জীবনে আসেনি প্রেম-যৌনতা, 'ভার্জিন' নারী-পুরুষ - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 21 August 2018

জীবনে আসেনি প্রেম-যৌনতা, 'ভার্জিন' নারী-পুরুষ




৪১ বছর বয়সী স্বাস্থ্যবান পুরুষ তাকাশি সাকাই। জাপানের এই মধ্যবয়সী ভদ্রলোকের মুখে সব সময় অনাবিল হাসি। একটি খবরে তার নাম আসার কারণ হলো, এখন পর্যন্ত সেক্স করেননি তিনি। এমনকি কোনো নারীর সঙ্গে প্রেমও হয়নি তার। দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, জাপানে এমনই নারী-পুরুষের বিশাল একটি দলের একজন সদস্য মাত্র তাকাশি। কাজেই এদের জীবনের একমাত্র অংশ। ভালোবাসা, প্রেম এবং যৌনতার অভিজ্ঞতা তাদের কখনো হয়নি। অথচ তাদের মনে এ সবকিছুর অনুভূতি স্পষ্ট।
তাকাসির জীবনের ঘটনা হলিউডের কমেডি সিনেমায় রূপ নেয়। 'ফোরটি ইয়ার ওল্ড ভার্জিন' সিনেমাটি দেখে অনেকেই দারুণ আনন্দ পেয়েছেন। কিন্তু এটি জাপানের অসংখ্য নারী-পুরুষের জীবনের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০১০ সালে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন অ্যান্ড সোশাল সিকিউরিটি রিসার্চ-এর এক জরিপে বলা হয়, ৩০ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত নারী-পুরুষ জীবনে একবারও সেক্স করেননি। এদের পরিচয় তুলে ধরতে একটি আলাদা শব্দই ব্যবহার করা হচ্ছে 'ইয়ারামিশো'।
জুটি গড়ে দেওয়া বিষয়ক এক্সপার্ট ইয়োকো ইতামোতো জানান,  জাপানের পুরুষদের অবস্থা খুবই শোচনীয়। অর্থনৈতিক মন্দা এবং বিধ্বংসী ভূমিকম্প ও সুনামির পর পুরুষদের স্বাবলম্বী হওয়ার বিষয়ে মনে ভয় ঢুকেছে। জাপানিরা এমনিতেই পরিশ্রমী। তারওপর এস দুর্যোগের পর তারা ভাগ্য ফেরাতে আরো বেশি পরিশ্রমী হয়েছেন। বিগত দুই যুগ ধরে জাপানি পুরুষরা তাদের ক্যারিয়ার নিয়ে দারুণ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এমনকি তারা জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়েও উদাসীন হয়ে পড়েছেন।
৪৯ বছর বয়সী এক স্থপতি জানান, জীবনে মাত্র দুই বার তিনি প্রেম এবং যৌন উত্তেজনা কাকে বলে তা বুঝতে পেরেছেন। একবার বিশের কোঠায় এবং দ্বিতীয়বার তারও দুই যুগ পরে। প্রত্যেক বারই তার মধ্যে এক ধরনের বেদনা সৃষ্টি হয়েছে। তার কাছে যৌনতাবিহীন জীবনটাকেই ভালো মনে হয়েছে।
ইউরোপের কনডন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান 'ডিওরেক্স' জানায়, ১৫-২০ বছর বয়সী ছেলে-মেয়েদের মধ্যে কুমার-কুমারীর হার খুবই কম। ওদিকে, জাপানে ২০১০ সালের এক জরিপে বলা হয়, দেশটিতে ১৮-১৯ বছর বয়সীদের ৬৮ শতাংশ কখনো যৌনকর্ম করেননি।
জাপানে দৃশ্যমান পরিবেশ এবং বাস্তবিক অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আধুনিক জাপানে সেক্স সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন এবং আবেদনময়ী ছবি যেখানে রাস্তা-ঘাটে বিলবোর্ড হচ্ছে, সেখানে নারী-পুরুষদের বড় একটি অংশ যৌনকর্ম থেকে দূরে রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখানকার নারী-পুরুষরা এসব মানবিক বিষয় থেকে পুরোপুরি দূরে সরে গেছেন। আগের আমলে হয়তো পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বিয়ের দায় নিতেন। কিন্তু আধুনিক জীবনে প্রত্যেকের নিজ নিজ সঙ্গী-সঙ্গিনী খুঁজে বের করে নিতে হয়।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad