জঙ্গলমহলের দীন ভূমিজদের গ্রাম শালবনী ১০ নং কর্নগড় অঞ্চলের বুড়িশোল গ্রাম৷ হয়তো আবার একটা অনাহারে মানুষ আছে এই হিসাবে খবরের শিরোনামে আসত। কিন্তু হলো না স্থানীয় মানুষজনকে নিয়ে শালবনি ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে। এ ঘটনা সত্যিই হৃদয়স্পর্শী এবং আজও আমরা মানুষ তার পরিচয় পাই।এই অবস্থায় আসল বিষয় খুঁজে আনলাম আমার । গতকাল রাত্রে একটা খবর বুড়ীশোলের ভূমিজ আদিবাসী যামিনী ভূঁইয়ার পরিবার বিগত কয়েকদিন নাকি অনাহারে আছেন । স্থানীয় নেতৃত্ব হারাধন দুয়ারী কে ওনাদের বাড়িতে পাঠালাম বিস্তারিত জানার পর উনি রাতের খাবারের ব্যবস্থা করেন। সকাল হতেই মৃনাল কোয়াড়ী, ভোম্বল ঘোষ এবং হারাধন কে সঙ্গে নিয়ে উনার বাড়ি পৌঁছান৷ তারপরের ঘটনা পরিবারের জন্য সদর্থক হলেও এই পরিবারের ইতিহাস হৃদয়স্পর্শী।স্বামী পরিত্যক্তা যামিনী ভূঁইয়া র দুই মেয়ে এবং এক ছেলে। ছোটো ছেলে পিন্টু ভূঁইয়া টিউবারকিলোসিসে আক্রান্ত। দুই মেয়ে প্রতিমা ভূঁইয়া ও কৃষ্না ভূঁইয়া মূক, বধির মানসিক প্রতিবন্ধী। সমাজের ক্রূরতা এই মূক ও বধির প্রতিমা কে দুইবার দুই পুত্র সন্তানের জননী করেছে কিন্তু পিতৃপরিচয় দেয়নি। ঈশ্বরের আর্শীবাদে অনাহারক্লিষ্ট এই ৩,৪ বছরের দুটি ছেলেই সুস্থ। জঙ্গলমহলে মানবিক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর প্রকল্পে ২ টাকা করে সপ্তাহান্তে মোট ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা এই পরিবারের। কিন্তু মদ্যপ যামিনী ভূঁইয়া রেশন কার্ড বন্ধক দিয়ে মদের খরচা জোগাড় করেছেন৷ সচেতনতার অভাবে ও এলাকার কিছু মানুষের জন্য পরিবারটি অনাহারক্লিষ্ট। ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষক অভিজিত ঘোষ নিজের বিদ্যালয়ের মিড ডে মিল থেকে দীর্ঘদিন যাবত নিজে যেয়ে দিয়ে আসেন এই পরিবারের খাবার।
বিদ্যালয় বন্ধ থাকলে জোটে না খাবার পরিবারটির।আজ সকালে আমরা , অভিজিত স্যারকে সাথে নিয়ে পরিবারের পাশে যাই । বাড়ি নষ্ট হয়ে যাওয়ার ত্রিপল দিয়ে আপাতত হারাধন বাবু ছাউনি দিয়েছেন এবং অঞ্চল থেকে ত্রানসামগ্রী দিয়ে এসেছেন। পরিবারের মদ খাওয়ার প্রবনতার জন্য খাদ্য সামগ্রী বেশি দেওয়া হয়েছে নগদ অর্থের তুলনায়। এলাকায় যারা রেশন কার্ড বন্ধক রাখে তাদের বাড়ি যেয়ে নিষেধ করেছেন এই অনৈতিক কাজ করতে এবং রেশন ডিলার কে জানানো হয়েছে যামিনী ভূঁইয়ার রেশন যেন অন্য কেউ না তোলে। শালবনী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নেপাল সিংহ এবং বিডিও পুষ্পল সরকারকে পুরো ব্যাপারটি অবহিত করা হয়। ডিজাস্টার কিট আজকেই পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং যে কোনো ফান্ড থেকে দরকারে নিজস্ব ফান্ড থেকে একমাসের মধ্যে নতুন বাড়ি দেওয়ার বা পুরানো বাড়িটি সম্পূর্ণ রিপেয়ারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আই সি বিশ্বজীত বাবু এলাকায় বেআইনি মদের দোকানগুলি বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন। শিক্ষক অভিজিত ঘোষ ও এলাকার গ্রামবাসীদের এই পরিবারের প্রতি দৃষ্টি রাখতে সন্দীপ বাবু অনুরোধ করেন। যামিনী ভূঁইয়া র দুই মেয়ে যাতে প্রতিবন্ধী কার্ড করানো যায় এবং মমতা ব্যানার্জীর মানবিক প্রকল্পে তাদের সাহায্য করা যায় তার জন্য সন্দীপ সিংহ বিশেষ উদ্যোগ নেবেন বলে জানান। আরও একটা বিষয় ২০১৪ থেকে দুঃস্থ মানুষদের দুবেলা খাওয়ার দেওয়ার কেন্দ্র সরকারের প্রকল্প "সহায়" বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শালবনীর আনুমানিক ৩০০ জন বঞ্চিত হচ্ছে। শালবনীতে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নেপাল সিংহ ও বিডিও পুষ্পল সরকারের সদর্থক প্রয়াস মানুষের আস্থা প্রশাসনে রাখবে।

No comments:
Post a Comment