৩৬ বছর ধরে শরীরে রয়ে গেছে মৃত সন্তান! - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 29 August 2018

৩৬ বছর ধরে শরীরে রয়ে গেছে মৃত সন্তান!

৩৬ বছর ধরে শরীরে রয়ে গেছে মৃত সন্তান!
নয়া দিল্লি, ২৮ আগস্ট- ডাক্তারেরা এক নারীর শরীর থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করেছেন তার জন্ম না নেওয়া এক সন্তানের ভ্রূণ। ৩৬ বছর আগে গর্ভবতী হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার সেই সন্তান কখনো পৃথিবীর আলো দেখার সুযোগ পায়নি। এত বছর পর্যন্ত একটি ভ্রূণ মানুষের শরীরে থেকে যাবার ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি।
৬০ বছর বয়সী এই নারীর নাম কান্তাবাই গুনবন্ত থাকরে। ভারতীয় এই নারী মাস দুয়েক আগে পেটে প্রচণ্ড ব্যাথা নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেলে তার পেটের বাম দিকে একটি পিন্ডের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। ক্যান্সারের আশংকায় এরপর আল্ট্রাসাউন্ড করে দেখা হয়। এতে দেখা যায় তা ক্যালসিয়াম জমে শক্ত হয়ে আছে। MRI করে দেখা যায় এতি আসলে একটি শিশুর কঙ্কাল!
ডাক্তাররা জানতে পারেন ওই নারী যখন ২৪ বছর বয়সি ছিলেন, তার একটি এক্টপিক প্রেগনেন্সির ঘটনা ঘটে। এর অর্থ হলো, জরায়ুতে নয় বরং শরীরের অন্যত্র এই ভ্রূণ জায়গা করে নেয়। তার শরীরে ঠিক কোথায় এই ভ্রূণ অবস্থিত ছিলো তার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এক্টোপিয়ান প্রেগনেন্সিতে সাধারণত ফ্যালোপিয়ান টিউবে এসব ভ্রূণ অবস্থিত হয়। কিন্তু দুর্লভ কিছু ক্ষেত্রে পেটের বিভিন্ন স্থানেও তা থাকতে পারে।
সাধারণত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এক্টপিয়ান প্রেগনেন্সি থেকে উদ্ভূত ভ্রূণ অপসারণ করা হয়ে থাকে। তবে বিগত ২০ বছরের মাঝে ডাক্তারদের মাঝে মিথোট্রেজেট নামের এক ধরণের রাসায়নিক ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যায় যা ওই ভ্রূণের কোষ-কলা নষ্ট করে ফেলে। ভ্রূণের হৃৎপিণ্ড কাজ শুরু করার আগে সাধারণত তা ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
ভারতীয় এই নারী গর্ভবতী হয়েছিলেন ১৯৭৮ সালে। তখন এই রাসায়নিকের ব্যবহার ছিলো না। তিনি অস্ত্রোপচারের ভয়ে বাড়ি চলে আসেন কোনরকমের চিকিৎসা না নিয়েই। ৩৬ বছর পরে আবার ব্যাথা অনুভূত হওয়ায় তিনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।
এই ভ্রূণের ব্যাপারটি হতে পারে “লিথোপেডিয়ন”, একটি দুর্লভ পরিস্থিতি যাকে “স্টোন বেবি” ও বলা হয়ে থাকে। যখন জরায়ুর বাইরে অবস্থিত একটি ভ্রূণ মৃত্যুবরণ করে, তখন অনেক সময় এতে এতো বেশি টিস্যু থাকে যে মায়ের শরীর তা নিজের মাঝে পুনরায় শুষে নিতে পারে না। এসব ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা এড়ানোর জন্য শরীর এই ভ্রূণটাকে ক্যালসিয়ামের একটি আবরনে ঢেকে ফেলে।
এতদিন পর্যন্ত এই ভ্রূণ ওই নারীর শরীরে কোনো সমস্যা তৈরি করেনি কেন তার ব্যাপারে নিশ্চিত নন ডাক্তাররা। তার অন্ত্র, জরায়ু এবং মুত্রথলির মাঝে অবস্থিত এই ভ্রূণ অপসারণ করা হয় জটিল একটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে। এই পিন্ডের মাঝে পাওয়া যায় শিশুটির কঙ্কাল এবং কিছু তরল।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad