এর আগে অবৈধ সম্পর্কের জেরে পারিবারিক অশান্তির কারণে এদিন সকালে
সুভাষ ঘোষ (৪২) নামের এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেন। বুধবার (২৯ আগস্ট) বিকেল থেকে
নিখোঁজ থাকার পর পরদিন (বৃহস্পতিবার) সকালে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তার
মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মৃত সুভাষ ঘোষের
দিদি কৃষ্ণা ঘোষ জানান, ওই গৃহবধূর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত থাকার কারণে এর পরিবারে
প্রায় এক বছর ধরে পারিবারিক অশান্তি চলছিল। এই বিষয়টি এলাকার সকলেই জানেন। যে
মহিলার সঙ্গে এই সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ সেই মহিলার স্বামী বাইরে রাজমিস্ত্রির কাজ
করেন। মাস ছয়েকের এক কন্যা সন্তান নিয়ে এখানে বাপের বাড়িতে একা বাড়িতে থাকেন ওই
মহিলা।
এই সম্পর্ক নিয়ে
এলাকায় দুই জনকেই বহুবার বিভিন্ন দিক থেকে সাবধান করা হয়েছিল। সবথেকে বেশি
অশান্তির মধ্যে ছিল আত্মঘাতী সুভাষের পরিবার। সেই অশান্তির কারণেই বৃহস্পতিবার
সকালে সে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি পরিবারের।
এরপরই পরিবারের
লোকজনসহ এলাকার একদল মহিলা ওই সম্পর্কিত মহিলার বাড়িতে হামলা চালায়। মহিলাকে
বেধড়ক মারধর করা হয়। মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। উলঙ্গ করে গায়ে বিচুটি পাতা
ঘষে পাড়ায় ঘোরানো হয় খানিকটা। মৃতের স্ত্রীসহ এলাকার মহিলারা এই কাণ্ড করেছে
বলে জানা গেছে।
অনেক পরে
কোনোভাবে কয়েকজন যুবক আক্রান্ত গৃহবধূকে উদ্ধার করে ভরতি করেছে মেদিনীপুর
মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তার চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয়
বাসিন্দা সুজয় দাস বলেন, সুভাষের সঙ্গে ওই মহিলার অবৈধ সম্পর্ক ছিল বলে এলাকার লোকজন জানতেন, সেই সম্পর্ক নিয়ে অশান্তির
কারণে আত্মহত্যা সুভাষ করতেই স্থানীয় মহিলারা এই কাণ্ড করেছে। আমি এবং কয়েকজন
মিলে কোনোভাবে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছি।
ঘটনার পর ওই
এলাকায় উত্তেজনা থাকায় সেখানে রওনা দেয় গুড়গুড়িপাল থানার পুলিশ। তবে গতকাল
সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি এই ঘটনায়।

No comments:
Post a Comment