়েকটা সাহসী চরিত্র করেছি, কেননা ওই ছবিগুলিতে আমার চরিত্রটাই ওইরকম ছিল। আবার অন্য ধরনের চরিত্র পেলে অন্যরকমভাবে দর্শকরা আমাকে দেখবেন।
তবে কি এর মধ্যেই এমন কোনও সম্ভাবনা রয়েছে? ‘ঋ’কে দর্শকরা অন্যভাবে কবে দেখতে পাবেন?
টেলিপর্দার প্রতি আমার ভালবাসা একটুও কমেনি। ছবি বা ওয়েবসিরিজের পাশাপাশি আমি টেলিভিশন প্রজেক্টেও কাজ করতে চাই। টেলিভিশনের কাজ নিয়ে প্রাথমিক স্তরে একটা আলোচনা হয়েছে। এর বেশ কিছু এখনই বলতে পারব না...(হাসি)।
সম্প্রতি ‘ইয়ে রিস্তা: অ্যান আনইউজুয়াল লভ স্টোরি ’ নামে একটি শর্টফিল্মে দেখা গেল৷ একটু কিছু বলুন এ নিয়ে ...
পরিচালক সৌম্যজিৎ আদকের এই ছবিটি সদ্য মুক্তি পেয়েছে শাইনিং ফিল্মসের ইউটিউব চ্যানেলে। সৌম্যজিৎ যেভাবে গল্পটা ভেবেছে একদম অন্যরকম। একটা মিষ্টি প্রেম প্রেম ব্যাপার। যে চরিত্রটিতে আমি রয়েছি, সে ছেলেটির থেকে বয়সে বড়। ছেলেটি মহিলাটির প্রেমে পড়ে। মহিলাটিও। তবে তাদের প্রেমে পড়ার কারণ ও ব্যাখা ভিন্ন। আমার সঙ্গে অভিনয় করেছেন ঋক অমৃত। কাজটা করে ভালই লেগেছে।
শর্টফিল্মে প্রেম প্রেম ব্যাপার, তা আপনার জীবনের প্রেমের খবর কী? মানে অভিনেত্রী ঋ-এর রিলেশনশিপ স্টেটাস কী?
(হাসি)..স্টেটাস! উমম্ জীবন যখন। একা তো কাটানো যায় না। একা থাকার কোনও মানেও হয় না। কিউ এখন পাস্ট। ওই ফ্রেজটা আমি কাটিয়ে উঠেছি। আই অ্যাম আ স্ট্রং ওম্যান। অনেক খারাপ লাগা কাটিয়ে এখন আমি খুব খুশি। ঘুরছি, ফিরছি, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছি। বন্ধু-বান্ধবদের রেঁধে খাওয়াচ্ছি। বেশ মজায় আছি কিন্তু। আর আপাতত হ্যাপিলি সিঙ্গেল ...(হাসি)।
রান্না? ঋ সেন আবার রান্নাও করে নাকি?
মানেটা কী! আমি ভীষণ ভালো রান্না করি (হাসি)।অন্তত আমার চেনা-পরিচিত, যারা আমার হাতের রান্না খেয়েছেন। তারা তো আমার রান্নার বেশ তারিফই করেন।
আপনাকে তো ‘বিগ বস’এ রান্না করতে দেখা গিয়েছিল...
হ্যাঁ রান্নাটা আমি খুব প্যাশনটলি করি। আই জাস্ট লাভ টু কুক...
‘বিগ বস’ এর অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
আমি তো মনে করি প্রচণ্ড ভালো ছিল। সবাই আমায় খুব পছন্দ করেছিল। এখনও অনেক মহিলার চিঠি পাই। চিঠিতে তারা লেখেন, আমি লাকি মহিলাদের জন্য আদর্শ। তারা আমায় দেখে শক্ত থাকার অনুপ্রেরণা পান। অনেকের চিঠি পড়ে তো চোখ থেকে জল চলে আসে। এটাই তো মানুষ হিসেবে সব থেকে বড় পাওয়া। তাই না?
No comments:
Post a Comment