চার সন্তানের সামনেই নগ্ন হতে চান মা - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 21 August 2018

চার সন্তানের সামনেই নগ্ন হতে চান মা

চার সন্তানের সামনেই নগ্ন হতে চান মা
নগ্ন হতে চান মা৷ তাঁর সন্তানদের সামনেই৷ কেন? না যাতে তাঁর সন্তানরা পূর্ণাঙ্গ নগ্ন নারীশরীর কেমন দেখতে হয়, তার স্পষ্ট ধারণা পায়৷ নাহ, কোনও যৌনবিকৃতি নয়, এই সমাজই এক মাকে এরকম ভাবনার পথে ঠেলে দিয়েছে৷ রীতা টেম্পিলটন নামে এই মহিলা চার সন্তানের জননী৷ পেশায় লেখিকা৷  এহেন ইচ্ছে প্রকাশ তাঁরই৷
হাফিংটন পোস্টে রীতার প্রকাশিত একটি লেখায় এ কথা তিনি খোলাখুলি জানিয়েছেন৷ রীতার সন্তানরা এখন খুবই ছোট৷ কিন্তু তারা বড় হওয়ার আগে, পর্নগ্রাফি দেখে, এদিক ওদিক থেকে নারী শরীর সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করার আগে তিনি নিজেই নগ্ন হয়ে দেখিয়ে দিতে চান, কেমন হয় নগ্ন নারী শরীর৷ কেন সন্তানের সামনে নগ্ন হওয়ার ভাবনায় ভাবলেন মা? তার যে উত্তর দিয়েছেন রীতা, তার মধ্যে এই সমাজের গভীর অসুখ৷ রীতা জানিয়েছেন, এ সময়টা এমনই যা নারীশরীর নিয়ে মত্ত৷  চতুর্দিকে যেনতেন প্রকারেণ চলছে নারীশরীর প্রদর্শন৷ কখনও তাদের শরীরে পোশাক নেই, কখনও বা নামমাত্র সুতোটি গায়ে৷ রীতার মতে, আসলে অনেক নারীশরীর নয়, দেখা হচ্ছে একটি শরীরই৷ রোগা, লম্বা, স্ফীত স্তনের এক রকমের নারীশরীর ক্রমশ প্রদর্শিত ও বিক্রিত হয়ে চলেছে৷ এবং এই নারীশরীর যে ফ্যান্টাসির জন্ম দিচ্ছে তাই সমাজে ডেকে আনছে বিকৃতি৷ নগ্ন হয়ে সন্তানদের রীতা জানিয়ে দিতে চান, আসল নারীশরীর কেমন৷ ডিজিট্যাল প্রক্রিয়াকে সম্বল করে ফ্যান্টাসি উসকানো যে ছবি দেখানো হয়, যে ছবিতে নারীকে বিকৃত করে বিক্রিত করা হয়, তা যে সত্যিকারের নারীদেহ নয় এবং তা নিয়ে অকারণ ফ্যান্টাসির প্রয়োজন নেই, সেই মিথটিই ভেঙে দিতে চান তিনি৷ তিনি নিশ্চিট, তিনি নিজে যখন নিজেকে নগ্ন করে দেখাবেন, তখন তাঁর সন্তানরাই কোনও এক সময় বলে উঠবে, মা তুমি কাপড় পরে নাও৷ নারীশরীর নিয়ে কোনও বিকৃতি যেন তাঁর সন্তানদের মধ্যে কখনও বাসা না বাঁধে এমনটাই চান তিনি৷
রীতার এই পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন ৫০,০০০ হাজারেরও বেশি মানুষ৷ নারী শরীরকে পণ্য করে তোলার প্রতিবাদে রীতার এই অভিনব ভাবনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বহু মানুষ৷ আদৌ এই সমাজে রীতাকে ভবিষ্যতে এমন কাজ করতে হবে কি না জানা নেই, তবে চার সন্তানের জননী যখন নারীদেহ নিয়ে বিকৃত ধারণা রুখতে সন্তানদের সামনেই নগ্ন হওয়ার কথা ভাবেন, তখন চিহ্নিত হয়ে যায় সমাজের কর্কটব্যাধি৷ সত্যিই, বিজ্ঞাপন থেকে কর্পোরেট দুনিয়া যতই গ্ল্যামারের আলোর ঝলকানিতে হাসি খুশি পরিবেশ তুলে ধরুক না কেন, ‘এ বড় সুখের সময় নয়!’

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad