একাধিক নারীর সঙ্গে রাজের শারীরিক সম্পর্ক ! - Breaking Bangla

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 2 August 2018

একাধিক নারীর সঙ্গে রাজের শারীরিক সম্পর্ক !


২০১১ সালের শেষ দিকের খবর। নিজের ওপর চলা অবিচার আর মেনে নিতে পারেননি শতাব্দী মিত্র। এরপর রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই হিসেবে বিচ্ছেদের পর কেটে গেছে ৭ বছর।

অতীত ভুলে গত শুক্রবার কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলির সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েছেন এই সময়কার টালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় পরিচালক রাজ। কিন্তু অতীত নিয়ে যে টানা হেঁচড়া হবে না তা কি হয়। রাজের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। রাজের বিয়ের খবর পৌঁছে গেছে শতাব্দী মিত্রের কাছে। সব ভুলে তিনি শুভশ্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তার এক বন্ধুর কাছে শতাব্দী স্পষ্টই জানিয়েছেন, অতীতের যাবতীয় তিক্ততার পরেও শুভশ্রীকে নিয়ে রাজ খুশি থাকুন, এমনটাই চান তিনি।

ভারতীয় গণমাধ্যম আজকালের খবর, ২০০০ সালে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে পরিচয় হয়েছিল শতাব্দী ও রাজের। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। খুব অল্প সময়ের মধ্যে খুব কাছাকাছি চলে এসেছিলেন তারা।

শতাব্দীর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলছেন, সেই সময়ে রাজ টলিউডে প্রতিষ্ঠা পায়নি। কাজের খোঁজ করছে। কিন্তু খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারছে না। রুদ্রনীল ঘোষের সঙ্গে টালিগঞ্জে একটা বাড়িতে ভাড়া থাকত রাজ। সেই সময় শতাব্দী ওকে অনেক সাহায্য করেছে। টাকা পয়সা দেয়া, খাবার দাবার দেয়া, অসুস্থ হলে সেবা করার সবই করেছে।

শতাব্দীর আর এক বান্ধবীর দাবি, নিজের বাড়ির ফ্রিজ থেকে রাজের জন্য খাবার চুরি করতো শতাব্দী। তারপরে বাসে করে সেই খাবার বেহালা থেকে পৌঁছে দিয়ে আসতো রাজের কাছে। আবার কখনও মর্নিং ওয়াকে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে লুকিয়ে বেরিয়ে ব্রেকফাস্টের টাকা দিয়ে আসতো ওকে। কখনও পানির বোতল, কখনও ওষুধ, কখনও জামাকাপড় কিনে দেয়া, কী করেনি ওর জন্য শতাব্দী! নিজের হাতখরচের টাকা নিঃস্বার্থভাবে খরচ করেছে রাজের জন্য।

৬ বছর প্রেমের পর ২০০৬ সালে বিয়ে হয় রাজ ও শতাব্দীর। যেহেতু রাজের ফিল্মি কেরিয়ার তখনও সেভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়, তাই বিয়ে নিয়ে প্রাথমিকভাবে মত ছিল না শতাব্দীর পরিবারের। কিন্তু রাজকেই বিয়ে করার জন্য জেদ ধরে বসেছিলেন শতাব্দী। মেয়ের জেদের কাছে হার মানেন অভিভাবকরা। আপন করে নেন রাজকে।

শতাব্দীর বান্ধবী বলছেন, শতাব্দী রাজের জন্য খুব পয়া ছিল। ওকে বিয়ে করার পরে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’, ‘চ্যালেঞ্জ’, ‘প্রেম আমার’ র মতো হিট দিয়েছিল রাজ। ততদিনে রাজকেও ঘরের ছেলে বলে স্বীকার করে নেন শতাব্দীর পরিজনরা। রাজের জন্য শতাব্দীর মা–বাবাও কম করেননি। এমনকী, রাজের শরীর খারাপ হলে সারারাত জেগে সেবাও করেছেন শতাব্দীর মা। সেটা অবশ্য রাজ নিজেও একাধিক জায়গায় স্বীকার করেছেন।

তাহলে কিভাবে ভেঙে গেল তাদের সম্পর্ক? ঘনিষ্ঠমহলে শতাব্দী দাবি করেছিলেন, তাঁর সঙ্গে বিবাহিত সম্পর্কে থাকলেও শুভশ্রীর সঙ্গে প্রেম করতে শুরু করেছিলেন রাজ। সেটা নিয়ে বাড়িতে অশান্তিও হয়। এমনকী, শুভশ্রীর বাড়িতে ফোন করে এই সম্পর্ক থেকে সরে আসার অনুরোধ করেছিলেন শতাব্দী। শুভশ্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে নাকি বলা হয়, বয়স কম, তাই ভুল করে ফেলেছেন শুভশ্রী। তিনি এই সম্পর্ক থেকে সরে আসবেন। এরই মধ্যে গুজব রটে শুভশ্রী নাকি প্রেম করছেন আর এক নায়ক দেবের সঙ্গে। কিন্তু তবু আশ্বস্ত হতে পারেননি শতাব্দী।

পেশায় সংবাদ মাধ্যমের কর্মী শতাব্দীর এক বান্ধবী বলছেন, ততদিনে আর এক নায়িকা পায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল রাজের। দিনের পর দিন একসঙ্গে থাকতে শুরু করেছিলেন তারা। শতাব্দীর সঙ্গে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করতেন রাজ। তারপরও বলিউডের এক বাঙালি গায়িকা এবং আরো কয়েকজন নারীর সঙ্গে নাম জড়িয়েছিল রাজের।

তাই বিরক্ত হয়েই নাকি আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শতাব্দী। ২০১১-র শেষের দিকে বিবাহবিচ্ছেদ হয় তাঁদের।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad