মৃন্ময় নস্কর, দক্ষিণ ২৪ পরগনাঃ রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যখন হাসপাতালে ভাঙচুর ও চিকিৎসকদের মারধোরের ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত তখন এক উল্টো চিত্র দেখা গেল ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে। সাপের কামড়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পথে হাসপাতালে থাকা চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মির দের মধ্যে বিলি করলেন মিষ্টি ও ফুলের তোড়া। আর এই ঘটনা বিভিন্ন হাসপাতালের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।
ক্যানিং মহকুমা হাসপাতাল সূত্রে খবর, বুধবার সুন্দরবন কোস্টাল থানার গোসাবার জেমসপুর গ্রামে মাঠে কাজ করতে গিয়ে বিষধর চন্দ্রবোড়ার কামড়ে গুরুতর অসুস্থ হন মধুসূদন সরদার । ডানহাতে কামড় বসায় চন্দ্রবোড়া। সাপের কামড়ের পর ক্যানিংয়ের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওই ব্যক্তি। চিকিৎসারর জন্য চলে আসেন ক্যানিংয়ে। তারপর ভর্তি করানো ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে। অবস্থা খারাপ হওয়ায় রাখা হয় সিসিইউতে। সেখানে ডাক্তার দের চেষ্টায় ও প্রায় ত্রিশটা এন্টিভেনাম সিরাম দিয়ে সুস্থ করা হয় মধুসূদন কে।প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসার পর মধুসূদনকে সোমবার দুপুরে চিকিৎসকরা বাড়ি পাঠানোর কথা বললে আনন্দে কেঁদে ফেলেন তিনি। বাড়ি ফেরার সময় হাসপাতালে থাকা চিকিৎসক দের ফুল ও মিষ্টি দিয়ে কৃতজ্ঞতা জানান। এ বিষয়ে মধুসূদন বাবু বলেন, "বেঁচে বাড়ি তে ফিরবো ভাবতে পারিনি। নতুন জীবন পেলাম। গরীব মানুষ। সুন্দরবনের নদীতে মাছ ও জমি চাষ করে সংসার চালাই। যাদের জন্য বেঁচে ফিরলাম তাদের কি আর দেবো। " সর্প বিশেষজ্ঞরা জানান, চন্দ্রবোড়া কামড়ালে তার রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়,রক্ত কনিকা ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ডায়ালেসিসের প্রয়োজন হয়। আর তা না হলে মৃত্যু ও হয়ে যায় রোগীর।যথাযথ চিকিৎসা ও পরিকাঠামো ছাড়া রোগী বেঁচে ফেরা অসম্ভব।
রোগীর কাছ থেকে এই ভাবে ফুল মিষ্টি পেয়ে আপ্লুত অনুপম হালদার, বিমান সরকার এবং সমর রায়ের মত চিকিৎসকরা । এবিষয়ে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের সুপার অর্ঘ্য চৌধুরী বলেন, যে ভাবে চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর আক্রমণ করছেন ক্ষুদ্ধ মানুষজন তাতে এই ঘটনা সত্যিই নজির সৃষ্টি করেছে।

No comments:
Post a Comment